1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিতর্কিত পে স্কেলের জন্য মূলত অর্থমন্ত্রীই দায়ী?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আলাদা বেতন কাঠামোর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সোমবার থেকে৷ তাঁদের অভিযোগ, ‘পে স্কেল'-এ শিক্ষকদের অবনয়ন করা হয়েছে৷ আর এ জন্য তাঁরা দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে৷

নতুন ‘পে স্কেল' ঘোষণার পর পরই বাংলাদেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার প্রতিবাদ করেন৷ পরবর্তীতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পদত্যাগও দাবি করেন তাঁরা৷ তাঁদের কথায়, অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপমান করেছেন এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বলে নিজ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে চাপিয়ে দিয়েছেন৷ অর্থাৎ নতুন পে স্কেলে তাদের অবনয়ন করা হয়েছে৷ তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. সফিউল আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগের বেতন স্কেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের শতকরা ২৫ ভাগ গ্রেড-১'এ ছিলেন৷ এখন অধ্যাপকরা গ্রেড-৩৷ এটা সুস্পষ্টভাবেই অপমান এবং অবনয়ন৷ শুধু তাই নয়, মাত্র ২৫ ভাগ অধ্যাপককে গ্রেড-২ এবং তার ২৫ ভাগকে গ্রেড-১'এ নেয়ার বিধান করা হয়েছে, যেটা করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন৷ এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শায়ত্বশাসনের ওপর আঘাতও বটে৷''

Abul Mal Abdul Muhit

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

কিন্তু এর জন্য অর্থমন্ত্রীকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক শফিউল আলম বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে যে, নতুন পে স্কেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রতিফলিত হয়নি৷ ওদিকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রিসভায় পে স্কেল এবং পরিপত্র অনুমোদন করা হয়েছে৷ আসলে এটা ঠিক নয়৷ মন্ত্রিসভা এটা অনুমোদন করেনি৷ এটা অর্থমন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে হয়েছে৷ আর এ কারণেই আমরা অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছি৷''

একই বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা এতদিন অহিংস আন্দোলন করেছি৷ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের৷ আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো না৷ আমরা কোনোভাবেই আমাদের অবমাননা মেনে নেব না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের নিয়ে অবমাননাকর কথা বলা হচ্ছে৷ এর জন্য অর্থমন্ত্রী দায়ী৷ তাঁকে এ দায় স্বীকার করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে হবে৷''

অডিও শুনুন 04:46

‘নতুন পে স্কেল শিক্ষকদের জন্য সুস্পষ্টভাবেই অপমান এবং অবনয়ন’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মাকসুদ কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার জেনেছি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে পে স্কেল করতে বলেছেন, সেভাবে করা হয়নি৷ অর্থমন্ত্রী তাঁর হটকারি সিদ্ধান্তে এই পে স্কেল ঘোষণা করেছেন৷ শুধু আমরা নয়, আরো অনেকেই এই পে স্কেলে ক্ষুব্ধ৷''

অধ্যাপক ড. সফিউল আলমের কথায়, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই৷ কিন্তু অর্থমন্ত্রী এবং কিছু আমলা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সঠিক তথ্য গোপন করছেন৷''

এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কোনো মন্তব্য অবশ্য জানা যায়নি৷ তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার পর অর্থমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘শিক্ষকরা না বুঝে আন্দোলন করছেন৷ তাঁরা যা চাচ্ছেন, তা আমার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই৷''

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার এক সমাবেশে বলেছেন, ‘‘শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলকে তাঁদের জন্য অসম্মান মনে করলে চাকরি ছেড়ে বিসিএস দিয়ে সচিব হলেই পারেন৷''

বন্ধুরা, নতুন পে স্কেলের জন্য আদতে কে দায়ী? জানান আপনার মতামত, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও