1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বিদেশি অর্থায়ন কমা মানেই জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ নয়'

সন্ত্রাস দমন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ, জানাচ্ছে সিআরআই৷ তাদের কথায়, ২০১৬ সার সন্ত্রাস বিরোধী অর্থায়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো৷

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ উন্নত অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন৷ তাতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার তালিকায় ৬.৪ পয়েন্ট পেয়ে ভারতের পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ৷

সম্প্রতি মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর ক্ষেত্রেও এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের একটি রিপোর্টে বাংলাদেশকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও সহিংস চরমপন্থা রোধে বেশ কিছু আইন তৈরি করা হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট ২০১২ এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স অ্যাক্ট ২০১২৷

অন্যদিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সোমবার বলেছেন, গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার জন্য যে অর্থ লেগেছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে৷ প্রাথমিক তদন্তে ঐ টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ তবে এ মুহূর্তে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন বলেও জানান তিনি৷

অডিও শুনুন 06:16

‘জঙ্গিরা নানাভাবে তারা অর্থ সংগ্রহ করতে পারে’

একদিকে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, জঙ্গিবাদে বিদেশি অর্থায়ন কমছে৷ অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক হামলার অর্থ এসেছে বিদেশ থেকে৷ তাহলে বিষয়টা কেমন হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিদেশি অর্থায়ন কমা মানেই যে জঙ্গি তৎপরতা কমেছে, এটা বলা যাবে না৷ তাছাড়া সব সময় বিদেশ থেকে অর্থ আসবে, এমনটা তো নাও হতে পারে৷''

তিনি বলেন, ‘‘দেশেই অর্থের ‘সোর্স' থাকতে পারে৷ বাংলাদেশে যে কালো টাকার প্রভাব সেই কারণে এখন দেশ থেকেই তারা অর্থ তুলতে পারে৷ এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেহেতু জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে, সেহেতু বিদেশ থেকে অর্থ আসা কমলেই বুঝতে হবে যে, দেশের মধ্যে তাদের অর্থের উৎস বেড়েছে৷ আসলে নানাভাবে তারা অর্থ সংগ্রহ করতে পারে৷''

সিআরআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের বিষয়টি শনাক্ত করার জন্য ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে৷ ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায়৷ সদস্যপদ পায় মানি লন্ডারিং বিষয়ে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপেরও৷ এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স তাদের ‘গ্রে তালিকা' থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করে নেয়৷ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও একই অভিমত ব্যক্ত করা হয় এবং বর্তমান সরকারের প্রশংসা করা হয়৷

সন্ত্রাসে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন রোধ সংক্রান্ত এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশ ফিনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সামর্থ্য বাড়াতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে৷

বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘‘এই গবেষণা তারা কীভাবে করে, সেটা আমরা জানি না৷ কারণ একটা গবেষণা অনেককিছু মেনে করতে হয়৷ একজন আওয়ামী লীগ নেতার তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়৷ ফলে তারা যে সরকারের সাফল্যের দিকটা তুলে ধরবে, সেটাই তো স্বাভাবিক৷''

ওদিকে মনিরুল ইসলাম জানান, গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার জন্য অর্থ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, হুন্ডির মাধ্যমে৷ তিনি বলেন, ‘‘হামলায় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেটা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পুরো ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কিছুটা জানতে পেরেছেন৷ অর্থ ও অস্ত্র – দু'টোই বাইরে থেকে এসেছে৷ অর্থ এসেছে হুন্ডির মাধ্যমে৷ তাও আবার প্রায় ১৪ লাখ টাকা এসেছে একবারে৷ এই টাকা জঙ্গিরা অস্ত্র সংগ্রহ ও বাসা ভাড়ার কাজে লাগিয়েছে৷ যিনি এই অর্থটা গ্রহণ করেছেন, তার পরিচয়ও পাওয়া গেছে৷ এবার তাকে আটক করার অভিযান চলছে৷ এছাড়া এই অর্থ কোন দেশ থেকে এসেছে তা জানা গেলেও কোন ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে, তা এখনো জানা যায়নি৷ তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে৷''

বন্ধুরা, আপনারা কী মনে করেন? বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় বিদেশি অর্থায়ন কমার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কি কমেছে? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও