1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিদেশি বংশোদ্ভূত শিশুদের জন্য পালক পরিবার

জার্মানিতে শিশুদের পারিবারিক নির্যাতন বা অযত্নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসে শিশুরক্ষা কেন্দ্রগুলি৷ বছরে প্রায় ৩২ হাজার শিশুকে উদ্ধার করে তারা৷ এর মধ্যে প্রতি পাঁচ জনে এক জন বিদেশি বংশোদ্ভূত৷

ausländischen Kindern

বিদেশী বংশোদ্ভূত শিশুরা পড়ালেখা করছে স্কুলে

সাধারণত জার্মান পরিবারগুলিই এই সব অসহায় শিশুদের লালন পালনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে৷ এক্ষেত্রে যাতে অভিবাসী পরিবারগুলিও এগিয়ে আসে, সেবিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে এখন৷

তুর্কি বংশোদ্ভূত হোসেইন শাহিনবাশ এবং তাঁর জার্মান স্ত্রী ডিয়ানা পালক বাবা মা৷ ১২ বছরের আইলিন ও তার ১১ বছরের ভাই ৫ বছর ধরে বসবাস করছে তাঁদের সঙ্গে৷ পালক সন্তানের ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহের কথা জানতে চাইলে ডিয়ানা শাহিনবাশ জানান : ‘‘আমার কথা বলতে পারি যে, আমি নিজেও একজন পালিত সন্তান৷ আমার পালক মা না থাকলে আমার যে কী দশা হত কে জানে ? আমার নিজের এই অভিজ্ঞতাটা অন্যদেরও দিতে চাই আমি৷''

নিজেদের দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও তারা আরো দুই বাচ্চার লালন পালনের ভার নিয়েছেন৷ এ প্রসঙ্গে হোসেইন শাহিনবাশ বলেন : ‘‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে পালক বাচ্চাদের প্রতিক্রিয়াটা বুঝতে পারা রীতিমত এক চ্যালেঞ্জ৷ তারা যেটাকে অনেক সময় স্বাভাবিক বলে মনে করে, তা যে আসলে স্বাভাবিক নয়, তা তাদের বোঝানো বেশ কঠিন৷''

Kinder in Deutschland

জার্মানিতে বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা ফৌজদারি অপরাধ

জার্মানিতে পালক সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে৷ মা বাবার বয়স ৬৫-এর বেশি হতে পারবেনা, নিয়মিত উপার্জন থাকতে হবে তাদের, বাসায় পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে ইত্যাদি৷ পালক সন্তানের জন্য তাঁরা শিশুরক্ষা কেন্দ্রগুলির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন৷ সাত বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের জন্য মাসে ৬৭০ ইউরো, এর চেয়ে বেশি বয়সি সর্বোচ্চ ১৮ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের জন্য ৮২০ ইউরো পর্যন্ত দেয়া হয়ে থাকে৷ এই নিয়মটা অবশ্য এক এক রাজ্যে এক এক রকম৷ জার্মানিতে এখন ৫৪ হাজারের মত শিশু ও কিশোর পালক পরিবারে বসবাস করছে৷ এর মধ্যে ১০ হাজার বিদেশি বংশোদ্ভূত৷

অন্যদিকে, অভিবাসী পালক পরিবারের সংখ্যা খুব কম৷ কেননা অভিবাসী পরিবারগুলি অপরিচিত ছেলেমেয়েদের লালনপালনের ভার নিতে খুব একটা আগ্রহী নন৷ নের্মিন ইউমার্টাচি কোলন শহরের একজন সমাজকর্মী৷ ২০ বছর ধরে বিদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলিকে দেখাশোনা করছেন তিনি৷ তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারেন যে, মুসলিম পরিবারগুলি পালক বাচ্চা নিতে সাহস করেননা৷ কেননা পদ্ধতিটাই তাদের জানা নেই৷ এছাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করতেও দ্বিধা রয়েছে তাদের৷ এ প্রসঙ্গে ইউমার্টাচি বলেন : ‘‘পালক মা বাবা হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ তাদেরও যে রয়েছে, তা তারা জানেনই না৷ আমাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, ব্যাপারটা কী পুলিশকে জানানো হয় ? বিদেশি সংক্রান্ত আইনের দিক দিয়ে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না তো ? পালক বাচ্চা স্কুলে কোনো অসুবিধায় পড়বেনা তো ? ইত্যাদি৷''

Kinderliederkongress

বিদেশী বংশোদ্ভূত শিশুরাও রাখতে পারে সমান অবদান

তাই সমস্যাগ্রস্ত অভিবাসী পরিবারগুলি থেকে যে সব বাচ্চাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়, তাদের অধিকাংশেরই গতি হয় শেষ পর্যন্ত শিশু আশ্রমে৷ পালক পরিবারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় তারা৷ শিশুরক্ষা কেন্দ্রগুলি কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না৷ একমাত্র ব্যতিক্রম হাম শহরের দপ্তরটি৷ কয়েক বছর ধরে পালক পরিবার হিসাবে অভিবাসী পরিবারকেও খুঁজছে তারা, যাতে বিদেশি বংশোদ্ভূত বাচ্চাদের লালনপালনের ভার তাদের ওপর দেয়া যায়৷ হাম শহরের দত্তক ও শিশুরক্ষা কার্যালয়ের এরিক ম্যুলার এ প্রসঙ্গে বলেন : ‘‘প্রথমত, এই সব বাচ্চা আচার আচরণের দিক দিয়ে কিছুটা পরিচিত পরিবেশে বড় হতে পারবে, এটা একটা ভাল বিষয়৷ দ্বিতীয়ত, যে সব সমস্যাগ্রস্ত অভিবাসী পরিবারের কাছ থেকে বাচ্চাদের উদ্ধার করা হয়, তারাও এতে কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন৷ বলেন, আমার সন্তানরা আমার কাছে থাকতে পারছেনা এটাই যথেষ্ট কষ্টকর৷ কিন্তু তাদের যদি পরিচিত কোনো পরিবারে বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে পাঠানো হয়, তাহলে অন্তত একটা সান্ত্বনা পাওয়া যায়৷''

এছাড়া অন্যান্য বিষয়েও অভিবাসী পরিবারগুলিকে চোখ খুলতে হবে৷ পারিবারিক সংকটে তারা সঠিক সময়ে পরামর্শ কেন্দ্রগুলির কাছে যায়না৷ সমস্যা চরমে উঠলেই কেবল তাদের টনক নড়ে৷

অভিবাসী পরিবারে শিশুরক্ষা বিষয়টি নিয়ে তেমন গবেষণাও হয়নি জার্মানিতে৷ এ প্রসঙ্গে ডর্টমুন্ড শহরের শিক্ষাবিদ আহমেত টপ্রাক বলেন : ‘‘জার্মানিতে এই বিষয়টির প্রতি অবহেলা করা হয়েছে৷ আমরা শিশু রক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করিনা, তারা কোথা থেকে এসেছে৷ সে কারণে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়৷ বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা থাকলে তাদের পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কী ভাবে কথা বলা যায় তাও মাথায় রাখতে হবে৷''

‘অভিবাসী পরিবারে শিশুরক্ষা' এই শিরোনামে একটি সমীক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন টোপ্রাক৷ অভিবাসী পরিবারের বাচ্চাদের অবস্থা নিয়ে বছর দুয়েক ধরে চলছে সমীক্ষাটি৷ এই সব পরিবারের বাচ্চাদের বিশেষ কী ধরনের বিপদ আপদ হতে পারে, মা বাবারা কেমন সাহায্য সহযোগিতা পেতে পারেন, তাই নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে সমীক্ষায়৷ ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ফলাফল জানা যাবে৷ সমীক্ষাটির লক্ষ্য হল : অভিবাসী পরিবারের মা বাবার সঙ্গে মিলে মিশে বাচ্চাদের অধিকার রক্ষায় তৎপর হওয়া৷ টোপ্রাক বলেন : ‘‘এটা একটা নতুন ধরনের উদ্যোগ৷ অভিবাসী পরিবারের বাচ্চাদের দেখভালের দিকে লক্ষ্য রাখতে হলে তাদের সংস্কৃতির দিকটাও মাথায় রাখতে হবে৷ তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷ ফলাফলের জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়