1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিদেশি শক্তি সিরিয়ার ঐক্য বিপন্ন করছে: আসাদ

আরব বিশ্বে বিক্ষোভের ঝড় সিরিয়ার শাসক মহলের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সেদেশের প্রেসিডেন্ট আসাদ বুধবার সংসদে এক ভাষণ দিয়েছেন৷

default

বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে বাশার সমর্থকদের মিছিল

‘বিদেশি শক্তি দায়ী'

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সংসদে তাঁর এক ঘন্টার বিরল ভাষণে দেশে বেড়ে চলা প্রতিবাদ বিক্ষোভকে বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷ বলেছেন, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও সামাজিক নেটওয়ার্কগুলি ষড়যন্ত্রকারীদের হাতিয়ার৷ তাঁর মতে, ইসরায়েলের স্বার্থে সিরিয়ার ঐক্য ও অখণ্ডতা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ এমন সব বিক্ষোভকারীর দাবি মেনে তিনি কোনো মৌলিক সংস্কার করতেও রাজি নন৷ জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবি সম্পর্কেও তিনি মুখ খোলেন নি, যদিও রবিবার তাঁর এক উপদেষ্টা এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ যারা সিরিয়ার স্বার্থ বিপন্ন করে পথে নামছে, তাদের চরম হুঁশিয়ারি দেন আসাদ৷ ফলে বিদ্রোহীরা আগামী শুক্রবার দেশজুড়ে বড় বিক্ষোভের যে ডাক দিয়েছে, তার পরিণতি কী হতে পারে, তা অনুমান করা যেতে পারে৷

Syrien Fernsehrede von Bashar Assad in Damaskus

প্রেসিডেন্টের ভাষণ শুনেছেন লোকজন ঘরে ঘরে

সংস্কারের সদিচ্ছা

আরব জগতে যে পরিবর্তনের হাওয়া চলছে, তার থেকে সিরিয়া যে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, এই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন আসাদ৷ তিনি বলেন, গোটা অঞ্চলে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে বলে আমরা মনে করি৷ সিরিয়াও আরব বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়৷ কিন্তু তাঁর মতে, বাকি দেশের সঙ্গে সিরিয়ার কোনো তুলনা হয় না৷ মানুষ সংস্কারের দাবি করলে তা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, বলেন আসাদ৷ উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাশার আল আসাদ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছেন৷ তবে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নে তিনি কোনোরকম আপোশ করতে এখনো প্রস্তুত নন৷ তাছাড়া মনে রাখতে হবে, টিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া বা অন্যান্য দেশের তুলনায় সিরিয়ার পরিস্থিতি ভিন্ন৷ সেদেশে প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রতি জনসাধারণের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন রয়েছে৷

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রেসিডেন্ট আসাদ তাঁর ভাষণে কড়া অবস্থান নিলেও তাঁর প্রশাসন গত সপ্তাহ থেকেই কিছু সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ কিন্তু সরকার বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করছে, এমন একটা চিত্র তুলে ধরতে প্রস্তুত নয় প্রশাসন৷ বাশার আল আসাদ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার নেতা বলে পরিচিত৷ সহজে তিনি বিচলিত হন না৷ তিনি ও তাঁর প্রশাসন প্রকাশ্যে বলে চলেছে, যে বিক্ষোভকারীদের উপর হিংসাত্মক দমন নীতি প্রয়োগ করা হবে না৷ বাস্তব চিত্র অবশ্য ভিন্ন৷ নিরাপত্তা বাহিনী কড়া হাতে বিক্ষোভ দমন করে চলেছে৷ শুক্রবার যদি সেই দমন নীতি আরও বড় আকার ধারণ করে, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আসাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, সেটাই এখন অপেক্ষা করে দেখতে হবে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: ফাহমিদা সুলতানা