1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিনে পয়সায় কফি পান

কফির দোকানে দুটো কফির দাম দেন কিন্তু পান করেন একটি, আর অন্য কফিটি তুলে রেখে দেওয়া হয় এমন কারো জন্য যাঁর কফির দাম দেওয়ার সামর্থ্য নেই৷ জার্মানিতে এ ধরণের প্রায় ৫০টি কফির দোকান রয়েছে৷

পাতলা কালো চুল আর রুগ্ন চেহারার জন নামের মানুষটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় যায় দিজিয়ানা ইলিচের কফি শপে৷ সেখানে যাঁরা যান তাঁদের সবাইকেই তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন৷ যেমন ‘গৃহহীনদের সংবাদপত্র' যে মহিলার হাতে থাকে, তিনি দু-তিনদিন পরপর আসেন৷ আর তাঁরা সবাই যে কফি পান করেন সেটাও নয়৷ যেমন জন পছন্দ করে গরম চকলেট আর মহিলাটি ভালোবাসেন ফলের নির্যাস দেয়া চায়ের সাথে খানিকটা মধু৷

এই দোকানগুলোতে যিনি কফির অর্ডার দেন, তাঁকে এককাপ কফি আর একটি রসিদ দেওয়া হয়৷ যাঁর কফি কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর জন্য রসিদটি দোকানেই রেখে যান ঐ ক্রেতা৷

‘‘শীত যত বেশি হয় মানুষের আনাগোনা ততটাই বাড়ে এবং তাঁরা গরম পানীয় পান করেন৷ শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে অন্তত তিনজন করে মানুষ এমন কফি খেতে আসেন,'' বলেন ইলিচ৷

হামবুর্গ শহরের ‘লোহাসকফি' নামের এই কফির দোকানটির ভেতরে কমলা রং-এর আলো, বেশ খোলামেলা আর দোকানটা সাজানো হয়েছে সুন্দর বেতের চেয়ার দিয়ে৷ ইলিচ এই কফি শপেরই পরিচালিকা৷ তিনি বলেন, ‘‘এখানে এক কাপ কফির দাম ৩.৬০ ইউরো৷ তবে তা জনের মতো গৃহহীন মানুষদের জন্য নয়, জনের জন্য কফি ‘ফ্রি'৷'' এই কফিকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাসপেন্ড কফি' বা বলা যেতে পারে অন্যদের জন্য আলাদা করে তুলে রাখা কফি৷ বলা বাহুল্য, এই ধরণের কফি শপগুলো জার্মানিতে দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে৷

ইলিচ ইন্টারনেটেই প্রথম এই ধরণের কফি শপের কথা পড়েছিলেন৷ সেখান থেকেই তাঁর এই ভাবনা এসেছে৷ ইন্টারনেটে অনেককিছুই লেখা থাকে, অনেক আইডিয়াই থাকে৷ কিন্তু কোন আইডিয়া আসলে কার, তার আসল মালিককে পাওয়া খুব সহজ নয়৷ তবে কফি কেনার মধ্য দিয়ে সাহায্য করার ব্যাপারটি অভিনব৷

ইলিচ খানিকটা স্মৃতিচারণ করে বলেন স্যাকসনি রাজ্যের ১৭ বছর বয়সি সাসকিয়া ব়্যুডিগারের কথা, যিনি নিজে কফি খায় না৷ তবে সাসকিয়ার ভাষায়, ‘‘আমি ফেসবুক মারফত জেনেছি যে এ ধরণের একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেন এ মুহূর্তে চলছে, যা এরই মধ্যে অনেক দেশেই জনপ্রিয় হয়েছে, শুধু জার্মানি ছাড়া৷''

তারপরই সাসকিয়া গত বছরের ৮ এপ্রিল সরাসরি ইন্টারনেটে দেওয়া ফোন নম্বরে ফোন করেন এবং ফেসবুকে এ সম্পর্কে জানান৷ তার পরের দিন থেকেই সবকিছু পাল্টে যেতে শুরু করে৷ সাসকিয়া বলেন, ‘‘এরপর থেকে অনেকেই ফেসবুকে আমার লেখায় লাইক করতে শুরু করে৷ পরে মারবুর্গ এবং বিলেফেল্ড শহর থেকে কেউ কেউ যোগাযোগও করেন৷ শুধু তাই নয়, বিলেফেল্ডের একটি পত্রিকায় এ সম্পর্কে একটি রিপোর্টও বের হয়৷ তারপর একজন ভদ্রলোক যাঁর টেকনিক্যাল বিষয়ে জ্ঞান আছে, তিনি এগিয়ে আসেন এবং সাহায্য করেন আমাকে৷''

এভাবেই ঐ কফি দোকানের শুরু৷ সাসকিয়া আরো বলেন, এখানে শুধু কফি খাওয়া বা খাওয়ানো নয়, এটা একটা মহৎ উদ্যোগ৷ আসলে এর মধ্য দিয়ে এটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ‘‘যাঁদের সাহায্য প্রয়োজন তাঁদের পাশে আমরা আছি৷''

ইলিচ মনে করেন, এই উদ্যোগটি সফল হবার কারণ সাহায্যকারীরা পর্দার আড়ালে থাকেন বলে৷ সরাসরি কাউকে সাহায্য দেয়া বা কারো পক্ষে সাহায্য নেয়া সেভাবে সব সময় সম্ভব হয় না৷

তবে এই ‘আইডিয়া' সম্পর্কে সমালোচকরা ভিন্নমত পোষণ করেন৷ তাঁদের মতে, এ ধারণাটি একেবারে নতুন নয়৷ বহু বছর আগে নাকি ইটালির নেপলস শহরে এই একই ধরণের কফি শপের প্রচলন ছিল৷

এনএস/ডিজি (ইপিডি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়