1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বিতর্কে মোবাইল কোর্ট, বাতিলই সমাধান?

ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে একজন চিকিৎসককে জেল দেয়ার ঘটনায় মোবাইল কোর্ট ফের বিতর্কের মুখে পড়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে অপব্যবহারের৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কোর্ট অসাংবিধানিক, তাই বাতিলই এর সমাধান৷

মোবাইল কোর্ট

ফাইল ছবি

গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে গাড়ি আগে-পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বড় ছেলে মিনহাজের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়৷ এ সময় ডা. সালাহ উদ্দিন এগিয়ে গিয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে এডিসি পরিচয় না দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন৷ পরে এডিসি শেখ মুর্শিদ ইসলাম পুলিশ দিয়ে ডা. সালাহ উদ্দিনকে স্কুল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে যান এবং মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) বসিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তিন মাসের সাজা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন৷ পরে ওই চিকিৎসক অবশ্য ছাড়া পান এবং মামলা থেকেও খালাস দেয়া হয় তাঁকে৷ আর এডিসিকে করা হয় ওএসডি৷

এই ঘটনায় হাইকোর্টে রিটও হয়েছে৷ আদালত ১৩ ডিসেম্বর এডিসি এবং মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে তলব করেছেন৷

এর আগে ২০১১সালে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুল হাসেমের দুর্নীতির  সংবাদ প্রকাশ করে ‘দৈনিক সিলেট বাণী' নামে স্থানীয় একটি পত্রিকা৷ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে প্রতিবেদক আকবর হোসেনকে জেল দেন ইউএনও৷ পরে আকবর মোবাইল কোর্টের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করলে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে আদালত তৎকালীন ইউএনও আবুল হাসেমকে ছয় মাসের জন্য ওএসডি'র নির্দেশ দিয়েছিল৷

মোবাইল কোর্টের অপব্যবহারেরএরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে৷ সংবাদ মাধ্যমের খবরে গত দুই বছরে এরকম অন্তত ২৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

অডিও শুনুন 01:52

‘মোবাইল কোর্ট সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি’

চলতি বছরের ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট৷ একইসঙ্গে, এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত৷ রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত স্বরূপ৷ এটি ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতিরও পরিপন্থি৷ রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্ম-কমিশনের সব সদস্য প্রশাসনিক নির্বাহী৷ একজন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না৷

পরে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করে আপিল বিভাগ৷ রিট আবেদনটি এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

লক্ষ্মীপুরে ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম এর আগে হাইকোর্টে মোবাইল কোর্ট বাতিলের রিট করেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মোবাইল কোর্টের অপব্যবহারের প্রশ্ন নয়৷ প্রশ্নটা হলো সাংবিধানিক৷ মোবাইল কোর্ট সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থি, কারণ, বিচারকাজে নিয়োজিত নয় এমন কেউ বিচার করতে পারেন না৷ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা বিচারক নন৷ হাইকোর্ট মোবাইলকোর্টকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে৷ এটা এখন আপিল বিভাগে আছে৷'' তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘কথা কাটাকাটির জের ধরে চিকিৎসককে জেল দেয়া হলো৷ এর আগে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে শিক্ষককে পা ধরতে বাধ্য করা হয়েছে, এমপির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় এই কোর্টের মাধ্যমে জেল দেয়া হয়েছে৷ এভাবেই এর অপব্যবহার করা হয়৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এর অপব্যবহার বন্ধ করা যাবে না৷ তাই এটা বাতিলই সমাধান৷ বিচারের জন্য আদালত আছে৷ বিচারক আছে৷ সেখানে বিচার হবে৷ বিচার বিভাগ আলাদা৷ প্রশাসনের কাজ বিচার করা নয়৷ এই অধিকারও তাদের নাই৷''

আর মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী ব্যাস্টিার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মোবাইল কোর্ট প্রশাসনের ক্ষমতা প্রকাশের একটা মাধ্যমে পরিণত হয়েছে৷ মাজদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে  বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর প্রশাসন ক্ষমতা দেখাতে এই মোবাইল কোর্ট ধরে রাখার চেষ্টা করছে৷''

অডিও শুনুন 02:29

‘মোবাইল কোর্ট প্রশাসনের ক্ষমতা প্রকাশের একটা মাধ্যমে পরিণত হয়েছে’

তিনি বলেন, ‘‘ভেজালবিরোধী অভিযানসহ নানা অভিযানের কথা বলা হয়৷ তাতে কি ভেজাল কমেছে? অ্যাডহক ভিত্তিতে কাজ হয় না৷ রাস্তাঘাটে বিচার হয় না৷ যার বিচারের কাজ, বিচার তাকে করতে দিতে হবে৷

প্রয়োজনে বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে আলাদা আদালত করা যায়৷ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা প্রয়োজনে আটক করে সেই আদালতে যাবেন৷ যিনি আটক করবেন, তিনিই বিচার করবেন, এটা হয় না৷ এটা সংবিধান পরিপন্থি৷ এটা থাকার কারণেই কথা কাটাকাটির জের ধরে চিকিৎসককে জেলে পাঠাতে পেরেছেন এডিসি৷''

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘অপব্যবহারের কথা বলেও একটা বৈধতা দেয়ার চেষ্টা হয়৷ মনে করা হয়, অপব্যবহারবন্ধ করা গেলে এটা ভালো৷ আসলে তা নয়৷ এটা অবৈধ৷ এটা বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়