বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে পতিতাবৃত্তি বাড়ছে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.05.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে পতিতাবৃত্তি বাড়ছে

বিশ্বকাপে মাতোয়ারা সারা বিশ্ব৷ হাতে আছে আর মাত্র কয়েকটি দিন৷ সবার দৃষ্টি দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে৷ আনন্দের জোয়ার বইছে সেখানে৷ কিন্তু পুরোটাই কি আনন্দ?

default

ফাইল ফটো

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, জোর করে মেয়েদের পতিতালয়ে পাঠানো হচ্ছে, মেয়েদের আনা হচ্ছে পতিতাবৃত্তির জন্য৷ অনেকেই জোর দিচ্ছেন, পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করার ওপর৷

ডার্বান'এ সাত সকালেই প্রায় ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রী একটি ঘরে এসেছে৷ সেখানে তাদের বোঝানো হচ্ছে, জোর করে কেউ যদি তাদের কোথাও নিয়ে যেতে চায়, তাহলে কীভাবে তা প্রতিহত করতে হবে৷ ঘরের প্রতিটি জানালা ভারী পর্দা দিয়ে ঢাকা৷ গুমোট অন্ধকার৷ যারা এসেছে, তাদের বেশির ভাগই মেয়ে৷ এবং এসব মেয়ের উদ্দেশ্যেই প্রয়োজনীয় কথাগুলো বলতে চান বঙ্গিভে মাথেথোয়া৷ বঙ্গিয়ে একজন নান৷ স্থানীয় একটি গীর্জার দায়িত্বে তিনি রয়েছেন৷ তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সংগঠন৷ সংগঠনের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা, বিপদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করা৷ বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে৷ বঙ্গিয়ে এবং তাঁর অন্যান্য সহকর্মীরা এপর্যন্ত প্রায় ১০০টি বিভিন্ন ধরণের আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন৷ বিশেষ করে স্কুলের বাচ্চাদের বুঝিয়েছেন, কীভাবে অপরিচিতদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে৷

বার বার বলা হচ্ছে, ‘‘তোমাদের খুবই সাবধানে থাকতে হবে৷ অপরিচিত কেউ যদি তোমাদের কোন ধরণের খাবার বা পানীয় দেয়, কখনো তা খাবে না, গ্রহণ করবে না৷ এসব খাবার বা পানীয়র মধ্যে মাদক মেশানো থাকতে পারে৷''

এভাবেই সতর্কবাণী উচ্চারিত হচ্ছে এসব সভায়৷ জুলু ভাষায় তা পরিচালনা করা হচ্ছে – যাতে খুব সহজেই যে কেউ বুঝতে পারে৷

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অপহরণের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে৷ ক্যামেরা নিয়ে পাচারকারীরা পথে পথে ঘুরছে৷ অল্প বয়স্ক মেয়েদের ছবি তুলে নিচ্ছে৷ ছবিগুলো চলে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের অতিথিদের কাছে৷ বঙ্গিয়ে বললেন,‘‘ এসব পাচারকারীরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে দরিদ্র এলাকায় তারা সারাক্ষণই ঘোরাঘুরি করছে৷ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিটি স্কুল বন্ধ থাকবে৷ তখন এসব বাচ্চারা কারণ-অকারণে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে, খেলা করবে – তখন তাদের তুলে নেয়াও সহজ হবে৷ বিশ্বকাপ চলাকালে আমাদের বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হবে৷ আমাদের যদি ক্ষমতা থাকতো, সামর্থ্য থাকতো, তাহলে এসব বাচ্চাদের বিশ্বকাপ চলাকালে দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে আমরা নিয়ে যেতাম৷''

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে যে সংগঠন বঙ্গিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেই সংগঠন প্রায়ই সেমিনারের আয়োজন করে থাকে৷ সে সভায় একদিন এসেছিল মান্ডিসা৷ ২৪ বছর বয়স্ক মান্ডিসা জানালো, কীভাবে তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পতিতা হতে বাধ্য করা হয়েছিল৷ মান্ডিসা বলল তাঁর দুঃখের কাহিনী, ‘‘আমাকে প্রথমে মাদক দিয়ে অবচেতন করা হয়৷ আমার কিছুই মনে ছিল না৷ আমার কী হচ্ছে, আমার আশে-পাশেই বা কী হচ্ছে – আমি কিছু টের পাচ্ছিলাম না৷ যে লোকটি আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সে আমাকে একটি ঘরে বন্দী করে রেখেছিল৷ আমার হাত-পা বাঁধা ছিল৷ সে অবস্থায় সে আমাকে ধর্ষণ করে৷ এরপর আমাকে পাঠানো হয় বিভিন্ন খদ্দেরের কাছে৷''

অনেক কষ্ট করে মান্ডিসা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল৷ মুক্ত হওয়ার পরই সে সোজা চলে গিয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে৷ এ বছর বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রায় চল্লিশ হাজার মেয়েকে জোর করে পতিতালয়ে পাঠানোর চেষ্টা হবে – জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ৷

দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্বান'এ আরেক সংগঠন স্ভেট -এর জোর দাবি, পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করা হোক৷ এর ফলে জোর করে কোন মেয়েকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে না৷ সংগঠনের প্রধান ভিভিয়ান লালু জানান, বিশ্বকাপের আগেই তা হওয়া উচিৎ৷ অবৈধ বলেই ঠিক কতজন মানুষ এইড্স রোগে আক্রান্ত তার সঠিক হিসাব কেউ জানে না৷

ভিভিয়ান আরো বললেন, ‘‘ আমাদের ধারণা এই পেশাকে বৈধ করা হলেই এইচ আই ভি বহনকারীদের সঠিক সংখ্যা আমরা জানতে পারবো৷ তখন জোর করে কাউকে এই পেশায় আনা হবে না৷ এইড্স রোগটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে৷ ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ চলাকালে বল হয়েছিল, চল্লিশ হাজার মেয়েকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে পতিতাবৃত্তির জন্য৷ শেষ পর্যন্ত একটি মেয়েকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যে অনিচ্ছায় জার্মানিতে পতিতাবৃত্তির জন্য গিয়েছিল৷ দক্ষিণ আফ্রিকাতেও শেষ পর্যন্ত তা-ই হবে৷ ''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়