1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বেআইনি হাতি শিকার আজও বন্ধ হয়নি

হাতির দাঁত বেচা-কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার ২৫ বছর পরেও আইভরির লোভে চোরাগোপ্তা হাতি শিকার চলেছে, এমনকি সাম্প্রতিককালে চরমে উঠেছে বলা চলে৷ ইউরোপ থেকে হাতির দাঁত বিক্রিও কি তার জন্য দায়ী?

১৯৮৯ সালে যখন বিশ্বব্যাপী হাতির দাঁত নিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়, তখন অনেকে ভেবেছিলেন, এবার বোধহয় হাতিরা বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচল৷ তার আগের দশ বছরে হাতিদের সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল৷ এবার তারা কিছুটা রেহাই পাবে৷

কিন্তু তার বছর ২৫ পরেই দেখা যাচ্ছে, হাতির দাঁত নিয়ে রমরমা ব্যবসা চলেছে – এবং তা পুরোপুরি বৈধ৷ মজার কথা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেই ব্যবসায় একজন মেজর প্লেয়ার – তারা হাতির দাঁত বেচছে যেখানে বস্তুটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ এশিয়ায়৷ সংরক্ষণকারীদের বক্তব্য, এই বৈধ ব্যবসা শুধু নিষেধাজ্ঞাকে এড়িয়ে যাচ্ছে না, হাতির দাঁত নিয়ে অবৈধ ব্যবসাতেও ইন্ধন যোগাচ্ছে৷ যার ফলে আফ্রিকায় প্রতিবছর ৩০ হাজার হাতিকে চোরাশিকারীদের হাতে প্রাণ দিতে হচ্ছে৷

আইনের ফাঁক ও ফাঁকি

নিষেধাজ্ঞায় যে ব্যতিক্রমগুলো রাখা হয়েছে, তা নিয়েই সমস্যা, বলছেন পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবাদীরা৷ বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি ‘সাইটস' সম্পাদিত হয় ১৯৮৯ সালে৷ সেই চুক্তিতে হাতির দাঁত নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হলেও, দেশের অভ্যন্তরে হাতির দাঁত নিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়নি৷

Artenschutz Elfenbeinfund Flughafen Zürich

হাতির দাঁত বেচা-কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার ২৫ বছর পরেও আইভরির লোভে চোরাগোপ্তা হাতি শিকার চলেছে

এ ধরনের লুপহোল বা আইনের ফাঁক আরও আছে; যেমন এক দেশ থেকে আরেক দেশে বাস তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় একক ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব শিকার করা গজদন্ত সাথে নিয়ে যেতে পারেন৷ এমনকি ‘‘প্রাক-চুক্তি'' হাতির দাঁতও বেচা চলতে পারে, যেমন চলে প্রাগৈতিহাসিক ম্যামথ হাতির দাঁত নিয়ে ব্যবসা৷

ওদিকে ইউরোপে গজদন্ত কিংবা গজদন্তের তৈরি হাতের কাজ কেনার প্রবণতা কমলেও, এশিয়ায় এখনও আইভরিকে ‘হোয়াইট গোল্ড' বা সাদা সোনা বলা হয়, সেখানে তার এমনই কদর ও চাহিদা৷ অপরদিকে বোটসোয়ানা, নামিবিয়া, জিমবাবওয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা হাতিদের বিপন্ন প্রজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিরুদ্ধে সফল উমেদারি চালিয়ে গেছে, যার ফলে তারা ১৯৯৯ ও ২০০৮ সালে ‘‘একবারের মতো'' তাদের জমানো গজদন্ত বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছে৷ এর ফলশ্রুতি: চোরাশিকার বেড়েছে বৈ কমেনি৷

ব্লাড আইভরি

২০০৮ সালে আফ্রিকা থেকে আইভরি বেচা হয় চীনকে; তার পরের কয়েক বছরে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৫০ হাজার হাতি মারা হয়েছে বেআইনিভাবে৷

শুধু তানজানিয়াতেই ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রতিবছর এক হাজার করে হাতি চোরাশিকারিদের শিকার হয়েছে৷ কাজেই হাতির দাঁতের বৈধ বেচাকেনার সঙ্গে পোচিং বা চোরাশিকারের সম্পর্কটা স্পষ্ট৷

এছাড়া কালো টাকা সাদা করার মতো, বেআইনি আইভরি বৈধ করতেই বা কতক্ষণ, বিশেষ করে যখন আইভরির বয়স বলার কোনো উপায় নেই? প্রাক-চুক্তি আইভরির সঙ্গে সার্টিফিকেট থাকার কথা, কিন্তু তা জাল করাটাই বা এমন কি শক্ত কাজ৷

প্রতিরোধ দানা বাঁধছে

হংকং হলো হাতির দাঁত নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্র৷ গত জানুয়ারি মাসে হংকং ঘোষণা করে যে, আইভরির আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হবে; এছাড়া হংকং-এর অভ্যন্তরেও ধাপে ধাপে আইভরি বেচাকেনা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ গতবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি যৌথ চুক্তিতে অনুরূপ প্রতিশ্রুতি দেয়৷ বিশ্বে হাতির দাঁতের চাহিদা চীনেই সবচেয়ে বেশি; তার পরেই নাকি আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ অথচ বিশ্বে ‘‘প্রাক-চুক্তি'' আইভরির সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ কাজেই এখন দাবি উঠেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও কোনো একটা নিদর্শন রাখতে হবে৷

ফ্রান্স, জার্মিন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যেই প্রাক-চুক্তি গজদন্ত রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে - এবং অন্যান্য ইইউ-দেশের প্রতি সেই পন্থা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে৷ ওদিকে ইইউ-এর অভ্যন্তরে আইভরি পাচারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায়, নিষেধাজ্ঞা-যুক্ত দেশগুলি থেকে আইভরি সহজেই নিষেধাজ্ঞা-মুক্ত দেশগুলিতে গিয়ে পড়ছে৷ ইউরোপীয় কমিশন বলছে, সমস্যাটি নিয়ে নাকি আগামী মার্চ মাসে ‘‘চিন্তা-ভাবনা'' করা হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন