1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বুনোআগুন ছড়িয়ে পড়ে যেভাবে

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন৷ কেউ বলে দাবানল, আবার কেউবা বলে বুনো আগুন৷ বেশ কিছু দিন আগে অস্ট্রেলিয়াতে এমন এক আগুনে এক এক করে প্রাণ হারিয়েছিল অন্তত দুই শতাধিক মানুষ৷ এবার আবার সে রকম অবস্থার সৃষ্টি হলো রাশিয়ায়৷

default

বুনো আগুনের কাছে হার মেনেছে মানুষ

অসাধারণ গরম এবং অনাবৃষ্টির ফলে এখন রাশিয়ায় দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে বলেই সেখানকার মানুষের ধারণা৷ সে দেশের রাজধানী মস্কোর আশেপাশের এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ৷ এ ছাড়া রস্তোভ প্রদেশেরও অবস্থা বেশ শোচনীয়৷

যেভাবে দাবানলের সৃষ্টি

কিন্তু কেন এ ধরণের দাবানলের সৃষ্টি হয়? আজ আপনাদের জানাবো সেই বিষয়টিই৷ উত্তপ্ত আবহাওয়ায় বনাঞ্চলসমৃদ্ধ যেকোনো স্থানেই দাবানল দেখা দিতে পারে৷ সাধারণত, যখন কোনো আগুনের উৎস প্রচন্ড তাপমাত্রায় এবং যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন দাবানলের সুত্রপাত ঘটে বলেই জানা যায়৷ গাছপালা থেকে থেকে ক্রমাগত পানি বাস্পীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় পানির এই ঘাটতি৷ এই ঘাটতি পূরণ করা হয় মাটি বা বাতাসে বিদ্যমান জলীয় বাষ্প বা বৃষ্টির পানি শোষণ করে৷ কিন্তু অনেকদিন ধরে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকলে গাছপালা পানির এই সমতা রক্ষা করতে না পেরে শুষ্ক ও দাহ্য হয়ে ওঠে৷ যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া এতটাই আর্দ্র যে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে, সেসব অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়৷

NO FLASH Russland Waldbrände Feuer

আগুন নেভানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা

নিয়ন্ত্রিত দাবানল গ্রহণযোগ্য!

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কিন্তু জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা৷ তাদের মতে মোটামুটি চক্রাকারে দাবানলের পুনরাবৃত্তি ঘটে৷ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে দাবানল বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ, দাবানলের মাধ্যমে লেগে যাওয়া আগুনের ধোঁয়া, পোড়া কাঠ ও উত্তাপ কোনো কোনো উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগে৷ তাই এসব অঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় দাবানল অনেকটাই গ্রহণযোগ্য৷

গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে দাবানল

তীব্র ও ভয়াবহ দাবানল পরিবেশের ওপর বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাব যে ফেলে এ নিয়ে কিন্তু কোন মতভেদ নেই কারও মধ্যেই৷ দাবানল পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ছাড়াও বিভিন্ন দুষণ-পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, যা মানুষসহ সব প্রাণির জন্য বড় ধরণের হুমকি৷

Feuer Australien

দাবানল ছাপ রেখে যায় এভাবেই

প্রাকৃতিক কারণ, মানুষের সৃষ্ট কারণ

দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, খরা, বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত এবং এলনিনো ধরনের আবহাওয়ার চক্রাকার পরিবর্তনকে জঙ্গলে আগুন লাগার প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷ সংঘটিত দাবানলের দশটির মধ্যে আটটির পেছনেই মনুষ্যসৃষ্ট কোনো না কোনো কারণ কাজ করে বলে জানা যাচ্ছে৷ এসব কারণের মধ্যে সিগারেট বা ক্যাম্প ফায়ার, চাষাবাদযোগ্য জমি বৃদ্ধি বা নগরায়ণের লক্ষ্যে আগুন লাগানোর সময় দুর্ঘটনাবশত তা ছড়িয়ে পড়া প্রধান৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ