1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পোল্যান্ড

বিতর্কিত সুপ্রিম কোর্ট বিল পাসের পর বিপুল প্রতিবাদ

বিলটির মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলগুলির হাতে চলে যাবে – পোল্যান্ডের হাজার হাজার মানুষ যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন৷ বিলটি এখন সংসদের উচ্চকক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষ৷

ক্ষমতাসীন ‘আইন ও বিচার দল' বা ‘পিস' সুপ্রিম কোর্টের সংস্কারের এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি পেশ করে৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিলটি সংসদের নিম্নকক্ষে অনুমোদিত হয়৷ রাজধানী ওয়ারশয় হাজার হাজার আন্দোলনকারী এই বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন৷

বিক্ষোভের উদ্যোক্তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে ৫০,০০০ মানুষের সমাবেশের কথা বললেও, পুলিশ ১৪,০০০ বিক্ষোভকারীর কথা বলেছে৷ বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট আঞ্জ্রেই দুদা যেন আইনটিতে স্বাক্ষর না করেন৷

নতুন আইন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে সরকারের প্রভাব বৃদ্ধি করবে – যার ফলে বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতার অন্ত ঘটবে, বলে বিলটির সমালোচকদের আশঙ্কা৷

পিস-নিয়ন্ত্রিত সংসদের নিম্নকক্ষে ২৩৫ জন বিধায়ক বিলটির পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে পড়ে ১৯২টি ভোট৷ বিলটি এখনও সংসদের উচ্চকক্ষে অনুমোদিত হতে হবে ও প্রেসিডেন্ট দুদাকে তা স্বাক্ষর করতে হবে৷ সেনেটের কমিশন শুক্রবারেই বিলটি অনুমোদন করবে, বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুশ্চিন্তা

ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পোলিশ রাজনীতিকডোনাল্ড টুস্ক পোল্যান্ডের বিকাশধারা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন – তবে পিস দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দুদা টুস্কের সঙ্গে দেখা করতে চাননি, বলে টুস্ক জানান৷

বৃহস্পতিবারের ভোটের পর টুস্ক আবার একটি বিবৃতির মাধ্যমে দুদার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেন৷ টুস্ক বলেন যে, পোল্যান্ডের ইইউ-তে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে, কেননা পোল্যান্ডের পদক্ষেপসমূহ ইউরোপীয় মূল্যবোধের বিরোধী৷

নতুন আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টের কর্মপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ করার ক্ষমতা পাবেন৷ বিলে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান সব বিচারকের বরখাস্ত দাবি করা হয়েছে, এক প্রেসিডেন্ট যাদের নিয়োগ করেছেন, তারা ছাড়া৷

বিরোধীদের মতে, এই পদক্ষেপ আইনের শাসনের অন্ত ঘটাবে, কেননা বিচারবিভাগ রাজনৈতিক ক্ষমতাধারীদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হবে, যার ফলে পোল্যান্ডে একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হবে৷

পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইইউ-এর সাত নম্বর সূত্র?

এই সূত্র অনুযায়ী মৌলিক অধিকার ভঙ্গের জন্য কোনো সদস্যদেশের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করা চলে – যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এই সূত্র কোনোদিন প্রয়োগ করা হয়নি৷ কিন্তু বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের ভাইসপ্রেসিডেন্ট ফ্রান্স টিমারমান্স বলেন যে, তিনি সাত নম্বর সূত্র বলবৎ করার কথাও ভাবতে পারেন৷

‘‘পোলিশ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিচারবিভাগ সম্পর্কীয় যে সব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার ফলে পোল্যান্ডে আইনের শাসনের উপর আক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে'', বলেন টিমারমান্স৷

২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসা যাবৎ পিস দল আইন-আদালত ও মিডিয়ার উপর তাদের নিয়ন্চ্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংগঠনের জার্মান শাখার পরিচালক ভেনৎসেল মিশালস্কি বলেছেন যে, সর্বাধুনিক বিলটি পোল্যান্ডে বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতার অন্ত সূচিত করবে৷

এসি/ডিজি (এপি, রয়াটার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন