1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বিশ্বকাপে কোচের ভূমিকায় মারাদোনা

লোকে বলে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড়, যদিও ব্ল্যাক পার্ল পেলে’রও সে দাবি আছে৷ কিন্তু মারাদোনা এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় কোচের ভূমিকায়৷ সে’ও এক চমক৷

default

চমক ছাড়া মারাদোনা'কে কি ভাবা যায়? মনে করে দেখুন ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা খেলাটির কথা৷ আর্জেন্টিনা জেতে ২-১ গোলে, এবং দুটি গোলই করেন মারাদোনা৷ এবং দু'টি গোলই উঠে যায় ফুটবলের ইতিহাসের পাতায়৷ প্রথম গোলটি মারাদোনার সেই সুবিখ্যাত কি কুখ্যাত ‘‘ঈশ্বরের হাত'', অর্থাৎ হ্যান্ডবল করে দেওয়া গোল৷ মারাদোনা দ্বিতীয় গোলটি করেন ৬০ মিটার দৌড়ে ছ'জন ইংলিশ প্লেয়ারকে ড্রিবল করে পাশ কাটিয়ে - লোকে যাকে বলে ‘‘শতাব্দীর সেরা গোল''৷

মারাদোনার অপর দিকটি হল কেলেঙ্কারির পর কেলেঙ্কারি৷ ১৯৯১-তে ইটালিতে একটি কোকেইন ডোপিং টেস্টে ব্যর্থ হয়ে ১৫ মাসের জন্য সাসপেন্ড হন৷ ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এফেড্রিন সেবনের জন্য৷ ১৯৯৭-এ খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেছে ওজন বাড়ার, কোকেইন সেবনের, এমনকি হার্টের প্রবলেম৷ কিন্তু যে মানুষটির নামে আর্জেন্টিনায় আলাদা মুদ্রা থেকে আলাদা গির্জা আছে, তাকে এতো সহজে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যায় না৷ মারাদোনা সুস্থ হয়ে ফেরেন জনপ্রিয় টিভি হোস্ট হিসেবে কাজ করতে৷ আরো বড় কথা, বাসিল'এর উত্তরসুরী হিসেবে তিনি জাতীয় একাদশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷

Flash-Galerie Argentinien Maradona Hand Gottes

মারাদোনার সেই সুবিখ্যাত কি কুখ্যাত ‘‘ঈশ্বরের হাত'', অর্থাৎ হ্যান্ডবল করে দেওয়া গোল

মনে রাখা দরকার, মারাদোনার কিন্তু কোচ হিসেবে কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না৷ হয়তো সেই কারণেই আর্জেন্টিনা কেঁদে-ককিয়ে শেষ মুহূর্তে প্লে-অফ ছাড়াই কোয়ালিফাই করতে সমর্থ হয়৷ মারাদোনা ততোদিনে ৭৭ জন প্লেয়ারকে পরখ করে বসে আছে৷ আবার সেই বিশ্বকাপ দলই যখন সদ্য ক্যানাডাকে একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ৫-০ গোলে হারিয়ে বসে রইল, তখনও কিন্তু মারাদোনাকে উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায়নি৷ ‘‘এই জার্সি পরে ফ্রেন্ডলি বলে কিছু নেই,'' দলের খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দিয়েছেন মারাদোনা৷

কোচ হবার পর পরই হুয়ান রিকেল্মে'র সঙ্গে তুমুল ঝগড়া, বহুদিন ধরে ওয়াল্টার স্যামুয়েল এবং গঞ্জালো হিগুয়েন'এর ক্যালিবারের খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করা, ভুল তো কম করেননি মারাদোনা৷ সবচেয়ে বড় কথা, তিনি এখনও কোনো ট্যাক্টিকাল সিস্টেম খুঁজে পাননি, যা'তে লিওনেল মেসি'র কাছ থেকে বার্সেলোনার পর্যায়ের পারফর্মেন্স পাওয়া যায়৷

মজার কথা, ১৯৮৬-তেও পরিস্থিতি এই ছিল: মারাদোনা তখন মেসি'র ভূমিকায়৷ কোচ ছিলেন জনতার দু'চক্ষের বিষ কার্লোস বিলার্দো, যাঁর বাছাই নীতিও ছিল উদ্ভট৷ ঠিক সেই বিলার্দো'কেই এবার সহকারী করে এনেছেন মারাদোনা৷ এখন বাকি শুধু লিওনেল মেসি'র মারাদোনার মতো ঝলসে ওঠার৷ তারপর আর্জেন্টিনা যদি সত্যিই মুকুট জয় করে বসে থাকে, তা'হলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়