1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিহারে বন্যা নিয়ন্ত্রণে বারংবার ব্যর্থ সরকার

বিহারের উত্তরাঞ্চলে ২০০৮ সালে কোশী নদীর ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়নি ভারত৷ এ বছর আবারও কোশী নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে৷ বন্যার আশঙ্কা নেপাল সংলগ্ন বিহারের ৯টি জেলায়৷ কিন্তু কেন এই ব্যর্থতা?

ভারত-বাংলাদেশের মতো ভারত-নেপালের অভিন্ন নদীগুলির অনিয়ন্ত্রিত জলপ্রবাহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ নদীর উজানে অবস্থিত দেশের নদীর জল ছাড়লে প্লাবিত হয় ভাটির দিকের দেশ৷ ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলির জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা আজও অমিমাংসিত৷ তিস্তা, গঙ্গাসহ ৫৪টির মতো নদী ও শাখানদীর জল ভারত কতটা বাঁধ দিয়ে আটকে রাখবে এবং বর্ষার সময় কতটা জল ছাড়বে – তা নিয়ে দু'দেশের মধ্যে মতভেদ দূর হয়নি৷ এর প্রেক্ষিতে ভারত-বাংলাদেশ বা ভারত-নেপালের মধ্যে একটি যৌথ বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠনে দাবি উঠেছে৷

নেপালে টানা বৃষ্টির জেরে নেপালের দিকে নামে ভূমিধস৷ কোশীর উপনদী সঙ্কোশীর গতিপথ আটকে গিয়ে নেপালের ভোটী কোশীতে তৈরি হয় এক বিশাল কৃত্রিম হ্রদ৷ ভোটী কোশী পড়ে সপ্তকোশীতে, যা মেশে বিহারের কোশী নদীতে৷ প্রায় ২৮ থেকে ৩২ লাখ কিউসেক জল জমা হয় ঐ হ্রদে৷ নেপালের সেনারা ভূমিধস সরাতে ডিনামাইট ব্যবহার করে৷ আটকে পড়া জল ছাড়া হলে উত্তর বিহারের ৯টি জেলা ভেসে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ জলের তোড়ে হড়পা বান দেখা দিতে পারে৷ প্রায় ৪০ হাজার পরিবারকে জোর করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ জারি করা হয় উচ্চ সতর্কতা৷ স্থাপন করা হয় ৭৬টি ত্রাণ শিবির৷ ঐ সব এলাকার স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়৷ মোতায়েন করা হয় জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্মীদের৷ জরুরি উদ্ধার কাজের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে ভারি বিমান এবং হেলিকপ্টার৷ বিহারে কোশী নদীর জলস্তর বাড়তে পারে ১০-১২ মিটার৷ সেক্ষেত্রে নিমেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে নদী সন্নিহিত কয়েক হাজার গ্রাম, এমনটাই আশঙ্কা করছেন কোশী নদীর বন্যা বিশেষজ্ঞরা৷

তাঁরাই আঙুল তুলেছেন কেন সরকার শিক্ষা নেয়নি ২০০৮ সালে কোশী নদীর ভয়াবহ বন্যা থেকে? নেপালের দিকে কোশী নদীর জল পাড় ছাপিয়ে ভিন্ন গতিপথে নিম্ন অববাহিকার ঘন বসতিপূর্ণ উত্তর বিহারের প্রায় দু'হাজার গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যায়৷ কয়েকশো মানুষ মারা যায়৷ হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়৷ স্রোতবাহিত কাদা মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকে তাঁদের কৃষিজমি৷ সেই জমি আবার চাষযোগ্য করতে লেগে যায় কয়েক বছর৷ ঘরছাড়া হয় শত শত পরিবার৷

এর আগে বিহারের কোশী নদীতে এই ধরণের বন্যা হয়েছিল ১৯৬৮ এবং ১৯৮৪ সালে৷ তবুও সরকারের হেলদোল নেই৷ ২০০৮ সালের কোশী নদীর বন্যার কারণ এবং নিযন্ত্রণের বিষয়ে তৈরি হয় বিচারপতি রাজেশ বালিয়া কমিটি৷ রিপোর্টে দায়ী করা হয় সরকারি ইঞ্জিনিয়ার, বন্যা বিভাগের কর্মকর্তাদের৷ বলা হয়, ভূমিক্ষয় নিরোধক এবং বন্যা সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি৷ বন্যা সংকটে ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন৷ বন্যা নিয়ন্ত্রণে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ কিছুই হয়নি৷ তাই বিচারপতি বালিয়া কমিটির সুপারিশ ছিল, বন্যা নিরীক্ষণ সেল গঠন করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার জন্য বন্যা প্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো ইত্যাদি, যাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়