1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিপাকে আছেন পোশাক কর্মী সুমি আবেদীন

বাংলাদেশের তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুনের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পেইন চালানোর পরও ক্ষতিপূরণ মেলেনি৷ ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া আহত পোশাক শ্রমিক সুমি আবেদীন জানান, তিনি এ মুহূর্তে বিপাকে আছেন৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ‘চার্জ টু্ উইন অ্যান্ড মেকিং চেঞ্জ অ্যাট ওয়ালমার্ট' এপ্রিলের ৬ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ে ক্যাম্পেইন চালায় নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিষ্ঠানে৷ তাদের এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাজরীন ফ্যাশানস-এ আহত এবং নিহত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়৷ এই ক্ষতিপূরণ তারা চেয়েছে প্রধানত ওয়ালমার্টের কাছ থেকে৷

ক্যাম্পেইনে তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুনের ঘটনায় আহত সুমি আবেদীনকে (১৭) সামনে দিয়ে আসা হয়৷ সুমির সঙ্গে সেখানে আরো ছিলেন শ্রমিকনেত্রী ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি'-র প্রধান নির্বাহী কল্পনা আক্তার৷

Here is a picture which our Dhaka-Correspondent has sent, giving the right to DW for using the same. Can you please sent it to the CMS? Picture taken by: Harun Ur Rashid Swapan Titel: Sumi Abedin Description: Sumi Abedin, Textile-Arbeiter Keywords: Photo @ Harun Ur Rashid Swapan and DW is permitted to use

পোশাক শ্রমিক সুমি আবেদীন

সুমি আবেদীন জানান যে, ক্যাম্পেইন চালিয়ে দেশে ফিরে আসার পর দেড় মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে৷ কিন্তু এখনও তিনি বা তাঁর কোনো সহকর্মী কোনো ধরণের সহায়তা পাননি৷ সুমি জানান, ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুনের ঘটনার সময় তিনি চার তলায় কাজ করছিলেন৷ আগুন লাগার পর তিনি তিন তলায় নেমে পিছনের জানালা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচেন৷ লাফিয়ে পড়ায় তাঁর ডান পা ও দু'হাত ভেঙে যায়৷ এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি৷ হাঁটা-চলা করতে কষ্ট হয়৷ এরপরেও এই অসুস্থ অবস্থায়তেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ক্যাম্পেইনে অংশ নেন৷ সেখানে তাঁকে মন্ত্রীসহ পদস্থ লোকজনের সামনে কথা বলতে হয়৷ কথা বলেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও৷ সকলের কাছেই তিনি ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন৷ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়গুলি৷

কিন্তু আজও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি তাজরীন ফ্যাশানস-এর আহত ও নিহতের প্ররিবারের সদস্যরা৷ সুমি আবেদীন জানান, তিনি এখনও আশুলিয়ায় তাঁর বাবা-মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে আগের বাসাতেই থাকেন৷ সরকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা সহায়তা ছাড়া কোনো সহয়তা পাননি তিনি৷ সেই টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁর পক্ষে চিকিত্‍সা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে৷ তার ওপর এখন শুরু হয়েছে উল্টো ঝামেলা৷ তাঁর সহকর্মীরা ভাবছেন যে সুমি অ্যামেরিকা থেকে অনেক টাকা নিয়ে এসেছে৷ কিন্তু বাস্তবে সেখান থেকে তিনি একটি টাকাও সহায়তা পাননি৷

Relatives mourn the death of a garment worker after a devastating fire in a garment factory in Savar November 25, 2012. A fire swept through Tazreen Fashion factory in the Ashulia industrial belt of Dhaka, on the outskirts of Bangladesh's capital killing more than 100 people, the fire brigade said on Sunday, in the country's worst ever factory blaze. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: DISASTER BUSINESS EMPLOYMENT TPX IMAGES OF THE DAY)

এই হাহাকার অ্যামেরিকার কানে পৌঁছাবে কি?

প্রতিদিন সুমির সহকর্মীরা তাঁর বসায় আসেন৷ জানতে চান তারা কোনো সহযোগিতা পাবে কিনা৷ তাদের জন্য কোনো টাকা-পয়সা আসবে কিনা৷ এ সবের কোনো জবাব দিতে পারেন না সুমি৷ তিনি শুধু জানান যে, সহযোগিতা পেলে সবাই পাবেন৷ তবে তিনি জানেন না আদৌ অ্যামেরিকা থেকে তাদের জন্য কোনো সহযোগিতা আসবে কিনা৷

সুমি জানান, গার্মেন্টস আবার চালু হবে কিনা তাও জানেন না তিনি৷ এছাড়া, তিনি কোথায় কাজ পাবেন তারও নিশ্চয়তা নেই৷ আর তিনি কবে পুরোপুরি সুস্থ হবেন, তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি৷

‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি'-র প্রধান নির্বাহী শ্রমিকনেত্রী কল্পনা আক্তার ডয়চে ভেলেকে জানান, সুমিকে নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পেইন চালালেও ওয়ালমার্ট ক্ষতিপূরণের কোনো আশ্বাস এখনও দেয়নি৷ তবে লিয়াং ফা আহত ও নিহত শ্রমিকদের মাথা পিছু ১ লাখ টাকা করে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ আর ফিয়ান ডে তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা এবং চিকিত্‍সা সহায়তার কথা বলেছে৷ তবে বাস্তবে এখনও কোনো সহায়তাই পাওয়া যায়নি৷

গত বছরের ২৪শে নভেম্বর সাভারের অশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুন লেগে ১১৭ জন শ্রমিক নিহত হন৷ আহত হন আরো দুই শতাধিক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন