1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি মারা গেলেন জাপানে

১১৫ তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হল না কামা চিনেনের৷ জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন এই বৃদ্ধা৷

default

গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আয়ু জাপানিদের (ফাইল ফটো)

জাপানের দক্ষিণের দ্বীপ ওকিনাওয়া দ্বীপে বসবাস করতেন চিনেন৷ এই দ্বীপের অধিবাসীরা তাদের সুস্বাস্থ্য ও অনেক বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য সুপরিচিত৷ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে জাপানে মানুষের গড় আয়ু বিশ্বের অন্য দেশগুলোর থেকে অনেক বেশি৷

গিনেস ওর্য়াল্ড রের্কডস জানায়, ‘‘আমরা এই সংবাদে খুবই মর্মাহত যে, বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধা মানুষটি ২০১০'এর ২ মে মারা গেলেন৷ তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর ৩৫৭ দিন৷''

চিনেনের মৃত্যুর পর বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের খেতাবটি পেলেন ফরাসি মহিলা ইউজেনি ব্লাঁশার্ড৷ তাঁর বয়স ১১৪ বছর৷ বয়সি এই ফরাসি নারীর বসবাস ক্যারাবিয়ান দ্বীপ গুয়াদালুপের বাসিন্দা তিনি৷ জানিয়েছে জেরোন্টোলোজি রিসার্চ গ্রুপ (জিআরজি)৷ ১৮৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি৷ কামা চিনেন শেষ দিকে হুইল চেয়ার ব্যবহার করতেন৷ তবে রোদ দেখা দিলে বাইরে বেরুতে ভালবাসতেন৷

এর আগে মার্কিন মহিলা গেরট্রুড বেইন্স ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ৷ ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মারা যাওয়ার পর কামা চিনেন তাঁর খেতাব অধিকার করেন৷ জাপানের কিয়োডো বার্তা সংস্থা জানায়, চিনেনের পর জাপানের বয়স্কতম ব্যক্তি হিসেবে স্থান অধিকার করেছেন ১১৩ বছর বয়সি চিয়োনো হাসিগাওয়া৷

গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আয়ু জাপানিদেরই৷ আর বিশেষ করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও ভাল আবহাওয়ার জন্য ওকিনাওয়া দ্বীপের অধিবাসীরা অনেক দিন বেঁচে থাকেন৷ বহু শতায়ু মানুষ উপহার দিয়েছে এই দ্বীপ৷

গবেষকরা পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, বলছেন, ওকিনাওয়ার বয়োবৃদ্ধ মানুষদের ধমনী অনেক সতেজ আর পরিষ্কার৷ তাছাড়া, পশ্চিমাদের তুলনায় তাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কম আর এই কারণে হৃদরোগের ঝুঁকিও তাঁদের ৮০ শতাংশ কম৷ তাঁদের মধ্যে স্ট্রোকের মাত্রাও অনেক কম৷

ওকিনাওয়ার মানুষদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারও শরীরচর্চা৷ অতিমাত্রায় মদ্যপান এবং ধুমপান তাঁরা এড়িয়ে চলেন৷ আর এই কারণেই তাঁদের রক্ত চাপ সব সময়ই নিয়ন্ত্রণে থাকে৷ তাছাড়া, মানসিক চাপ কমাতে তাঁরা আধ্যাত্মিক চর্চাও করে থাকেন৷

ওকিনাওয়ানদের ক্যান্সার হবার সম্ভবনাও অনেক কম৷ কারণ, তাঁরা প্রচুর পরিমাণে আঁশ-জাতীয় সবজি ও ফল খেয়ে থাকেন৷ এছাড়া তাঁরা খুবই কর্মঠ৷

জাপান সরকারের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে জাপানে নারীদের গড় বয়স ছিল ৮৬.০৫ বছর এবং পুরুষদের গড় বয়স ৭৯.২৯ বছর৷ দেশটিতে জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার ওপরে৷ আর ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩২ শতাংশে পৌঁছবে বলে পরিসংখ্যানে জানানো হয়৷

প্রতিবেদন: আসফারা হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়