1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

বিদেশি নাম হলে হতে হয় বৈষম্যের শিকার

জার্মানিতে শিক্ষানবিশের কাজ পাওয়া বিদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের জন্য সহজ নয়৷ একথাটা সবাই জানে৷ কিন্তু নতুন এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে নামের কারণেও তাঁদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়৷

জার্মানি সমানাধিকার ও সমান সুযোগের দেশ বলে পরিচিত৷ কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক সমীক্ষার ফলাফল দেখে এ ব্যাপারে সন্দেহ জাগে৷ গবেষকরা সমীক্ষায় দেখিয়েছেন একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষানবিশির কাজ পেতে বৈষম্যের শিকার হন৷

বৈষম্যজনিত সমস্যা

‘‘জার্মানিতে আমাদের গুরুতর বৈষম্যজনিত সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়'', বলেন ইয়ান শ্নাইডার৷ তিনি সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছেন৷ ৩৬০০ ‘টেস্ট-আবেদনপত্রের' মূল্যায়ন করে যে ফলাফল তিনি পেয়েছেন, তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে৷

আবেদনপত্রে তুর্কি নাম থাকলে পরীক্ষায় একই ধরনের ফলাফল করা সত্ত্বেও জার্মানদের ইন্টারভিউতে ডাক পড়ার সম্ভাবনা বেশি, বলেন স্নাইডার৷

গবেষকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানবিশের বিজ্ঞাপন দেখে সমীক্ষাটি চালান৷ এতে একটি আবেদনপত্রে তুর্কি নামের একজন অন্য আরেকটি আবেদনপত্রে জার্মান নামের আর একজনকে দিয়ে একই পদের জন্য দরখাস্ত করান তাঁরা৷ এই দুই টেস্ট-প্রার্থী সারা জার্মানিতে ১৮০০ প্রতিষ্ঠানে মোটর গাড়ির মেকানিকস এবং অফিস ক্লার্কের শিক্ষানবিশির পদের জন্য আবেদন করেন৷

জার্মান নামের কল্পিত আবেদনকারী গড়ে পাঁচটি দরখাস্তের পরই সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণ পান৷ কিন্তু তুর্কি নামের আবেদনকারী গড়ে সাতটি দরখাস্তের পর ইন্টারভিউ-এর ডাক পান৷

সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী এটা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের আকারের ওপর৷ ছয় বা তার চেয়ে কম কর্মী নিয়ে গঠিত যে সব প্রতিষ্ঠান, বৈষম্যও সেখানে বেশি৷ বলেন স্নাইডার৷

গেড়ে বসে বদ্ধমূল ধারণা

সমীক্ষার উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অসম আচরণ করেন না৷ নেতিবাচক কিংবা বাঁধাধরা বদ্ধমূল ধারণা তাদের মনে এতটাই গেড়ে বসে, যে তা থেকে বাইরে আসতে পারেন না তাঁরা৷ বিশেষ করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকরা তাদের পরিচিতদের মধ্য থেকে কর্মী নিয়োগ দিতে আগ্রহী৷ গবেষকরা এই ধরনের বৈষম্য দূর করার জন্য কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন: প্রথমত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-কলকারখানাতে আবেদনের প্রক্রিয়াটা সুনির্দিষ্ট মানের হওয়া উচিত৷ দ্বিতীয়ত সমান সুযোগ রক্ষা করতে হলে আবেদনপত্রকে নামহীন করা যেতে পারে৷

‘‘আমরা মনে করি এমন একটি সফট ওয়্যার তৈরি করা উচিত, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলিও খুব বেশি খরচ না করে এনকোডেড আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য মূল্যায়ন করতে পারে৷'' এর ফলে নামের কারণে বৈষম্য আর ঘটবে না৷

আন্তঃসাংস্কৃতিক বিষয়ক শিক্ষা

এছাড়া প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিতে হবে৷ গুরুত্ব দিতে হবে আন্তঃসাংস্কৃতিকবিষয়ক শিক্ষার ওপর৷ এতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রশিক্ষকরা সমস্যাটি সম্পর্কে সংবেদনশীল হতে পারেন৷

কেননা আজ যেখানে জার্মানিতে বিশেষজ্ঞ কর্মী অভাব প্রকট, সেখানে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই৷ আবেদনকারীদের সমস্ত সম্ভাবনাকেই কাজে লাগানো উচিত৷ তিনি জার্মান বা অভিবাসী যেই হোন না কেন৷ এই মত প্রকাশ করেন স্নাইডার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়