1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বেওয়ারিস লাশে মুখ ঢাকে রাজধানী দিল্লি

সংখ্যা যদি কোনো ইঙ্গিত হয়ে থাকে, তাহলে বলতে বাধা নেই ভারতের রাজধানী দিল্লি পরিণত হয়েছে বেওয়ারিশ লাশের আস্তাকুঁড়ে৷ প্রতিদিন গড়ে অন্তত ন’টি করে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে দিল্লির রাস্তাঘাটে, নর্দমায়, রেললাইনের ধারে৷

বেওয়ারিস লাশে লজ্জায় মুখ ঢাকে রাজধানী দিল্লি৷ না, এটা কোনো কবিতার পংক্তি নয়, ফেনায়িত আবেগের কথাও নয়৷ এটা বড় করুণ, নির্মম, বাস্তব এক সত্য৷ পুলিশের ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী শহর দিল্লির পথেঘাটে, ফুটপাথে, নর্দমায়, পার্কে, রেললাইনের ধারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ন'টি করে বেওয়ারিস লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ৷ গত বছর গোটা দেশে এই রকম লাশের সংখ্যা ৩৭,৮৩৮৷ তার মধ্যে দিল্লিতেই ৩,৩৬০-এর বেশি৷ গোটা দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র ৫,৯০৬, তামিলনাড়ু ৫,৩১৯ আর উত্তর প্রদেশ ৩,৯৯৬৷

এঁরা কারা? পুলিশের মতে, এঁরা মূলত ভিখারি, ভবঘুরে এবং মজদুর শ্রেণির মানুষ৷ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে যাঁরা আসেন পরিচয়হীন, আশ্রয়হীন, ঠিকানাহীনভাবে৷ কোনোমতে গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য৷ কেউ রিক্সা চালান, বেলুন বিক্রি করেন, ফুটপাতে টুকিটাকি জিনিস-পত্র বেচেন, মজদুরি করেন, না হয় শুধুমাত্র ভিক্ষা করেন৷ বাসস্থান তো দূরের কথা, দিল্লি সরকার বলছে শহরে এঁদের থাকার জন্য আছে মাত্র ২৩০টির মতো রাতের আস্তানা৷ অতি সম্প্রতি সাতটি অকেজো বাড়িকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাতের আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে৷ কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা এতটাই কম যে, বেশির ভাগেরই জায়গা হচ্ছে না৷ তাই তাঁদের আস্তানা খোলা আকাশের নীচে৷ দিল্লির কনকনে ঠান্ডায়৷ জল, ঝড় ও বৃষ্টিতে৷

এটাই এঁদের মৃত্যুর একমাত্র কারণ নয়৷ নানা ধরণের জটিল ও দুরারোগ্য রোগের শিকার এঁরা৷ প্রথমদিকে চিকিৎসা হয় না৷ যখন স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলির সাহায্যে চিকিৎসা শুরু হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়৷ বাঁচানো যায় না তাঁদের৷ ‘এহ বাহ্য', মাদক বিরোধী একটি স্বয়ংসেবী সংস্থা মনে করে, এইসব ভবঘুরে গরিব মানুষেরা সহজেই ড্রাগের শিকার হন৷ বাঁচার জন্য ড্রাগই এঁদের একমাত্র ভরসা৷ ড্রাগ খেয়ে পড়ে থাকে আস্তাকুঁড়ের পাশে৷ সেটাই একসময় হয়ে ওঠে চেতনাহীন মুক্তির মরণ৷ প্রসঙ্গত, ড্রাগ চিকিৎসক বা মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, মাদকাসক্তরা অন্যের চোখের আড়ালে একলা থাকতেই পছন্দ করেন৷

বেওয়ারিস এই লাশগুলির বেশির ভাগ পড়ে থাকতে দেখা যায় রেললাইনের ধারে, ফ্লাইওভারের নীচে, ফুটপাতে, পার্কে, না হয় নর্দমায়৷ পুলিস অবশ্য বলে থাকে, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে যমুনা নদী দিয়েও ভেসে আসে বেশ কিছু বেওয়ারিস লাশ৷ কিংবা অন্যত্র খুন করে লরি ড্রাইভাররা লাশ ফেলে যায় দিল্লি মহানগরীর নর্দমায়, গভীর রাতের অন্ধকারে৷ এঁদের দেহে থাকে গভীর আঘাতের চিহ্ন৷ কোনো কোনো লাশ মুণ্ডুহীন, ফলে শনাক্ত করা না যায়৷ নিয়ম অনুসারে পুলিশ বেওয়ারিস লাশের ছবি দিয়ে সংবাদপত্রের পাতায় শনাক্তকরণের বিজ্ঞাপন দেয়৷ খুব কমই সাড়া পাওয়া যায় তাতে৷ শেষে এনজিও-র সাহায্যে এবং সরকারি খরচে ওঁদের মতো হতভাগ্যদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয় পুলিশকেই৷ এর পিছনে মৌলিক কারণটা যে আর্থ-সামাজিক তাতে দ্বিমত নেই কারুর৷ ভারতের মতো অন্যান্য দেশে, এমনকি তথা-কথিত উন্নত দেশেও যে এহেন ঘটনা বিরল নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন