1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের ঈদ মাটি

সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায় রাজধানী ঢাকার বিলবোর্ডগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছ থেকে কোনো বিল পাননি৷ ফলে এবার ঈদ তাদের দুঃখে পরিণত হয়েছে৷

বিজ্ঞাপন দাতারা বিল না দেয়ার পাশাপাশি তাদের অনেকে চুক্তি বাতিলের কথাও বলছেন৷ আর এই দখলদারিত্বের কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন৷

গত ৪ আগস্ট সকাল থেকেই ঢাকার চেহারা পাল্টে যায়৷ রাজধানীর বিলবোর্ডগুলোতে যেখানে বিভিন্ন পণ্য এবং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন শোভা পেত সেখানে দেখা যায় সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরের উন্নয়ন প্রচারণা৷ কিন্তু এই প্রচারণার জন্য সরকার বা আওয়ামী লীগ বিলবোর্ড বোর্ড ভাড়া নেয়নি বা মালিকদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি বলে ডয়চে ভেলেকে জানান বিলবোর্ড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ৷

Bangladesch Dhaka Plakate

রাজধানীতে প্রায় চার হাজার অনুমোদিত বিলবোর্ড আছে

তিনি জানান রাজধানীতে ছোট বড় মিলিয়ে এই বিলবোর্ড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠান৷ সাধারণত যারা বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেন তারা বিলবোর্ডের মালিকদের বিল পরিশোধ করেন ঈদের আগে৷ এবার ঈদের আগেই বিলবোর্ড দখল হয়ে যাওয়ায় কোনো বিজ্ঞাপন দাতাই টাকা দেননি৷ ফলে এইসব প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম আর্থিক কষ্টে ঈদ কাটিয়েছেন৷ কারণ বিজ্ঞাপন দাতারা বিজ্ঞাপনের বিল না দেয়ায় বিলবোর্ড প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দিতে পারেনি৷ মোহাম্মদ রাশেদ জানান, শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপন দাতাদের কেউ কেউ চুক্তিও বাতিল করতে চাইছে৷

রাজধানীতে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নেয়া এরকম বিলবোর্ড আছে চার হাজারের মতো৷ এর প্রায় সবই দখল হয়ে গেছে৷ মোহাম্মদ রাশেদ জানান ছোট বড় মিলিয়ে গড়ে একটি বিলবোর্ড থেকে তাদের বছরে আয় হয় ১২ লাখ টাকা৷ সেই হিসেবে ৪ হাজার বিলবোর্ড থেকে ব্যবসা হয় ২৪০ কোটি টাকা৷ আর তারা বিজ্ঞাপন দাতাদের সঙ্গে সাধারণত এক বছরের জন্য চুক্তি করেন৷ বিলবোর্ড দখল হয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন বিজ্ঞাপন দাতারা৷

Bangladesch Dhaka Plakate

বিলবোর্ড থেকে প্রতি বছর ব্যবসা হয় ২৪০ কোটি টাকা

আর তারা পড়েছেন অসহায় অবস্থার মধ্যে, কাউকে কিছু বলতে পারছেন না৷ তাঁর মতে যদি বিলবোর্ডগুলো একমাসও এভাবে দখল করে রাখা হয় তাহলে সাধারণ হিসেবেই তারা ২০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বেন৷ আর বিজ্ঞাপন দাতারা যদি চুক্তি বাতিল করেন তাহলেতো আর কথাই নেই৷

মোহাম্মদ রাশেদ বলেন সরকারের কোনোপক্ষই স্পষ্ট করে বলছেন না ঠিক কারা এই উন্নয়নের বিলবোর্ড লাগিয়েছে৷ তবে লাগানোর সময় তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, কাজ হয়নি৷ উল্টো তাদের কর্মচারীরা মার খেয়েছেন৷ তিনি বলেন তারা নিজেরা এসব ডিজিটাল ব্যানার সরাতে যাবেননা৷ তাতে সংঘাতের আশঙ্কা আছে৷ তবে সিটি কর্পোরেশনকে তারা বিলবোর্ড দখলের কথা জানিয়েছেন৷ সিটি কর্পোরশেনকে নির্ধারিত ফি দিয়েই তারা এসব বিলবোর্ড তৈরি করেছেন৷ আর তারা শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে পরিস্থিতি জানাবেন৷

এদিকে আাওয়ামী লীগের তথ্য এবং গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেনের কাছে কবে বিলবোর্ড দখলমুক্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা৷ আওয়ামী লীগের কোনো বিষয় নয়৷ সরকারই এ ব্যাপারে ভাল বলতে পারবে৷ তবে সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্বে নিয়োজিত তা তিনি জানাতে পারেননি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন