1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্বে প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে পতিতাবৃত্তি করতে

অপহরণ, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, ভয় দেখানো, যৌন আক্রমণ বা শ্লীলতাহানি - এসবই মানুষ পাচারের মতো সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত৷ জাতিসংঘের হিসেবে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে পতিতাবৃত্তি করে জীবনধারণ করতে৷

default

কাস্টমারের খোঁজে রাস্তায় নেমেছে এই দুই নারী

ইসোক আইকপিটানী শুধু একটু ভালো ভাবে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন৷ সুদূর নাইজিরিয়ার বেনিন শহরে পারিবারিক একটি দোকান চালাতে হতো ইসোক'কে৷ বাড়ি থেকে সেই দোকান ছিল অনেক দূরে৷ কাঁহাতক আর এই গরমে রোজ রোজ এতো দূরে গিয়ে দোকান খুলে বসতে ভালো লাগে ? তাই লাগস'এর এক আইনজীবী যখন ইসোক'কে লন্ডনে থাকা এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে কথা দিলেন, তখন সত্যি কথা বলতে কি ইসোক যেন আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন৷

ইংল্যান্ডে বাড়ি, চাকরি, নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় নেচে উঠেছিলেন ইসোক, নিজেরই অজান্তে : ‘‘লাগস'এর একটি কোম্পানি আমাকে ইউরোপে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়৷ ভালোভাবে কাজ করলে, ইউরোপের একটি ‘সুপার মার্কেটে' আমার চাকরি ঠিক করা আছে - এরকম কথাই বলা হয়েছিল আমাকে৷''

ইসোক আইকপিটানী'র গন্তব্য ছিল লন্ডন৷ কিন্তু যুক্তরাজ্য নয়, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইটালি'তে৷ সেখানে নিয়ে গিয়ে ইসোক'কে এক জোড়া অন্তর্বাস পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় টুরিন শহরের অদূরে৷ পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে৷ ইসোক জানান : ‘‘দু'বছরেরও বেশি সময় ধরে ইটালির রাস্তায় রাস্তায় আমাকে এ কাজ করতে হয়৷ বলা হয়, ইউরোপে নিয়ে আসার জন্য আমাকে মোট ৩০ হাজার ইউরো দিতে হবে তাদের৷ প্রথমদিকে আমি রাস্তায় বের হতে অস্বীকার করি৷ পরে শুনলাম, টাকা দিতে না চাওয়ায় একটি মেয়েকে খুন করতেও পিছু পা হয় নি এরা৷ তাই শেষ পর্যন্ত আমাকেও রাস্তায় নামতে হয়েছিল৷''

কিন্তু, একটা সময় নিজের অনিচ্ছায় নিজ শরীর নিয়ে বেচা-কেনা করতে মন আর সায় দিলো না ইসোক'এর৷ প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন তিনি৷ অপহরণকারীরা দেখলো

Amnesty Bericht 2010 kritisiert Abschiebelager in Malaysia

মানব পাচারের শিকার

আর উপায় নেই৷ তাই পেটে ছুরি ঢুকিয়ে, ইসোক'কে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে গেলো তারা৷ এরপর ইসোক'এর আর কিছু মনে নেই৷ কয়েক মাস বাদে যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি হাসপাতালে৷ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন ইসোক৷ প্রতিজ্ঞা করেন, এরপর আর কোনো দিন কারো হাতে নিজেকে ছোট করবেন না৷

ঠিক সেই সময় ইটালির এক নারী সাংবাদিক লরা মারাগনানি'র সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর৷ মারাগনানি'র সাহায্যে নিজের জীবন নিয়ে একটি বই-ও লেখেন ইসোক আইকপিটানী৷ নাম দেন, ‘বেনিন শহরের মেয়েরা : কৃতদাসী হয়ে নাইজিরিয়া থেকে ইটালির রাস্তায়'৷ ইসোক'এর মতো একটি মেয়ের সঙ্গে আলাপ হয়ে জীবনের একেবারে অন্য একটি দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে সাংবাদিক মারাগনানি'র কাছে৷

তিনি বলেন : ‘‘ইটালিতে এসব মেয়েদের কোন মর্যাদা নেই৷ দেশের সাধারণ মানুষ এদের সামাজিক কলঙ্ক হিসেবেই দেখে৷ তাই আমাদের উচিত এদের সাহায্য করা, তাদের থাকা, খাওয়া এবং চাকরির ব্যবস্থা করা৷ তারা যাতে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনধারণ করতে পারে - সেটা নিশ্চিত করা৷ কারণ, তা নাহলে এরা নিজেরাই আবার মেয়ে পাচারের কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে৷ আর তখনই মানুষ পাচার পরিণত হয় একটি দুষ্টচক্রে৷''

এই অপরাধচক্র এড়ানোর একমাত্র উপায় অপহৃত মেয়েদের পুনর্বাসন৷ জানালেন রোম শহরের এক মানবাধিকার কর্মী আইরা বোটিলিরো৷ তবে পুনর্বাসনের মাধ্যমে মেয়েদের শুধু দুষ্টচক্র থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলেই হবে না, দারিদ্র্য দূর করা না গেলে এবং সমাজে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা সম্ভব না হলে এ চক্রব্যুহ থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়৷

বোটিলিরো'র কথায় : ‘‘শিক্ষার অভাব, স্কুলের অভাব, বিচারের অভাব, আর তার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়া, বহু-বিবাহ, সম্পত্তির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হওয়া - ইত্যাদি আরো নানা কারণে পিছিয়ে আছে আফ্রিকার মেয়েরা৷''

অবশ্য অন্যান্য মেয়েরা পিছিয়ে থাকলেও, দাসত্বের সেই দৈন্যদশা থেকে নিজেকে তুলে আনতে পেরেছেন ইসোক আইকপিটানী৷ অপহরণের দশ বছর পর, বেনিন'এর সেই কিশোরী মেয়েটির বয়েস আজ ৩০ বছর৷ তাই আর নিজের জন্য নয়, তাঁর মতো অভাগা মেয়েদের জন্যই একটি পুনর্বাসন সংস্থা গড়ে তুলেছেন ইসোক৷ যারা কাজ করছে সেই সব মেয়েদের অধিকার রক্ষায়, তাদের জন্য এক সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে৷

প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক