1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কে হবে? আডিডাস, নাকি নাইকি?

ফুটবল এক কথা আর ব্যবসা আরেক কথা? আদৌ নয়৷ অন্তত বিশ্বকাপি, থুড়ি, বিশ্বব্যাপী ফুটবলের বাজারে আধিপত্য নিয়ে যে সব কোম্পানি প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তাদের ক্ষেত্রে তো নয়ই৷ চার বছরে একবার বিশ্বকাপই হলো তাদের সুবর্ণ সুযোগ৷

default

আডিডাস ২০৩০ সাল অবধি বিশ্বকাপের সরকারি ‘স্পন্সর'

ম্যাচ চলবে; সারা বিশ্বে কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশনের পর্দায় দেখবেন সেই সব প্লেয়ার আর তাঁদের বুট, জার্সি ইত্যাদি রণসাজ৷ এবং সেই দর্শকদের একাংশ – তাঁদের বয়স যাই হোক না কেন – মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারের জার্সি গায়ে চড়াতে ও তাঁদের মতো বুট পরতে চাইবেন; খেলতে চাইবেন বিশ্বকাপের মার্কামারা বল দিয়ে৷ এটা একটা সুবিশাল বাজার

বিশ্বব্যাপী ফ্যানরা দেখবেন নাইকি-র সেই সুবিখ্যাত ‘স্যুশ' বা টিক-চিহ্ন, আডিডাস-এর তিনটি স্ট্রাইপ কিংবা পুমা-র লম্ফনরত শার্দূল৷

Deutschland Greenpeace Adidas Gift im WM-Schuh

নাইকি ফুটবলের বাজারে ঢোকে সবে ১৯৯৪ সালে

সাধে কি আডিডাস-এর মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার পিটার হং বলেছেন: ‘‘এ হলো বিশ্বকাপ৷ করো, নয়ত মরো৷ জেত, নয়ত বাড়ি যাও৷'' অর্থাৎ মাঠের ভিতরে-বাইরে এমন এক প্রতিযোগিতা, যা-তে বিজ্ঞাপন অভিযান, সোশ্যাল মিডিয়া, ফুটবল জগতের অতীত কিংবা বর্তমান তারকারা এবং অবশ্যই সেই সঙ্গে কোম্পানির পণ্যের উল্লেখ কিংবা উপস্থিতি – কোনো কিছুই বাদ পড়বে না৷

দু'পায়ে দু'রঙের বুট

নাইকি অনেক ‘স্টার'-কে ভাড়া করেছে, সেই সঙ্গে আশা করছে যে ব্রাজিল ভালো ফলাফল করবে৷ আডিডাস ২০৩০ সাল অবধি বিশ্বকাপের সরকারি ‘স্পন্সর'৷ পুমা ফুটবলারদের দু'পায়ে দু'রঙের বুট চড়িয়েছে৷ অ্যাথলেটিক ফুটওয়্যার, জামা-কাপড় এবং সাজ-সরঞ্জামের ক্ষেত্রে নাইকি হলো বিশ্বের নম্বর ওয়ান; আডিডাস দ্বিতীয় হওয়া সত্ত্বেও ফুটবল পণ্যের ক্ষেত্রে প্রথম৷ গতবছর এ বাজারে নাইকি-র বিক্রি ছিল দু'শো কোটি ডলার, আডিডাস-এর দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলার৷

Brasilien Fußball WM Brazuca

বিশ্বকাপের স্পন্সর হিসেবে ১৯৭০ সাল যাবৎ আডিডাস বিশ্বকাপের বলটি ডিজাইন করে আসছে

আডিডাস বিশ্বকাপের সুযোগে সেটাকে বাড়িয়ে দুই দশমিক আট বিলিয়ন ডলার করার খোয়াব দেখছে৷

‘সকার' বা ফুটবল চিরকালই আডিডাস-এর পেটোয়া: প্রতিষ্ঠাতা আডি ডাসলার কোম্পানির প্রথম ফুটবল বুট-জোড়া তৈরি করেন ১৯২৫ সালে৷ বিশ্বকাপের স্পন্সর হিসেবে ১৯৭০ সাল যাবৎ আডিডাস বিশ্বকাপের বলটি ডিজাইন করে আসছে৷ এবারের বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রাজুকা'৷ এই ‘ব্রাজুকা'-র বিক্রি নাকি ইতিমধ্যেই চার বছর আগের বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি'-র বিক্রিকে প্রায় ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে৷

নাইকি-র চ্যালেঞ্জ

নাইকি ফুটবলের বাজারে ঢোকে সবে ১৯৯৪ সালে৷ নাইকি-র চাতুর্য্য হলো, কি করে সরকারি স্পন্সর না হয়েও তারা নিজেদের ছাপ রেখে যেতে পারে৷ তাদের এবারকার বিজ্ঞাপনী প্রচার অভিযান প্রধানত ফুটবল স্টারদের ঘিরে, যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত এবং নাম-করা হলেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো৷

নাইকি-র এই প্রচার অভিযানে ‘বিশ্বকাপ' শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত করা হয়নি৷ অথচ মাঠেও দশটি দল নাইকি-র জার্সি গায়ে চড়াবে – তাদের মধ্যে ব্রাজিলও থাকবে৷ শত শত প্লেয়ারদের পায়ে দেখতে পাওয়া যাবে নাইকি বুট৷

নাইকি-র বর্ধিত আত্মবিশ্বাসের একটা কারণ নিশ্চয় রোনাল্ডো, যাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘মার্কেটেবল', অর্থাৎ বাজারে বিক্রয়যোগ্য খেলোয়াড় বলে গণ্য করা হয়৷ বিশ্বব্যাপী তাঁর নাম জানে প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ৷ আডিডাস-এর স্পন্সর করা লিওনেল মেসির ‘নেম রেকগনিশন' পার্সেন্টেজ ঠিক তার পরে৷ বিশ্বের প্রথম দশজন সবচেয়ে বেশি ‘মার্কেটেবল' প্লেয়ারদের মধ্যে নাইকি-র হাতে ছ'জন, আডিডাস-এর তিনজন আর পুমা-র একটি৷

জার্সির কথায় এলে, বিশ্বকাপে যে ৩২টি দল খেলছে, তাদের মধ্যে ১০টির জার্সি ডিজাইন করেছে নাইকি; আডিডাস করেছে ন'টা দেশের জার্সি; পুমা আটটি দেশের৷ তবে এ যুদ্ধে অন্যান্য অস্ত্রও আছে: আডিডাস-এর বিশ্বকাপ ‘‘ব্যাটল প্যাক''-এ চার ধরনের বুট আছে, চার ধরনের খেলোয়াড়দের জন্য৷ নাইকি-র বিপ্লবী ‘‘মার্কিউরিয়াল'' ও ‘‘ম্যাজিস্টা'' আল্ট্রা-লাইটওয়েট ফুটবল বুটগুলো দেখলে মনে হবে, কেউ যেন ‘ক্লিট' দেওয়া মোজা পরে মাঠে নেমেছে! ওদিকে পুমা-র ‘‘ট্রিক্স'' বুটজোড়ার রহস্য হলো, দু'পায়ের দু'রঙের বুট৷

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়