1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিশ্বব্যাপী এ সব সন্ত্রাসী হামলার শেষ কোথায়?

২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বর – ছয় বছর পর আজও মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার অভিশপ্ত দিনটির কথা মনে পড়লে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে যায়৷ নৃশংসতার দিক থেকে ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টারের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে এর কোনো ফারাক নেই৷

নিউ ইয়র্কের সেই হামলায় গোটা বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল৷ কিন্তু ৯/১১-র জঙ্গি হামলার জের যেন এখনও থেকে গেছে৷ বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই ঘটে চলেছে একের পর এক হামলা৷ তা সে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক-সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ, নাইজিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠীর দৌরাত্ম, বাংলাদেশের জামাত, ভারতের ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন কিংবা আফগানিস্তানের তালিবান হামলা হোক৷ বুঝতে পারি না কীভাবে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে আল-কায়েদা বা তালিবানি নেটওয়ার্ক৷ সন্ত্রাস রুখতে গোটা বিশ্ব একজোট হয়েও কেন বারংবার ব্যর্থ হচ্ছে? ভাবতে বসলে আমার চিন্তাগ্রন্থি কেমন অবশ হয়ে আসে৷ মনে প্রশ্ন জাগে এই হামলার লক্ষ্য কী? কী তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ৷ প্যান ইসলামিক বিশ্ব গড়ে তোলাই যদি তাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে কেন শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষ? মুসলিম সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কেন অন্য মুসলিম ভাইদের জীবন নিয়ে রক্তস্নান করছে?

গত ২রা নভেম্বর ভারত-পাক ওয়াঘা সীমান্ত চৌকিতে আত্মঘাতী জঙ্গি হানায় প্রাণ গেল গোটা পঞ্চাশেক তাজা জীবনের৷ এই তো দু'দিন আগে কাবুলে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা ছিনিয়ে নিল ৪৫টি তরতাজা প্রাণ, যাঁদের ৯৯ শতাংশই মুসলিম৷ এটাকে কী বলবো? এর শেষ কোথায়? পরিণাম কী? মৌলবাদী মুসলিম নেতারা এর নাম দিয়েছে ‘জেহাদ', মানে ধর্মযুদ্ধ....এটা কোন জাতের ধর্মযুদ্ধ বুঝে উঠতে পারি না, যেখানে একই মুসলিম জেহাদির কাছে অন্য মুসলিম ভাইয়ের জীবনের কানাকড়ি দাম নেই৷ কোরানে কিন্তু জেহাদের ভিন্ন অর্থ, যার মর্মার্থ শান্তি৷ এই নির্বিচারে গণহত্যা কি সেকথা বলে? আমার তো মনে হয় বলে না৷

আসলে কিছু কিছু দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে৷ যদি ২৬শে নভেম্বর মুম্বই হামলার কথা তুলি, তাহলে যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে – তাতে শুধু ভারতই নয়, প্রায় গোটা বিশ্ব অভিযোগের আঙুল তুলেছে পাকিস্তানের দিকে৷ মুম্বই জঙ্গি হামলার একমাত্র জীবিত ও ধৃত সন্ত্রাসী আজমল কাসভের জবানবন্দিতেও তা প্রমাণিত যে, মূল চক্রি হলো পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার মাথা হাফিজ সৈঈদ৷ পেছনে কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংগঠন আইএসআই, অভিযোগ এমনটাই৷ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলিও জেরার মুখে এ কথাই স্বীকার করেছে৷

Bildgalerie Bengali Redaktion - Anil Chatterjee

ডিডাব্লিউ বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি অনিল চট্টোপাধ্যায়

অথচ সেই হাফিজ সৈঈদ দিব্যি বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী, এমনকি পাকিস্তানের সমরযন্ত্র চায় না যে, দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি ও সদ্ভাব বজায় থাকুক৷ এতে উভয়েরই প্রভাব-প্রতিপত্তির গুরুত্ব কমে না যায়৷

তবে জানতে ইচ্ছা করে, ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, যেখানে নিরন্ধ্র নিরাপত্তার বেড়াজাল, সেখানে কী করে সন্ত্রাসীরাভেদ করে? কীভাবে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে? উচ্চস্তরের প্রশিক্ষণ কে দেয়? কারা দেয়? কীভাবে পারে? কীভাবে মুসলিম যুবকদের ধর্মের নামে মগজ ধোলাই করে তাঁদের মস্তিষ্কে আত্মঘাতী হামলার বীজ বপন করে? একটা কথা কি তাঁরা বোঝে না যে, সহিংসতার পথে যাবার প্ররোচনা কোনো ধর্মই দেয় না৷ ভারতে মাওবাদী সহিংসতা আছে, কিন্তু সেটা ধর্মের কারণে নয়৷ বলিভিয়ার সশস্ত্র আন্দোলন ধর্মের জন্য নয়, শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে৷ অবশ্য মাওবাদীদের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্লোগানের ফানুস ফেটে গেছে৷ এখন স্রেফ পেট চালানোর দায়ে তাঁরা খুন, হত্যা ও রাহাজানিতে নেমে এসেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন