1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের চাকরিতে বিশেষ কোটা চাই

‘‘বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা গত ৬৮ বছরে লেখাপড়ার সুযোগ পাননি৷ তাই লুকোচুরি করে যারা পড়াশোনা করেছে, তাদের চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা দিতে হবে৷ দিতে হবে ব্যাংক ও বিএসএফ-এ চাকরির সুযোগ৷ বাতিল করতে হবে নিবন্ধনের শর্তও৷''

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন মফিজার রহমান৷ তিনি ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির পঞ্চগড়-নীলফামারী জেলার সভাপতি ছিলেন৷ ছিটমহল বিনিময়ের পর ১১১টি ছিটমহলের বাসিন্দাদের নিয়ে নাগরিক অধিকার সমন্বয় উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এই সমন্বয় কমিটি যুগ্ম আহবায়কও মফিজার রহমান৷

ছিটমহল বিনিময়ের পর জীবনযাত্রায় কেমন পরিবর্তন এসেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মফিজার রহমান বলেন, ‘‘ভোটার আইডি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এখনও তা হাতে পাইনি৷ এছাড়া ঈদের সময় ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছি৷ আগামী ২৫শে অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিটমহলে আসছেন৷ তিনি বাই-সাইকেল, টিন, টিউবওয়েল, হাস, মুরগিসহ ১৭ ধরনের জিনিপত্র দেবেন৷ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে থেকে তিনি এগুলো আমাদের জন্য সংগ্রহ করেছেন বলে শুনেছি৷ বিভিন্ন অফিস আদালতে আমারা যাচ্ছি, সেখানে সম্মান দেয়া হচ্ছে৷ আজ থেকেই জমির কাগজ পেতে শুরু করেছি৷ আসলে এতদিন তো কিছুই ছিল না৷ এখন আস্তে আস্তে সব কিছু পেতে শুরু করেছি৷ আশা করি আরো পাবো৷’’

ওদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রথমবারের মতো সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি দাসিয়ারছড়া সফরে যান৷ বিষয়টি উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও৷



প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছিটমহলবাসীর প্রত্যাশা কী? মফিজার রহমান জানান, ‘‘যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে৷ আমরা যারা আন্দোলন করে আজ বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছি, তাদেরও স্বীকৃতি দিতে হবে৷ মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ভাতা দিতে হবে৷ কারণ আমাদের বয়স হয়েছে৷ লেখাপড়ার বয়স নেই, চাকরিও বয়স নেই৷ তাই বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে৷’’

প্রসঙ্গত, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিয়ে গত ৩১শে জুলাই মধ্যরাতে স্থল-সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে৷ এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি সরকারি সেবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় ছিটমহলবাসী৷ ৩৭ হাজার বাসিন্দাসহ নিজেদের সীমানায় ভারতের এ ধরনের ১১১টি ছিটমহল পেয়েছে বাংলাদেশ৷ একইভাবে ১৪ হাজার বাসিন্দাসহ ভারতের ভেতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল পেয়েছে প্রতিবেশী দেশটি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন