1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় মা - এক

সারদা দেবীর বিখ্যাত পুত্রদের রচনাতে তাঁর সম্পর্কে কোন কথা বা বিবরণ নেই বললেই চলে৷ মাত্র ছ’বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়৷ সর্বশেষ সন্তান রবীন্দ্রনাথ কি ইতিহাসে উপেক্ষিতা সেই মায়ের কথা মনে রেখেছিলেন?

Rabindranath Tagore was a Bengali polymath. As a poet, novelist, musician, and playwright, he reshaped Bengali literature and music in the late 19th and early 20th centuries. As author of Gitanjali and its profoundly sensitive, fresh and beautiful verse,he won the 1913 Nobel Prize in Literature. Recently few goods of Rabindranath recovered from Bangladesh.

বিশ্বকবির কাজের কিছু স্মৃতিচিহ্ন

রবীন্দ্রনাথের জন্মের সময় সারদা দেবীর বয়স ৩৪-এর মত৷ রবীন্দ্রনাথের রচনায়, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিতে মায়ের উপস্থিতি অবিশ্বাস্য রকম কম৷ রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন তেরো বছর দশ মাস, তখন তিনি মাকে হারান৷ ততোদিনে তাঁর কবিতা লেখা শুরু হয়ে গেছে৷ কবিতা শুনিয়ে সন্দিগ্ধ ও মুগ্ধ করেছেন সবাইকে৷ এমনকি সেকালের বিখ্যাত সাময়িক পত্র ‘তত্ত্ববোধিনী'-তে ‘অভিলাষ' নামে তাঁর একটি দীর্ঘ কবিতাও ছাপা হয়ে গেছে৷ কবিতার নিচে অবশ্য রবীন্দ্রনাথের নাম ছিলো না৷ লেখা হয়েছিলো ‘দ্বাদশ বর্ষীয় বালকের রচিত'৷

মায়ের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেও তিনি মাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি৷ বরং কয়েক মাস পরে ‘হিন্দু মেলার উপহার' শিরোনামে গুরুগম্ভীর দেশাত্মবোধক জাতীয় উদ্দীপনামূলক কবিতা লিখেছেন৷ এটি তাঁর স্বনামে মুদ্রিত প্রথম কবিতা৷

রবীন্দ্রনাথের রচনায় মা বা জননীর উল্লেখ যে নেই, তা নয়৷ তবে সেই মা হলেন দেশ জননী, জগজ্জননী অথবা নিজের সৃষ্ট চরিত্রের মা, নিজের মা নয়৷ মায়ের মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর সুরেশচন্দ্র সম্পাদিত শারদীয় সংকলন ‘আগমনীতে' ‘মাতৃবন্দনা' শিরোনামে তাঁর ছ'টি কবিতা মুদ্রিত হয়৷ সেখানে, অধিকাংশ সমালোচকের বক্তব্য - তিনি নিজের মায়ের বন্দনা করেননি৷

Screenshot der Seite tagoreweb.in Flash-Galerie Rabindranath Tagore ###Hinweis: Bild nur in Zusammenhang mit der Berichterstattung der Seite verwenden!###

বিশ্বকবির কাজের কিছু স্মৃতিচিহ্ন

এমন কি ‘শিশু' অথবা ‘শিশু ভোলানাথ'-এ যে মায়ের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, তার মধ্যেও তাঁর নিজের মায়ের ছায়া অথবা মাতৃস্নেহ কোনোটাই প্রতিফলিত হয়নি৷ বস্তুত যে মায়ের কথা এখানে বলা হয়েছে সেই মায়ের সরব উপস্থিতিও এই সব রচনার মধ্যে নেই৷ মা এখানে নিতান্তই উপলক্ষ্য মাত্র, শিশুর কথার নীরব শ্রোতা, শিশুর স্বপ্নযাত্রার নীরব সঙ্গিনী৷

মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে

মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে

তুমি যাচ্ছ পাল্কিতে মা চড়ে

দরজাদুটো একটু ফাঁক করে

আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার 'পরে

টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে৷

মায়ের এই নীরব ভূমিকা ‘সহজ পাঠ-২', ‘শিশু', শিশু ‘ভোলানাথ'-এর মা বিষয়ক সকল রচনাতেই লক্ষ্য করা যায়৷

মা তাঁকে কেমন স্নেহ করতেন, আদর করতেন, তার স্মৃতিমেদুর প্রতিফলন রবীন্দ্রনাথের রচনায় খুঁজে পাওয়া যায় না৷ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ঘরোয়া'-তে রবীন্দ্রনাথের মাতৃস্মৃতি উদ্ধৃত করেছেন রবীন্দ্রনাথের জবানিতে, ‘‘মাকে আমরা পাইনি কখনো, তিনি থাকতেন তাঁর ঘরে তক্তাপোশে বসে, খুড়ির সঙ্গে তাস খেলতেন৷ আমরা যদি দৈবাৎ গিয়ে পড়তুম সেখানে, চাকররা তাড়াতাড়ি আমাদের সরিয়ে আনতেন যেন আমরা একটা উৎপাত৷ মা যে কী জিনিস তা জানলুম কই আর৷ তাইতো তিনি আমার সাহিত্যে স্থান পেলেন না৷''

রবীন্দ্রনাথের মা সারদা সুন্দরী দেবী সন্তানদের প্রতি উদাসীন ছিলেন, এমন অভিযোগ অনেকে করেছেন৷ সরলা দেবী চৌধুরানী নিজের মা স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘মায়ের আদর কী তা জানিনে, মা কখনো চুমু খাননি, গায়ে হাত বোলাননি৷ মাসিদের ধাতেও এ সব ছিল না৷ শুনেছি কর্তাদিদিমার কাছ থেকেই তাঁরা এই উদাসীন্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন৷ বলাবাহুল্য, এই কর্তাদিদিমা হলেন রবীন্দ্রনাথের মা সারদা দেবী আর স্বর্ণকুমারী দেবী হলেন রবীন্দ্রনাথের বড়ো বোন৷

বস্তুত পক্ষে, সন্তানদের ব্যাপারে সারদা দেবীর এই উদাসীন্য তাঁর মন থেকে ছিলো না, তা ছিলো বনেদী বাড়ির প্রতিষ্ঠিত প্রথা৷ সরলা দেবী চৌধুরানী লিখেছেন, ‘‘সে কালের ধনীগৃহের আর একটি বাঁধা দস্তুর জোড়াসাঁকোয় চলিত ছিল৷ শিশুরা মাতৃস্তন্যের পরিবর্তে ধাত্রীস্তন্যে পালিত ও পুষ্ট হত৷ ভূমিষ্ট হওয়ামাত্র মায়ের কোল ছাড়া হয়ে তারা এক একটি দুগ্ধদাত্রী দাই ও এক একটি পর্যবেক্ষণকারী পরিচারিকার হস্তে ন্যস্ত হত, মায়ের সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক থাকত না৷ জন্মের পরেই ঠাকুরবাড়ির এই রীতি অনুযায়ী শিশু রবীন্দ্রনাথকে মায়ের কোল থেকে স্থানান্তরিত হতে হয় ধাত্রীমাতার কোলে৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথের ধাত্রীমাতার নাম ছিলো দিগম্বরী, সবাই ডাকতেন ‘দিগমী' নামে৷

পনেরো সন্তানের জননী সারদা দেবীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন রবীন্দ্রনাথ৷ সন্তানদের প্রতি মায়ের যে স্নেহ ও মমতা, চৌদ্দ সন্তানের পর রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তা কতোটা পৌঁছেছিলো তা অবশ্য বিবেচনার বিষয়৷ রবীন্দ্রনাথের প্রথম বোন সৌদামিনী দেবী লিখেছেন, ‘‘আমার মা বহু সন্তানবতী ছিলেন এই জন্য তিনি আমাদের সকলকে তেমন করিয়া দেখিতে পারিতেন না...৷''

মা সারদা দেবীর স্নেহ ও আদর যে শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথে পৌঁছায়নি তার খানিকটা প্রমাণ পাওয়া যায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরোয়াতে'৷ ‘ঘরোয়াতে' অবনীন্দ্রনাথ সৌদামিনী দেবী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি উদ্ধার করেছেন, ‘‘আমার বড় দিদিই আমাকে মানুষ করেছেন৷ তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন৷ মার ঝোঁক ছিল জ্যোতিদা' আর বড়দার উপরেই৷ আমি তো তাঁর কালো ছেলে৷ অবনীন্দ্রনাথ অবশ্য মন্তব্য করেছেন, ‘‘সেই কালো ছেলে দেখো জগৎ আলো করে বসে আছেন৷''

প্রতিবেদন: ফরহাদ খান

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন