1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘বিশ্ববাসীকে সংস্কৃতির গুরুত্ব বোঝানোর মাধ্যম প্রত্নতত্ত্ব’

‘‘শুধু জাতির জীবনে নয়, সংস্কৃতির মূল ঐতিহ্যই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব৷ আমাদের সংস্কৃতি কত পুরনো – তা বিশ্ববাসীকে জানানোর একমাত্র মাধ্যম প্রত্নতত্ত্ব৷’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন৷

ডয়চে ভেলে: বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ক'টি?

আলতাফ হোসেন: সব অধিদপ্তরের একটি সাংগঠনিক কাঠামো থাকে৷ সে হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরেরও একটিই সাংগঠনিক কাঠামো৷ তবে ডিভিশন আছে চারটি৷ একটি বগুড়ায়, একটি খুলনায়, একটি কুমিল্লায় ও একটি ঢাকায়৷

বর্তমানে প্রকল্প আছে কতগুলো?

এই মুহূর্তে একটি প্রকল্পও নেই৷ একটি ছিল সাউথ এশিয়ান টুরিজম প্রোজেক্ট৷ সেটা গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে৷ এই প্রকল্পের আওতায় আমরা চারটি বড় কাজ করেছি৷ একটি হলো আমাদের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ যে দু'টি জায়গা আছে – পাহাড়পুর ও ষাটগম্ভুজ মসজিদ – সেখানে আমরা কাজ করেছি৷ সেই সঙ্গে মহাস্থানগড় ও কান্তজিউ মন্দিরে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য কিছু কাজ করেছি আমরা৷ আগামী জুলাই থেকে আরো একটি প্রকল্প শুরু হবে৷ এছাড়া ছোট ছোট কিছু কর্মসূচি আছে৷

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত পুরাকীর্তির সংখ্যা কত এবং জাদুঘর কতগুলো?

গেজেটভুক্ত পুরাকীর্তির সংখ্যা এখন ৪৫৫টি আর জাদুঘর আছে ১৭টি৷ এর মধ্যে বেশ কিছু আছে অনেক পুরনো জাদুঘর, যেগুলো ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে তৈরি হয়৷ যেমন পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় এবং ময়নামতির জাদুঘরগুলো অনেক পুরনো৷

অডিও শুনুন 10:50

‘প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ করতে গেলে বেশি জমির দরকার হয় না’

জাতির জীবনে পুরাকীর্তির গুরুত্ব কী?

আমাদের সংবিধানের ২৩ ও ২৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে৷ শুধু জাতির জীবনে নয়, সামাজিক জীবনে নয়, আমাদের সংস্কৃতির মূল ঐতিহ্যই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব৷ বিশ্ববাসীকে বা দেশবাসীকে যদি জানাতে হয় আমাদের সংস্কৃতি কত পুরনো, তাহলে তার একটাই মাধ্যম৷ আর সেটা হলো প্রত্নতত্ত্ব৷ ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে বলি৷ ধরুন পুণ্ডবর্ধন, যেটা আমাদের রাজধানী ছিল৷ সেই সময়টা বিশ্লেষণ করে দেখলে বোঝা যাবে যে, তৎকালীন রাজা তাঁর জনগণকে বলছেন – ‘তোমরা তোমাদের গোলার ধান কৃষকদের দিয়ে দাও, কারণ মহামারি লেগেছে৷ আবার ফসল ভালো হলে আমি তোমাদের গোলা ভরে দেবো৷' এটা কিন্তু আজ থেকে দু'হাজার বছর আগের কথা৷ শুধু এটা নয়, আমরা যেখানেই খনন করছি, এখন যেমন ওয়ারিতে খনন করছি, সেখানে আমরা খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৬০০ বছর পুরনো নিদর্শন পাচ্ছি৷   

প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও খননে কি আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?

বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়৷ কখনও পুরনো পদ্ধতি, আবার কখনও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়৷ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা আধুনিক পদ্ধতির দিকে যাচ্ছি৷ মনে রাখতে হবে, আমরা মাটির নীতে যেসব পাচ্ছি – মানে ইটের, টালির বা ছোট ছোট পাথরের জিনিস – সেগুলো সংরক্ষণ করাটা কঠিন৷ কারণ আমাদের দেশে পানির লেভেল অনেক ওপরে৷ খনন করার কিছুদিন পরই বর্ষকালে এগুলোতে পানি উঠে যায়৷ এতে এগুলো নষ্ট হতে পারে৷ তবে উত্তর ভারতে এই ধরনের সমস্যা নেই৷ কারণ সেখানে যে প্রত্নতত্ত্ব পাওয়া যায়, সেগুলো পাথরের৷ কয়েক হাজার বছর আগে সেখানে পাথর দিয়েই কাজ হতো৷ কিন্তু আমাদের কোনো পাথরের কাজ নেই৷ এখানে যে কাজগুলো হয়েছে, সেগুলো ইটের৷ ইটের সঙ্গে হয় কাদামাটি বা চুন-সুরকির৷ ফলে এগুলো সংরক্ষণ করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়৷ যেটা কাদামাটি, সেটা কাদামাটি দিয়েই সংরক্ষণ করতে হবে৷ তা না হলে সঠিকভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ হবে না৷

বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় বাংলাদেশের কতগুলো স্থান রয়েছে?

বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কয়েক রকমের হয়৷ একটি স্পর্শযোগ্য এবং আরেকটি অস্পর্শযোগ্য বা মনোগত সাংস্কৃতির ঐতিহ্য৷ আরেকটি আছে ন্যাচারাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য৷ বাংলাদেশে স্পর্শযোগ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে দু'টি৷ একটি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার এবং আরেকটি বাগেরহাটের মসজিদ শহর৷ ১৯৮৫ সালে এটি বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়৷ এরপর ১৯৯৯ সালে যে সম্ভব্য তালিকা হয়েছে, সেখানে পাঁচটি আছে৷ আর আমাদের ন্যাচারাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো সুন্দরবন৷ অস্পর্শযোগ্য বা মনোগত সাংস্কৃতির ঐতিহ্য হলো লালন, জামদানি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা৷

প্রত্নসম্পদ খননে সরকারি না বেসরকারি উদ্যোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়?

প্রত্নতত্ত্ব হলো সরকারের সম্পদ৷ তাই সারা পৃথিবীতে এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগটাই বেশি থাকে৷ আমাদের দেশে বেসরকারি উদ্যোগেও একটা-দু'টো কাজ হচ্ছে৷ বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সাংস্কৃতির মন্ত্রণালয়ের অনুদান নিয়ে কিছু খনন করে থাকে৷ তবে এটাও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হয়৷

জাদুঘর থেকে অনেক সময় প্রত্নসম্পদ চুরি হয়ে যায়৷ এর কারণ কী?

এটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ভালো বলতে পারবে৷ তবে জাদুঘর থেকে এই ধরনের প্রত্নতত্ত্ব চুরি হয়েছে বলে আমার জানা নেই৷ হয়ত কোনো সময় দু-একট চুরি হয়ে থাকতে পারে৷ অবশ্যই সেটা নিয়ে থানায় মামলা হবে, থানা সেটা তদন্ত করে দেখবে৷

অনেক সময় বলা হয়, সব প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ করতে গেলে দেশে জমির অপচয় হবে৷ এই ধরনের ধারণা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?  

প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ করতে গেলে বেশি জমির দরকার হয় না৷ প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ যেখানে আছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি, সেটা কৃষি জমি নয়৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা আছে যে, কৃষি জমি যতটা সম্ভব কম নষ্ট করে প্রত্নসম্পদ রক্ষা করতে হবে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা পাওয়া যায়, সেখান উঁচু ঢিবি থাকে, কিছু গাছ থাকে৷ কৃষি জমিতে থাকলে এটা নষ্ট হয়ে যেত৷ সর্বশেষ নীলফামারীর ধর্মপালে আমরা যে মন্দিরটা পেয়েছি, সেটাও একটা উঁচু জমিতে৷

বিদেশ থেকে কি কোনো পুরাকীর্তি আনা হয়? বিদেশি পুরাকীর্তি সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা আছে এখানে?

বিদেশ থেকে পুরাকীর্তি আনার বিষয়টি ভ্যারি করে কান্ট্রি-টু-কান্ট্রি, মানে সে দেশের আইন অনুযায়ী৷ কেউ পুরাকীর্তি রপ্তানি করতে পারে না, আমরাও পারব না৷ এর কোনো আইন নেই৷ তবে কোনো দেশের সঙ্গে ইটারচেঞ্জ করে দু-একটা পুরার্কীতি রাখা যেতে পারে৷ আমরা বলতে পারি, তোমাদের একটা পুরার্কীতি আমাদের দাও আর আমাদের এটা তোমরা নাও৷ তখন সেটা আমরা সংরক্ষণ করতে পারি৷ তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি৷

এই পুরার্কীতির দেখভালে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল কি আছে বাংলাদেশের? যাঁরা প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ করে, তাঁদের কি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আছে? 

এটা একটা ভালো প্রশ্ন করেছেন৷ আমাদের যত পুরার্কীতি আছে, সেই পরিমাণ জনবল নেই৷ আমরা মানুষ বাড়াতে চেষ্টা করছি, সরকারও দিচ্ছে৷ যেখানে আমাদের জনবল দরকার আমরা চাইলে সরকার সেটা দিচ্ছে৷ এছাড়া নতুন নতুন ‘সাইট' আবিষ্কার হচ্ছে, সেখানে নতুন জনবল লাগছে৷ তবে শুধু জনবল হলেই তো হবে না, তাঁদের প্রশিক্ষণও তো লাগবে৷ তাই আমরা চেষ্টা করছি, এই জনবলকে প্রশিক্ষণ দিতে৷ বিশেষ করে খননের কাজে, সংরক্ষণের কাজে৷ আসলে দু'টোই আমাদের জন্য খুব জরুরি৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন মন্তব্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়