1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

বিদেশি পর্যটকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ৷ এই দেশের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ বালুময় সমুদ্র সৈকত, রয়েছে সুন্দরবন আর অসাধারণ সুন্দর পাহাড়ি এলাকা৷ আর অতিথিপরায়ন সাধারণ মানুষ৷ তা সত্ত্বেও বিদেশি পর্যটকদের বড় ঘাটতি কেন?

পর্যটনের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ কতটা সেটা বোঝা যায় ছোট্ট একটা পরিসংখ্যানে৷ গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যটক কোন দেশ থেকে গিয়েছিল জানেন? বাংলাদেশ থেকে৷ হ্যাঁ, বাংলাদেশের মানুষ পর্যটক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করছেন ভারতে৷ এতে করে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে দেশটি, আর এই লাভ সব দেশই চায়৷

শুধু ভারত কেন, ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন বাংলাদেশীরা৷ এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে৷ তবে হতাশার দিকে হচ্ছে, বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন বাড়ছে না৷ বিশ্বব্যাংকের হিসেবে গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে গিয়েছিল৷

আর ২০১৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল এক লাখের কিছু বেশি৷ গত জুনে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজন বিদেশি নিহতের ঘটনার পর সংখ্যাটি যে কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷

তবে একটি হামলা একটি দেশের পর্যটন খাতকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে এমনটা ভাবাও বোধহয় ঠিক নয়, কেননা, সন্ত্রাসী হামলা শুধু বাংলাদেশে হয় না, বিশ্বের অনেক ধনী রাষ্ট্রেও হচ্ছে৷ তাই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারলে এই হামলার ক্ষত নিরাময়ে খুব বেশিদিন লাগবে না বলে আমার বিশ্বাস৷

আসলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের যা নিশ্চিত করা উচিত, তা হচ্ছে ‘স্বাধীনতা'৷ পর্যটকরা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে যখন কোথাও বেড়াতে যান, তখন সেখানে নিজের স্বাধীনতাটুকু নিশ্চিত করতে চান৷

এর মধ্যে থাকতে পারে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সঙ্গীকে নিয়ে মুক্তভাবে বিচরণের সুযোগ৷ সমুদ্রতটে একজন পশ্চিমা পর্যটক বিকিনি পরে ঘুরতে চাইবেন, যেটা খুবই স্বাভাবিক৷ অনেক মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও সেটা স্বাভাবিকভাবেই নেয়া হয়৷ কিন্তু বাংলাদেশে বিষয়টি কি সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে? 

বিকিনি পরাটাও ব্যক্তি স্বাধীনতার একটি অংশ৷ কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিন এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা বাড়তে পারে৷ এর সঙ্গে যোগ হতে পারে পর্যটন এলাকাগুলোতে রাতের বেলা তাদের মুক্তভাবে বিচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়টি৷ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক৷ যেসব এলাকায় বিদেশি পর্যটক যেতে পারেন, সেসব এলাকার মানুষকে পর্যটন কিভাবে আর্থিকভাবে তাদের লাভবান করতে পারে, সেই বিষয়ে সচেতন করা যেতে পারে৷ তখন স্থানীয়রাই চাইবেন, বিদেশি পর্যটক বেশি করে আসুক৷ আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকেও আরো দায়িত্বশীল হতে হবে৷

আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেয়ার আরেকটি বড় উপায় হচ্ছে বিজ্ঞাপন৷ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চমৎকার সব বিজ্ঞাপন প্রচার করে৷ এসব বিজ্ঞাপনের মধ্যেই একজন পর্যটক দেশটিতে কতটা স্বাধীনতা পাবেন সেটা বুঝিয়ে দেয়া হয়৷ আমার মনে হয়, বাংলাদেশ এই দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে আছে৷ বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে, দেশটির এমন সব দিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে৷ এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে৷ ইংরেজি ভাষায় ভ্রমণ বিষয়ক বিভিন্ন ব্লগে যাতে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক লেখালেখি করা হয়, সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে জনপ্রিয় নারী ব্লগার ও ভিলগারদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে৷ তাদের লেখালেখি বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বাড়াতে পারে৷

বন্ধুরা, দেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করতে আর কী করা যেতে পারে? আপনাদের মতামত জানা, লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়