1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ এবার কোথায় – জানেন না দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনি

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দল জুনের মাঝামাঝি সময়ে যখন ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামবে, তখনো অধিকাংশ অ্যামেরিকান বুঁদ হয়ে থাকবেন রাগবি কিংবা বেইসবলের খবরে৷

বিশ্বকাপ সামনে রেখে রয়টার্স-ইপসোস যুক্তরাষ্ট্রে একটি জনমত জরিপ চালিয়েছে, যাতে প্রতি তিনজন অ্যামেরিকানের মধ্যে দু'জনই বলেছেন, এই টুর্নামেন্টে কি হলো – তা নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই৷ মাত্র সাত শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে চান৷

‘সুপার পাওয়ার' যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজন হয়েছিল – তাও ২০ বছর হয়ে গেল৷ তার দুই বছর পর সেখানে শুরু হয় পেশাদার ফুটবল টুর্নামেন্ট – ‘মেজর লিগ সকার'৷ এই দুই দশকে অ্যামেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা যে বেড়েছে তার প্রমাণ মেলে লিগে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা হিসাব করলেই৷ শুরুতে ১০টি দল নিয়ে শুরু হলেও এখন তা বেড়ে ১৯টিতে দাঁড়িয়েছে৷

Fußball Championship David Beckham

মার্কিন মুল্লুকে ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন ডেভিড বেকহ্যাম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেভিড বেকহ্যাম ও থিয়েরি অঁরির মতো তারকা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণও এই লিগকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছে৷ নিউ ইয়র্ক ইয়াংকির সঙ্গে মিলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সফল দল ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যে গঠন করেছে নতুন দল ‘নিউ ইয়র্ক সিটি ফুটবল ক্লাব', যারা আগামী বছরই এ লিগে খেলতে নামবে৷

ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বেকহ্যামের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠছে মিয়ামির আরেকটি দল, যারা মেজর লিগে খেলতে আগ্রহী৷ কিন্তু বিশ্বকাপকে অ্যামেরিকান ফুটবলের ‘সুপার বোল' বা বেসবলের ওয়ার্ল্ড সিরিজের মতো জনপ্রিয় করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আরো অনেক পথ গড়াতে হবে ফুটবলকে৷

রয়টার্স-ইপসোস জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ অ্যামেরিকান বলেছেন, তারা ফুটবল বিশ্বকাপ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না৷ দুই তৃতীয়াংশের বেশি অ্যামেরিকান জানেন না – এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কোনটি৷

৪৮ বছর বয়সি হোসে ভারগাস যুক্তরাষ্ট্রর হিউস্টনে বসবাস করছেন ২০০৩ সাল থেকে৷ এবার সবগুলো খেলা টেলিভশনে দেখার সুযোগ হয়ত তিনি পাবেন না, তবে নিজের দেশ কলোম্বিয়ার প্রতি তার সমর্থন ঠিকই থাকবে৷

হোসে ভারগাস জানান, তাঁর স্প্যানিশ ভাষাভাষি বন্ধুদের মধ্যেই ফুটবল বেশি জনপ্রিয়৷ তাঁর ভাষায়, ফুটবল এমন একটি খেলা – ইউরোপ আর ল্যাটিন অ্যামেরিকার মানুষই যেটি বেশি দেখে৷

এবারের বিশ্বকাপসহ ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফিফা আয়োজিত সব ফুটবল ম্যাচ ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারের জন্য ২০০৫ সালে ১০ কোটি ডলারে স্বত্ত্ব কিনেছিল এবিসি এবং ইএসপিএন৷ অথচ স্প্যানিশ লিগ সম্প্রচারের স্বত্ত্ব পেতে ইউনিভিশনকে দিতে হয়েছে সাড়ে ৩২ কোটি ডলার৷

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হিস্পানিকদের এক তৃতীয়াংশ জরিপে বলেছেন, তারা ব্রাজিল বিশ্বকাপের দিকে পুরো মাত্রায় নজর রাখবেন৷ ২০১০ সালের পরিসংখ্যান সুমারি অনুযায়ী, হিস্পানিকদের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ৷

গত ৭ থেকে ১১ এপ্রিল ১ হাজার ৪১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অ্যামেরিকানের ওপর এই জরিপ চালায় রয়টার্স-ইপসোস৷ এই জরিপে অংশ নেয়া ফিনিক্সের বাসিন্দা কেলি কোসিন্যু জানান, স্কুলে ফুটবল খেললেও কলেজে বৃত্তি পেতে সুবিধা হবে ভেবে পরে তিনি ভলিবলে মনোযোগ দিয়েছিলেন৷ এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে তারও খুব বেশি আগ্রহ নেই৷

‘‘ফুটবল খেলাটা এখানে সবাই সেভাবে ফলো করে না৷ বাস্কেটবল আর বেইসবলকেই ‘অল-অ্যামেরিকান' খেলা বলে মনে করা হয়৷''

জেকে/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন