1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বুদ্ধগয়ার বিস্ফোরণে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা

বুদ্ধগয়ায় মহাবোধি মন্দিরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করেছে শীর্ষ তদন্ত সংস্থাগুলি৷ এ হামলার পেছনে ভারতের ভেতরের ও বাইরের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা নিয়ে নানা ‘থিওরি’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

নাগরিক সমাজের প্রশ্ন, হামলার আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও কেন তা আটকানো গেল না?

কয়েক দশক ধরে দেশের ভেতরের ও বাইরের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় ভারতীয়দের দিন কাটাতে হচ্ছে, অথচ আজ পর্যন্ত সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এবং নিরাপত্তা বাহিনী তা আটকাতে বারংবার ব্যর্থ হচ্ছে কেন? এই মুহূর্তে দেশের মানুষের এটাই জিজ্ঞাসা সরকারের কাছে৷ কারণ, বিশ্ব বিখ্যাত হেরিটেজ স্থল গয়ার বৌদ্ধমন্দিরে ১৩টি বোমা রাখা হলো, অথচ নিরাপত্তা বাহিনী টের পেল না? এতেই আবারো প্রমাণিত হলো, সন্ত্রাস দমন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের বাগাড়ম্বর স্রেফ ফাঁকা আওয়াজ৷

অবশ্য যথারীতি বাঁধাগতে তদন্ত শুরু করেছে দেশের শীর্ষ তদন্ত সংস্থাগুলি৷ মন্দিরের বিস্ফোরণস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ এবং সূত্র সংগ্রহে এখন ব্যস্ত তারা৷ মনে করা হচ্ছে, জীবনহানি জঙ্গিদের প্রধান লক্ষ্য ছিল না৷ লক্ষ্য ছিল তাদের উপস্থিতির জানান দেয়া৷ তাই বিস্ফোরকগুলি এমন জায়গায় বসানো হয়েছিল, যাতে প্রাণহানি বেশি না হয়৷

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সাফাই দেয়া হয় যে, রাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল৷ সতর্ক করে দিয়েই কি তবে কেন্দ্রের দায়িত্ব শেষ? সন্ত্রাস দমন তো রাজ্য সরকারের একলার দায়িত্ব হতে পারে না৷ তাহলে কেন এগিয়ে আসেনি কেন্দ্র? এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যুক্তি স্বাভাবিকভাবেই অবান্তর৷

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে এ ঘটনার জন্য৷ সন্দেহ করা হচ্ছে, এর নেটওয়ার্ক পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত৷ সন্দেহ, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন ছাড়াও পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে হাদিসের নাম৷ হাদিসের সদস্যরা ভারতে অনুপ্রবেশ করে উত্তর বাংলার মুর্শিদাবাদে সক্রিয়৷

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের ‘অমানুষিক দমন-পীড়নের' বদলা নেওয়ার মধ্যে বুদ্ধগয়ার বৌদ্ধমন্দিরে হামলার যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এছাড়া, বাংলাদেশ-ভিত্তিক জেহাদি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে রোহিঙ্গা জনজাতিদের সম্পর্ক আছে বলেও সন্দেহ৷ হেফাজতে ইসলাম ভারতে এসে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে হাওয়া গরম করে গিয়েছিল৷ একইসঙ্গে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গেও কথা বলেছিল ওরা৷ কী নিয়ে কথা হয়েছিল তা অবশ্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের জানা নেই৷ অবশ্য লস্কর-ই-তৈয়বা যে নাটের গুরু, তা মনে করার যথেষ্ট কারণ নাকি আছে তাদের কাছে৷

তবে প্রশ্ন, শ্রীলঙ্কা বা ইন্দোনেশিয়ার মতো কোনো বৌদ্ধ-প্রধান রাষ্ট্রের ওপর বদলা না নিয়ে ভারতকে বেছে নেয়া হলো কেন? কারণ, ভারত হলো মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সীমান্তে৷ ফলে ভারতকে নিশানা করা সহজ৷ এই জরুরি পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা৷ জানা গেছে, ভারত বুদ্ধগয়ার ধারাবাহিক বিস্ফোরণের বিশদ তথ্য মিয়ানমারকে দেবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন