1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পশ্চিমবঙ্গ

‌বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজনীতির বাইরে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

সাধ করে রাজনীতিতে পদার্পণ করেছিলেন সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী৷ পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের সংসদে পা রেখেছিলেন৷ কিন্তু রাজনীতির ময়দানে তাঁর অভিজ্ঞতা মোটেই মধুর হয়নি৷

চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে তদন্তকারী সংস্থার একের পর এক নোটিশ এবং দলের নেতাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়া – এইসব কারণে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন তিনি৷ চুপিসাড়ে রাজ্যসভার সদস্য পদ ত্যাগ করেছেন৷ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আসতে নারাজ টলিউড ও বলিউডের জনপ্রিয় তারকা মিঠুন নিজে৷ তবে বিরোধী দল বিজেপির সদ্য সাংসদ হওয়া আরেক অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী বলছেন, ‘‘বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজনীতি ও সংসদের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন মিঠুন৷ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বছরের পর বছর ধরে মিঠুন চক্রবর্তী নিঃশব্দে যে কাজ করে গেছেন, তা অনেকেই জানেন না৷ অথচ তাঁর গায়ে কালি পড়েছে৷ কয়েক দশকের কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমের দ্বারা তিনি যে সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি তাকে কালিমালিপ্ত করেছে৷ অন্যের দুর্নীতির দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না৷ কোনো স্বচ্ছ ও স্বাধীনচেতা মানুষের পক্ষেই সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ উনিও মেনে নিতে পারেননি৷''

অডিও শুনুন 02:29

‘অন্যের দুর্নীতির দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না’

ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মিঠুনের ছেড়ে দেওয়া পদটিতে উপ-‌নির্বাচন হবে ১৭ই মার্চ৷ মাস দেড়েক আগে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর, মঙ্গলবার ওই পদে উপ-নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন৷ কমিশনের প্রধান সচিব বারীন্দ্র কুমার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন৷ কলকাতা বিধানসভায় ভোটগ্রহন হবে ১৭ই মার্চ, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত৷ সেদিনই বিকেল ৫টায় ভোট গণনা হবে৷ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি৷ এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৭ই মার্চ, স্ক্রুটিনি ৮ই মার্চ৷ প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ই মার্চ৷ আর ২০শে মার্চের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে৷

অন্ধ্রপ্রদেশের সাত এবং তেলেঙ্গানার তিনজন বিধানপরিষদ সদস্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৯শে মার্চ৷ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এই দুই রাজ্যের ১০টি আসনে নির্বাচন হবে৷

বিশিষ্টজনেদের তৃণমূলের যোগ দিয়ে, পরে বীতশ্রদ্ধ হয়ে সরে আসার ঘটনা এই প্রথম নয়৷ ২০০৬-‌০৭ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে উঠেছিল সংগীতশিল্পী কবির সুমনের৷ ২০০৯ সালে তিনি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন৷ কিন্তু দলের নেতাদের সঙ্গে ঠোকাঠুকি বেঁধে যায় শুরুতেই৷ ২০১০ সালের মার্চে দল ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি৷ সাংসদ পদটিও ছাড়তে চেয়েছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর অনুরোধে আর পদ ছাড়েননি৷ অর্থাৎ ২০১৪ সালে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন সুমন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এদিকে রাজ্যসভায় মিঠুনের পদটি ফাঁকা হওয়ায় আরও সাড়ে তিন বছর সাংসদ পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সাংসদ পদ ফাঁকা হলে পরবর্তী ছ'মাসের মধ্যে সেই পদটি পূরণ করতে হয়৷ ফলে তৃণমূল মিঠুনের জায়গায় নতুন সাংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে৷ দলীয় সূত্রের খবর, ফাঁকা পদে দলের প্রার্থী হিসেবে যে কয়েকটি নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন দেবপ্রসাদ রায়৷ চলতি বছরের মাঝামাঝি বাংলার আরও কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে দিল্লির এক প্রভাবশালী বাঙালি কংগ্রেস নেত্রী তৃণমূলে যোগ দিয়ে তৃণমূলের টিকিটেই রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী বলেও দাবি করেছে তৃণমূলের সূত্রটি৷ তালিকায় রয়েছেন মানস ভুঁইয়া, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মহুয়া মৈত্ররাও৷

প্রায় সাড়ে তিন বছর মেয়াদ থাকতেই গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেতা সাংসদ মিঠুন চক্রবর্তী৷ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন৷ চিঠিতে শারীরিক অসুস্থতার কথা লিখেছিলেন তিনি৷ নিজে না আসতে পারার কারণও জানিয়েচিলেন৷ সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে শিরদাঁড়া ও অগ্ন্যাশয়ের অসুখে ভুগছেন এই তারকা৷ ঘনিষ্ঠ মহলে একাধিকবার মিঠুন বলেছেন যে, রাজনীতি তাঁর প্রকৃত জায়গা নয়৷ তিনি সরে আসতে চান৷ বছর দুয়েক ধরেই তিনি সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন৷ প্রতিবার সংসদ অধিবেশনে নিজের অসুস্থতার প্রমাণপত্র-সহ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন৷ রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগ করতে হলে সাংসদকে সশরীরে উপস্থিত থেকে ইস্তফা পত্র জমা দিতে হয়৷ এই নিয়মের অন্যতম কারণ হলো, পদত্যাগী সাংসদ সত্যিই নিজে পদত্যাগ করতে চাইছেন কিনা এবং বিশেষ কারও চাপের মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগ করছেন কিনা যাচাই করা৷ মিঠুনের আবেদন গ্রহণ করেছিলেন হামিদ আনসারি৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়