1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

বিশ্বের সেরা ৫০০ সুপারকম্পিউটারের তালিকা প্রকাশ

জার্মানির হামবুর্গে সম্প্রতি হয়ে গেল আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটিং সম্মেলন৷ এ উপলক্ষ্যে বিশ্বের পাঁচশটি সেরা সুপারকম্পিউটারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷

default

সেবিট ২০০৯ এ সুপার পারসোনাল কম্পিউটার (ফাইল ছবি)

সুপারকম্পিউটারের কাজ

২০০৭ সালে বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকায় আঘাত এনেছিল সাইক্লোন ‘সিডর'৷ তাতে হতাহত হয়েছিল অগুনিত মানুষ৷ আর ক্ষতি- সেতো আজও হিসেব করে শেষ করা যায়নি৷ তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারতো, যদি না অ্যামেরিকায় থাকা ডঃ হাসান মাশরিকি নামের এক বাঙালি বংশোদ্ভুত বিজ্ঞানী এই সিডরের পূর্বাভাস না দিতেন৷ কোন্ কোন্ এলাকায় সিডর আঘাত হানতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে প্রায় ২৪ ঘন্টা আগেই বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছিলেন তিনি৷ একটি সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করে মাশরিকি এসব তথ্য জানতে পেরেছিলেন৷

এমনই সব জটিল কাজ করা যায় সুপারকম্পিউটার দিয়ে৷ তবে মূলত গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয় এই ধরণের কম্পিউটার৷ এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নির্ধারণ, পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের উপর নজরদারি করা, বড় বড় কোম্পানির জটিল সব আর্থিক হিসাব, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ও সামরিক গবেষণা ইত্যাদি নানান কাজ করা হয়ে থাকে সুপারকম্পিউটারের সাহায্যে৷

সবচেয়ে গতি সম্পন্ন সুপারকম্পিউটার

যে সুপারকম্পিউটারের গতি সবচেয়ে বেশি সেটা দিয়ে কাজ করা যায়

Neuer Supercomputer für die Klimaforschung

জার্মান জলবায়ু গবেষণাগারে স্থাপিত নতুন সুপার কম্পিউটার

বেশি৷ আর বিশ্বের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন সুপারকম্পিউটারটির মালিক যুক্তরাষ্ট্র৷ নাম জাগুয়ার৷ এর গতি ১.৭৫ পেটাফ্লপস্৷ অর্থাৎ এক সেকেন্ডে মোট ১,৭৫০ ট্রিলিয়ন ক্যালকুলেশন করতে সক্ষম এই জাগুয়ার৷

এবার জাগুয়ার সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য৷ যে কাজ এই জাগুয়ারের করতে লাগে এক সেকেন্ড সেটি করতে একটি সাধারণ কম্পিউটারের লাগবে দশ ঘন্টা৷ আর যে কাজ করতে জাগুয়ারের লাগবে এক ঘন্টা, সাধারণ একটি কম্পিউটারকে সেকাজ করতে দিয়ে আপনি পরবর্তী বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন৷ অর্থাৎ সময় লাগবে প্রায় চার বছর ! এই হিসেবে জাগুয়ারের একদিনের কাজ করতে একটি সাধারণ কম্পিউটারের লাগবে প্রায় ১০০ বছর !

ওয়াশিংটন ভিত্তিক ক্রে কোম্পানি হলো জাগুয়ারের মালিক৷ আর ক্রে কোম্পানির মালিক হলেন সেইমুর ক্রে- যাঁকে সুপারকম্পিউটারের জনক বলা হয়৷ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ক্লাইমেট সায়েন্স আর নিউক্লিয়ার এনার্জি বিষয়ে গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা জাগুয়ারের সাহায্য নিয়ে থাকেন৷

জাগুয়ারের পর যে সুপারকম্পিউটারের গতি সবচেয়ে বেশি সেটির মালিক চীনা কোম্পানি ডাউনিং৷ সুপারকম্পিউটারটির নাম নেবুলা৷ আর এর গতি ১.২০ পেটাফ্লপস্৷ অর্থাৎ এক সেকেন্ডে মোট ১,২০০ ট্রিলিয়ন ক্যালকুলেশন করতে সক্ষম নেবুলা৷ এয়ারক্রাফট ডিজাইন ও পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের কাজ করা হয় নেবুলা দিয়ে৷ তবে চীনা ঐ কোম্পানিটি নেবুলার চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন কম্পিউটার তৈরি করছে বলে জানা গেছে৷ দৃশ্যত, পেটাফ্লপস্ গতির আর একটিই কম্পিউটার আছে বিশ্বে৷ সেটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানী মন্ত্রণালয়৷ আর এর নাম রোডরানার৷

তালিকা পর্যালোচনা

বিশ্বের সেরা ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের এবারের তালিকায় যেগুলো স্থান পেয়েছে সেগুলোর অর্ধেকেরই মালিক যুক্তরাষ্ট্র৷ এর পরের অবস্থান ইউকে'র৷ তালিকায় তাদের আছে মোট ৩৮টি কম্পিউটার৷ এরপর ফ্রান্সের রয়েছে ২৭টি৷ আর জার্মানি ও চীনের রয়েছে ২৪টি করে সুপারকম্পিউটার৷ তালিকায় ভারতের রয়েছে পাঁচটি কম্পিউটার৷ এর মধ্যে দু'টির অবস্থান আবার প্রথম ১০০'র মধ্যে৷ প্রথমটির মালিক টাটা সন্স৷ এই কোম্পানির কম্পিউটেশনাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে যে সুপারকম্পিউটারটি রয়েছে তার গতি ১৩২.৮ টেরাফ্লপস্৷ অর্থাৎ এক সেকেন্ডে মোট ১৩৩ ট্রিলিয়ন ক্যালকুলেশন করতে সক্ষম এই কম্পিউটারটি৷ আর ৯৪ নম্বরে থাকা সুপারকম্পিউটারটি রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটারলজিতে৷

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তালিকার বাইরেও অনেক সুপারকম্পিউটার রয়েছে যেগুলোর গতি হয়তো এই ৫০০টির কোনো কোনোটির চেয়ে বেশি৷ কারণ সরকারি মালিকানায় থাকা অনেক কম্পিউটার সম্পর্কেই বিস্তারিত তথ্য না থাকায় এই তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি৷

প্রতিবেদন : জাহিদুল হক

সম্পাদনা : দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়