1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিশ্ববরেণ্য হয়ে উঠেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল

এ যেন ‘ম্যার্কেল ম্যাজিক’! সে কারণে লন্ডনের টাইমস পত্রিকা তাঁকে ‘‘পার্সন অফ দ্য ইয়ার’’ আখ্যা দিয়েছে৷ আর মার্কিন টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ফেলেছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায়৷

ম্যার্কেল এক ব্যতিক্রমী চরিত্র৷ ইতিমধ্যে জার্মানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকদের তালিকায় ম্যার্কেলের নাম সবার ওপরে না থাকলেই আশ্চর্য৷ তাঁর নিজের খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল বা সিডিইউ-তে তাঁর প্রতিপত্তি এমনই অবিসংবাদী যে, ম্যার্কেলকে ‘নৃপতি' মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর মান-সম্মান বেড়েই চলেছে৷ ইউরো-নিন্দুক ব্রিটেনের টাইমস পত্রিকা এই জার্মান চ্যান্সেলরকে বিদায়ী বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচন করেছে, যদিও ম্যার্কেল ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুরোপুরি বিশ্বাসী৷

২০১৪ সালে ম্যার্কেল স্বদেশেও ছিলেন একটি ‘বৃহৎ জোটের' নেত্রী: এই জোট গঠন করতে অথবা কাজ চালাতে তাঁকে খুব বেশি বাক্যব্যয় করতে হয়নি৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁকে একটি নতুন ভূমিকা নিতে হয়েছে ইউক্রেন সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে৷ পশ্চিমা বিশ্ব – বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর কোনো নেতা এভাবে নিয়মিত টেলিফোনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন না৷

Christoph Strack Redakteur im DW Hauptstadtstudio

ক্রিস্টফ স্ট্রাক

ইউক্রেন সংক্রান্ত অনেক শীর্ষবৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ-ও উপস্থিত থাকেন, তবে তার ফলে ম্যার্কেল কিংবা তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইমায়ারের গুরুত্ব কমে যায় না, বরং ইউরোপীয় হিসেবে ম্যার্কেল তাঁর সহযোগীদের পাশেই রাখতে চান৷ ন'বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার পর তিনি এখন জি-সেভেন নেতৃবর্গের মধ্যে কর্মকালের বিচারে প্রবীণতম৷ জি-সেভেন নেতৃবর্গের মধ্যে তিনিই রুশ চিন্তাধারা এবং আবেগ-অনুভূতিকে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

রাজনীতি থেকে কূটনীতি

ঠিক সেই কারণেই ম্যার্কেলের দৃঢ় বিশ্বাস যে, ইউরোপ শেষমেষ একমত হবে৷ ইউক্রেন সংকট যে রাজনৈতিকভাবে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না৷ এমনও হতে পারে যে, ২০১৪ সালে ম্যার্কেলের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট' তার ছ'বছর আগের আর্থিক সংকটকালীন কূটনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে৷ আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে ম্যার্কেল ছিলেন এক আর্থিকভাবে শক্তিশালী জার্মানির প্রবক্তা৷ আজ তিনি ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের সপক্ষে৷ ২০১৪ সাল দেখিয়েছে যে, ম্যার্কেলের কূটনীতিকসুলভ সব গুণ আছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে – ব্রাসেলস কিংবা নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে – কোনো বড় দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট৷

স্বদেশে

স্বদেশেও ম্যার্কেলের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে: কোনোরকম সরকারি ঋণ ছাড়া ফেডারাল বাজেট; কর্মসংস্থান, শক্তিশালী অর্থনীতি৷ তাঁর নিজের দলে কখনো-সখনো ম্যার্কেল-বিরোধী সুর শোনা গেলেও, ডিসেম্বরের সূচনায় কোলোন শহরে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের সম্মেলনে ম্যার্কেল দশ মিনিট ধরে হাততালি পেয়েছেন৷

তবে সামগ্রিকভাবে জার্মানিতে সিডিইউ দলের প্রতিপত্তি কিছুটা দুর্বল হচ্ছে – ফেডারাল পর্যায়ে না হলেও, রাজ্যগুলোতে কিংবা বড় শহরগুলোতে৷ এবং কোনো বা কোনো সময় তার দায় এসে পড়বে দলের সভাপতির উপর৷ ২০১৫ সালে বিশেষ কিছু না ঘটলেও, ২০১৬ সালে পাঁচটি ফেডারাল রাজ্যে নির্বাচন, এবং সাধারণ নির্বাচনের আগে আরো তিনটি৷ ম্যার্কেলের দলীয় সতীর্থরা তাঁর উপরেই বাজি ধরছেন – তবে ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মহিলাদের একজন'' হিসেবেও ম্যার্কেলকে শেষমেষ সাধারণ ভোটদাতাদের উপরই নির্ভর করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়