1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ কি এবারও স্পেনে যাবে?

এ এমন এক দেশ, যারা ২০০৮ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন, ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১২-য় আবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন৷ কিন্তু পর পর দু’বার বিশ্বকাপ জেতা? একমাত্র ব্রাজিল যা পেরেছে, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে৷

স্পেন যে গ্রুপে পড়েছে, সেই গ্রুপ ‘বি'-কে ঠিক গ্রুপ অফ ডেথ বলা চলে না: খেলতে হবে নেদারল্যান্ডস, চিলি ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে৷ অপরদিকে একদল প্লেয়ার কতদিন ধরে ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে৷ নয়ত গত বছরের কনফেডারেশনস কাপ ফাইনালে ব্রাজিলের একটি তরুণ, টগবগে দল স্পেনকে ৩-০ গোলে পর্যুদস্ত করতে পারতো না৷

অবশ্য এর আগের চারটি কনফেডারেশনস কাপে যে দলই জিতেছে, তারা পরের বিশ্বকাপ খেতাবটি জয় করতে পারেনি, কিন্তু ও ধরনের কাকতালীয় কুসংস্কারের উপর নির্ভর করে আধুনিক ফুটবল দুনিয়া চলে না৷ বরং স্পেন যে তার অভিজ্ঞ অভিযাত্রীদের মধ্যে কিছু কিছু নতুন মুখ ঢোকাতে শুরু করেছে, সেটাই আশার লক্ষণ বলা যেতে পারে৷ নতুন খেলোয়াড়দের সাধারণত ঠিক সেই বস্তুটি থাকে, যা ছাড়া ফুটবলে জেতা সম্ভব নয়: সেটি হলো জেতার খিদে৷

আন্তর্জাতিক ফুটবলে কিছুটা ভুজুংভাজুং থেকে থাকে৷ তাই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার দিয়েগো কস্তা মাত্র এক বছরের মধ্যেই ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় থেকে স্পেনের জাতীয় দলের সেন্টার ফরোয়ার্ডে পরিণত হয়েছেন৷ এবং সেটা সম্ভব হয়েছে, কেননা কস্তা দেখাতে পেরেছেন যে, তিনি ব্রাজিলের হয়ে শুধু ফ্রেন্ডলি ছাড়া আর কোনো ম্যাচে খেলেননি৷

কস্তা আসার ফলে স্পেনের কোচ দেল বস্কের একটি মাথাব্যথা কমেছে: কেননা সেন্টার ফরোয়ার্ড হলো এমন একটি পজিশন, যেখানে স্পেনের কিছুটা দুর্বলতা ছিল৷ ঠিক সেভাবেই, চেলসির সেজার আজপিলিচুয়েতা উঠে আসার ফলে দেল বস্কেকে রাইট-ব্যাকের পজিশনটি নিয়ে আর ভাবতে হবে না৷ অপরদিকে মিডফিল্ড এবং ডিফেন্সে তিনি বায়ার্ন মিউনিখের থিয়াগো আলকান্তারা এবং হাভি মার্তিনেজকে পাচ্ছেন – অন্তত উচ্চমানের বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে৷

যা ব্রাজিলে স্পেনের আসল বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা হলো ক্লান্তি, কেননা স্পেনীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিগত কয়েক বছর ধরে শুধু জাতীয় নয়, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলির চূড়ান্ত পর্যায়ে খেলে আসছে: যেমন এ বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা, রেয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ৷ জাতীয় ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলি ধরলে স্পেনের জাতীয় দলের অধিকাংশ প্লেয়ার ‘‘প্রতি তিন দিনে একটি করে ম্যাচ খেলছে৷ সব ক'টি খেলাই কঠিন এবং আমাদের ইনজুরির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে,'' বলেছেন দেল বস্কে৷

Fußball WM Finale Spanien Niederlande Weltmeisterschaft Siegerehrung

২০১০ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল

স্পেনের আরেকটি বড় সম্পদ হলেন নিঃসন্দেহে দেল বস্কে স্বয়ং, যিনি শুধু বিশ্বের সফলতম কোচদের মধ্যেই পড়েন না, যার ম্যান-ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে স্পেনের গোলরক্ষক ইকার কাসিয়াস বলেছেন: ‘‘উনি আমাকে শিখিয়েছেন, কি করে জয়ী হিসেবে বেঁচে থাকতে হয়৷ সংকটের মুহূর্তে কিংবা ট্রফি হাতে করে বিজয় মিছিলে, উনি সর্বত্র ঠিক একই রকম নিশ্চিন্ত, নিরুত্তাপ৷... শ্রদ্ধা ও স্বাভাবিকতা হলো ওনার সংজ্ঞা৷''

আর বার্সেলোনার সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় সাভি হের্নান্দেজ দেল বস্কে সম্পর্কে বলেছেন: ‘‘আমি যাঁদের সঙ্গে ড্রেসিং রুমে ছিলাম, এমন মানুষদের মধ্যে ভিসেন্তে হলেন সবচেয়ে মানবিক ব্যক্তিত্ব৷''

এসি/জেডএইচ (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়