1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিরোধীদের হাতেই এখন কিরঘিজস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতা

কিরঘিজস্তানে সরকার বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ দেশ ত্যাগ করার পর বিরোধীদল রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের দাবি করেছে৷ বিরোধী নেতা রোজা ওটুনবায়েভা নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছেন৷

default

কিরঘিস্তানের তালাস শহরে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের ছবি

কিরঘিজস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধী পক্ষের নেতা রোজা ওটুনবায়েভা নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করার পর, দেশের সংসদ ভেঙ্গে দিয়েছেন৷ এবং তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে৷ ওটুনবায়েভা প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন৷ কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভ পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন৷ ওটুনবায়েভা বলেন, প্রেসিডেন্ট বাকিয়েভে এখনও পদত্যাগ করেননি এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সমর্থন যোগানোর চেষ্টা করছেন৷ ওটুনবায়েভা বলেন, বাকিয়েভ তার শাসনামলে ক্ষমতার যে অপব্যবহার করেছেন এবং জনগণের ওপর যে দমননীতি চালিয়েছেন, তার জবাব আমরা গতকালই দিয়েছি৷ তিনি বলেন, কিরঘিজস্তানের জনগন দেশে গণতন্ত্র আনতে চায়৷ যা ঘটেছে এটাকে আপনারা বিপ্লব বলতে পারেন, বলতে পারেন, জনগণের বিদ্রোহ৷ অথবা অন্য ভাবে বলা যায়, এটা বিচার বা গণতন্ত্র চাওয়ারই আরেকটি ধরণ৷

এদিকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুটিন টেলিফোনে ওটুনবায়েভার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কিরঘিজস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছেন৷ পুটিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পুটিনের সঙ্গে ওটুনবায়েভার টেলিফোন আলাপটি ছিল মুলত কিরঘিজস্তানের সরকার প্রধান হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে৷ এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ভেস্টারভেলে এক বিবৃতিতে বলেছেন কিরঘিজস্তানে রক্তপাতের ঘটনায় তিনি মর্মাহত৷ তিনি বলেন, দেশটিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যত দ্রুত সম্ভব আবার ফিরিয়ে আনতে হবে৷ ইউরোপিয় ইউনিয়ন কিরঘিজস্তানে মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বৃহস্পতিবার৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, কিরঘিজস্তানের স্বঘোষিত সরকারের বৈধতার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয় নি৷ উল্লেখ্য, মধ্য এশিয়ার এই দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটি আছে৷

কিরঘিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী বিশকেক এবং অন্যান্য শহরে সংঘাতে এই পর্যন্ত ৭৫ জন নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছে৷ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ বুধবার মারাত্মক আকার ধারণ করে৷ এদিন শুধু রাজধানী বিশকেকেই প্রাণ হারায় ১৭ জন৷ শুধু রাজধানী বিশকেক নয়, কিরঘিজস্তানের তালাস সহ আরো কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে৷ সেইসব শহরেও প্রাণহানি ঘটেছে৷ পরে রাজধানী বিশকেকে শুরু হয় লুটপাট৷ বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভের কার্যালয়ে লুটপাট হয়েছে বেশি৷ বিশকেকের রাস্তাঘাটেও লুটপাট শুরু হয়৷ এদিকে কিরঘিজস্তানের স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রধান শেরনিয়াজভ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে লুটেরাদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীকে৷ তিনি টেলিফোনে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিশকেকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই আমি এই নির্দেশ অনুমোদন করেছি৷

তবে বৃহস্পতিবার বিশকেক ছিল অপেক্ষাকৃত শান্ত৷ সরকারি সদরদপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে বিরোধীদলকে৷

বিশকেকের অধিবাসী ৫৫ বছরের কারিবেক৷ তাঁর ভাষায়, বাকিয়েভের দুর্নীতিপরায়নণ সরকার গোটা জাতিকেই ডুবিয়েছে৷ এই কারণেই পুরো জাতি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে৷ এটা সত্যিকারের এক গণবিপ্লব৷

প্রতিবেদক: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

সংশ্লিষ্ট বিষয়