1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিয়ের প্রয়োজনীয়তা কী ফুরিয়ে গেছে?

বিয়ে ও পরিবার কী এখন যুগোপযুগী? এই বিষয়টি নিয়ে প্রটেস্টান্ট গির্জায় বিতর্ক চলছে৷ প্রশ্ন উঠছে প্রটেস্টান্টদের কী সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা উচিত নয়?

বিয়ে, পরিবার, সন্তানসন্ততি - বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিতেও এই ধরনের সনাতনী পারিবারিক প্রথা আজও বিদ্যমান৷ কিন্তু এর পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের পারিবারিক রূপও সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে৷ এগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃতিও পাচ্ছে৷ যেমন বিয়ে ছাড়াই একত্রে বসবাস, প্যাচওয়ার্ক ফ্যামিলি, সিংগেল প্যারেন্ট, সমকামী দম্পতি ইত্যাদি জীবনধারাকেও মেনে নেওয়া হচ্ছে৷ ২০০১ সালে পাস করা এক আইনে সমকামিতা সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে৷

এতো ধরনের পারিবারিক পদ্ধতিকে বুঝতে হলে অনেক সময় খেই হারিয়ে যেতে পারে৷ তাই জার্মানির প্রটেস্টান্ট গির্জা ‘ইকেডি'র পক্ষ থেকে এক ধরনের দিক নির্দেশনামূলক পেপার বের করা হয়েছে গত জুন মাসে৷ ইকেডির প্রধান নিকোলাউস শ্নাইডার এই রিপোর্টকে ‘পজিশন পেপার অন মেরিজ অ্যান্ড ফ্যামিলি' নামে উপস্থাপন করেছেন৷ এরপর থেকে দুটি ধারা গড়ে উঠেছে প্রটেস্টান্ট গির্জার ভেতরে ও বাইরে৷ একটি রক্ষণশীল অন্যটি উদারপন্থি৷ মিডিয়া, উপাসনাস্থল এমনকি রান্নাঘরের টেবিলেও আলোচনার ঝড় উঠছে বিষয়টিকে ঘিরে৷

বিয়ে ও পরিবারের এক বিশেষ ভূমিকা

জার্মানিতে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর সিভিল সোসাইটিতে বিয়ে ও পরিবারের এক বিশেষ ভূমিকা ছিল৷ বাবা, মা, সন্তান এই নিয়ে গড়ে ওঠে একটি পরিবার৷ বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদের আমলে পরিবারের এই ছবিকে আদর্শ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়৷ সমকামিতা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়৷

ক্যাথলিক ও অর্থডক্স খ্রিষ্টানদের কাছে পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন৷ ঈশ্বরের পবিত্র নির্দেশ৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবারের চিরাচরিত চিত্রটা পাল্টাতে শুরু করে৷ যদিও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে বাবা আর সন্তান লালনপালনের ক্ষেত্রে মায়ের স্থানটি শক্তপোক্তই ছিল অনেকদিন৷ সত্তরের দশকের মাঝামাঝি অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে৷ খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধ থেকে অনেকেই দূরে সরে যেতে শুরু করেন৷ গুরুত্ব দিতে থাকেন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে৷

সবধরনের পারিবারিক বন্ধনকে স্বীকার করা হয়

প্রটেস্টান্ট গির্জার ১৬০ পৃষ্ঠাব্যাপী দিক নির্দেশমূলক লেখায় কী রয়েছে, তা এখন খতিয়ে দেখা যাক৷ ২০০৯ সাল থেকে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক বিবর্তন সংক্রান্ত একটি পেপার নিয়ে কাজ করছেন৷ যার সারমর্ম: প্রটেস্টান্ট গির্জা সবধরনের পারিবারিক বন্ধনকে স্বীকার করে৷ এর মধ্যে রয়েছে সমকামী ও প্যাচওয়ার্ক পরিবারও৷ বিশেষ করে প্রটেস্টান্টদের উদারপন্থি শাখাটি এই বক্তব্যকে স্বাগত জানান৷ ‘ইকেডি-পেপারে'র অন্যতম রচয়িতা শ্টেফানি শার্ডিয়েন ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আধুনিক সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয় গির্জাকে৷ পরিবারের বিভিন্ন ধরনের রূপ আজ স্পষ্টই লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷''

অন্যদিকে প্রটেস্টান্টদের রক্ষণশীল ধারাটি এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এতে বিয়ে ও পরিবার সম্পর্কে খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধকে অস্বীকার করা হয়েছে৷

‘জার্মান এভানগেলিক্যাল অ্যালায়েন্স' এর প্রধান মিশাইল ডিনার ইকেডির পরিবার সংক্রান্ত এই দিকনির্দেশনামূলক লেখাটিকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান৷ কারণ হিসাবে বলা হয়, এতে পরিবারের চিরাচরিত সংজ্ঞাকে বাতিল করে ইচ্ছামত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে৷ তবে এই দাবির কাছে মাথা নত করেননি ইকেডি প্রধান শ্নাইডার৷

বিয়ে হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদ

শ্নাইডারের পূর্বসূরি বার্লিনের বিশপ ভল্ফগাং হুবারও এব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন৷ হুবারের মতে, বিয়ে হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদ৷ এ কারণে নৈতিক দিক দিয়েও দাম্পত্য জীবনের অগ্রাধিকার রয়েছে৷ যিশুও বিবাহ বন্ধনকে অটুট বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ এসব কিছুই দিক নির্দেশনামূলক পেপারটিতে উঠে আসেনি৷

চারজন খ্যাতনামা ধর্মতত্ত্ববিদ জানিয়েছেন যে ইকেডি-পেপারে আধ্যাত্মিক বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু ইকেডি প্রধান শ্নাইডার এই প্রসঙ্গে বলেন, এই রিপোর্টে বিয়ে ও মূল পরিবারের গুরুত্বকে অস্বীকার করা হয়নি৷ পাশাপাশি সিংগেল প্যারেন্ট ও প্যাচওয়ার্ক ফ্যামিলিকেও মূল্য দেওয়া হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে৷ শেষ কথা বলা হয়নি এখনও৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন