1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বৃন্দাবনের বিধবাদের জন্য ভোটাধিকার

উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে সংসার পরিত্যক্তা বিধবারা ফিরে পেতে চান তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি৷ তাই সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাঁরা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কায়েম করতে উদগ্রীব৷

কিন্তু ভোটার তালিকায় সকলের নাম না থাকায় তাঁরা হতাশ৷ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মথুরা-বৃন্দাবনের ব্রজভূমিতে বিভিন্ন মন্দির সংলগ্ন বৃদ্ধাবাসে বছরের পর বছর ধরে প্রাণটুকু নিয়ে বেঁচে আছেন তিন হাজারেরও বেশি বিধবা, যাঁদের বেশির ভাগের বয়স ষাটোর্দ্ধ৷ ভোট আসে, ভোট যায় – কিন্তু তাঁদের দিকে ফিরেও দেখেন না কোনো রাজনীতিক৷ নির্বাচনি অ্যাজেন্ডায় তাঁরা ব্রাত্য, অপাংক্তেয়৷

মথুরা-বৃন্দাবনের সংসার পরিত্যক্তা এই সব নিরক্ষর বিধবারা বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছেন সেসব বৃদ্ধাশ্রমে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের আনুকুল্যে৷ এদেরই উদ্যোগে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৪শে এপ্রিল ভোট দিয়ে তাঁরা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সামাজিক স্বীকৃতি ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে উদগ্রীব৷ গোড়ার দিকের নির্বাচনে অনেকেরই ছিল ভোটার কার্ড৷ কিন্তু ধীরে ধীরে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম মুছে যায়৷ ফলে তাঁরা আর ভোট দিতে পারেনি, জানালেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মিনতি ঘোষ৷

যদিও বুথ লেভেল অফিসাররা নতুন করে ফর্ম ফিল-আপ করতে বলেছিল, কিন্তু কেউ আশ্রমে এসে নতুন ফর্ম ফিল-আপ করিয়ে নিয়ে যাননি৷ এখন মাত্র ২২৫ জনের ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে৷ ভোটার হিসেবে যাঁদের নাম আছে বয়সের কারণে কেউ যদি তাঁদের ‘পোলিং বুথে' নিয়ে না যান, তাহলে ভোট দেবার স্বপ্ন তাঁদের অধরাই থেকে যাবে৷ যেহেতু তাঁরা লেখাপড়া জানেন না, কে কোন পার্টির প্রার্থী, কী তাঁদের নাম – তাও তাঁরা জানেন না৷ তবু ভোটিং মেশিনের বোতাম টিপেই তাঁরা তাঁদের জীবন সার্থক করে তুলতে চান৷ মনে মনে তো বলতে পারবেন, ‘‘আমি এই সমাজেরই মানুষ''৷

বৃন্দাবন পড়ে মথুরা সংসদীয় কেন্দ্রের মধ্যে৷ ওখানে ভোট ২৪শে এপ্রিল৷ বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হেমা মালিনি, রাষ্ট্রীয় লোকদলের প্রার্থী কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী অজিত সিং-এর ছেলে জয়ন্ত চৌধুরি এবং আম আদমি পার্টির অনুজ গর্গ৷ জোরদার প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন হেমা মালিনী৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভোটের পর তিনি নাকি আর মথুরামুখী হবেন না৷ অভিযোগ খন্ডন করে তিনি বলেন, ‘‘আমি কৃষ্ণভক্ত৷ ব্রজভূমি আমার কাছে তীর্থভূমি৷ আমি এখানেই বাড়ি করে থাকবো৷'' পবিত্র কৃষ্ণভূমি এবং যমুনার বর্তমান করুণ দশায় তিনি বিচলিত৷ ভোটে জিততে পারলে এই ব্রজভূমিকে তিনি রূপান্তরিত করবেন এক আদর্শ আধ্যাত্মিক পর্যটনস্থলে৷ যমুনাকে দুষণমুক্ত করে বুজে আসা যমুনার জলপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি৷

পাশাপাশি, ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে তৃতীয় লিঙ্গের মর্যাদা পাবার পর এই প্রথমবার তাঁদের মধ্যে ভোট দেবার একটা উৎসাহ এসেছে৷ ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে শাড়ি পরে ভোট দিতে গেলে তৃতীয় লিঙ্গকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি৷ কারণ পোলিং অফিসার বিভ্রান্ত তিনি পুরুষ নাকি মহিলা?ভোটার কার্ডে আছে সে পুরুষ৷ কয়েক ঘণ্টা ধরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি পোলিং অফিসারের কাছে ব্যাখ্যা করেন পুরুষ থেকে কীভাবে তিনি মহিলায় রূপান্তরিত হন৷ এবারে ভোটিং মেসিনে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য পৃথক বোতামের সংস্থান রাখা হয়েছে৷ তবু তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের চলতি ভাষায় যাঁদের হিজড়া বলা হয়, তাঁদের বেশির ভাগেরই নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন