1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ‘ইন্টারকালচারাল কম্পিটেন্স’ সমস্যা

ইন্টারকালচারাল কম্পিটেন্স-এর অর্থ হল, অন্য দেশ, অন্য পরিবেশ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলার ক্ষমতা৷ ইউরোপে এই কম্পিটেন্স বাড়ানোর জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সেমিনার এবং কর্মশালা৷

University, Campus, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, বিশ্ববিদ্যালয়,

ইন্টারকালচারাল ট্রেনার টিনা প্যাটেল৷ তিনি একই সঙ্গে কোচ এবং কনসালটেন্ট৷ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সেতু গড়তে তিনি সাহায্য করেন৷ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য যখন এক জায়গায় এসে জড়ো হয়, তখন কীভাবে সম্পূর্ণ অন্য দেশের, অন্য পরিবেশের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, পরিচিত হতে হয় – তা তিনি ব্যাখ্যা করেন৷ বিশেষ করে আজকাল কাজ এবং পড়াশোনার জন্য মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে৷ সময় কাটাচ্ছে, ভিন্ন সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশছে৷ এই সময়গুলোতে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন সমস্যা৷ সেসব সমস্যার সমাধান দেন টিনা প্যাটেল৷

টিনা প্যাটেল নিজেই আয়োজন করেন বিভিন্ন কোর্সের৷ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের কীভাবে এই কোর্স সাহায্য করতে পারে? বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ অ্যামেরিকার ছাত্র-ছাত্রীরা যদি জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আসেন, তাহলে এই কোর্স থেকে কোন ধরণের শিক্ষা তারা গ্রহণ করবেন ? টিনা প্যাটেল বললেন, ‘‘এশিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়েই শুরু করছি৷ ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল বা পাকিস্তানের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমবার জার্মানিতে অনেক স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে আসেন৷ তাঁদের অনেককেই বেশ কিছু আত্মত্যাগ করতে হয়৷ এর পরিবর্তে তারা একটি বিদেশি ডিগ্রি লাভ করতে চান – যেমন, পিএইচডি, মাস্টার্স বা ব্যাচেলর ডিগ্রি৷ তারা সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান৷ ভিন্ন সংস্কৃতি এবং পরিবেশ থেকে আসার কারণে অনেক সময়েই তারা ব্যর্থ হন৷ তারা পড়াশোনা শেষ করতে পারেন না৷ অনেকেই চাকরির চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদেশে থাকতে চান না৷ তখন আমি তাদের সাহায্য করি, নতুন একটি পরিবেশে কীভাবে নিজেকে খাপ-খাওয়ানো যায়, সবকিছু গ্রহণ করে নিজের জীবনকে আরো অনেক সহজ করা যায় – সে বিষয়ে৷ পার্থক্যগুলো আমি তুলে ধরি, সমস্যাগুলো আমি সমাধানের চেষ্টা করি৷''

Reinhold Messner setzt sich für Hochland-Tee aus Nepal

কফির কাপ হাতে নিয়ে আড্ডাও নতুন কিছু নয়

জার্মান সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য

নিজেকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূলনীতি সম্পর্কে টিনা প্যাটেল বলেন, সবাইকে চেষ্টা করতে হবে নিজ নিজ ক্ষেত্র খুঁজে বের করার৷ আমার নিজের ভেতর যে দুর্বলতা আছে তা আমি জানবো, অন্য কেউ নয়৷ তেমনি আমার গুণগুলোও আমি জানবো৷ একেক জন একেক রকম৷ এটা মাথায় রাখতে হবে৷ তবে আগে থেকে নতুন দেশ সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান থাকলে তা সবসময়ই সাহায্য করবে৷ জার্মানরা ঘড়ির সময় ধরে চলাফেরা করে৷ একটুও এদিক ওদিক হয় না৷ অথচ ভারত-বাংলাদেশে বিষয়টি ভিন্ন৷ জার্মানরা সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করে, শুনতেও পছন্দ করে৷ ‘এটা আমি পছন্দ করছি না বা এটা করতে রাজি নই' – এ ধরণের কথা খোলাখুলিভাবে বলাই শ্রেয়৷ এই দেশে তাই প্রচলিত৷ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের ব্যক্তিত্ব, অন্যের প্রতি নিজের উদারতা, সহমর্মিতা প্রদর্শন করা৷

বেশ জোর দিয়েই টিনা প্যাটেল বললেন জার্মান সংস্কৃতিকে গ্রহণ করা এবং জার্মান সমাজে নিজেকে একাত্ম করার প্রথম শর্ত হল জার্মান ভাষায় নিজেকে পারদর্শী করা৷

ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা কী করবেন, কী করবেন না

এখন পর্যন্ত কোন ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা ? টিনা প্যাটেল তাদের কীভাবে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছেন? টিনা প্যাটেল জানান, ‘‘এখানকার পড়াশোনার নিয়ম কানুন ভিন্ন৷ ক্লাসে অধ্যাপক সবসময়ই আশা করেন ছেলে-মেয়েরা প্রশ্ন করুক, নিজ থেকে কিছু বলুক৷ স্বাধীনভাবে চিন্তা-ভাবনার ওপর জোর দেওয়া হয়৷ যেসব ছাত্র-ছাত্রী চুপচাপ থাকে, তাদের নিয়ে অধ্যাপকরা সমস্যায় পড়েন৷ আমি প্রায়ই শুনেছি, অধ্যাপকের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যই ওরা কোন প্রশ্ন করে না৷ ‘যদি প্রফেসর বিরক্ত হন ?'– এই চিন্তা সবসময়ই মাথায় ঘোরে৷ অথচ এটা একটি ভুল ধারণা৷ এ থেকেই শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি৷ এখানে প্রফেসরের সঙ্গে লাঞ্চে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক৷ কফির কাপ হাতে নিয়ে আড্ডাও নতুন কিছু নয়৷ অথচ এখানেই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে৷ আরেকটি বিষয় হল এখানে প্রফেসররা ‘স্যার' ডাকটি একেবারেই পছন্দ করেন না৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়