1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

বিজ্ঞানীদের বিপাকে ফেলেছে তিমি

বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয় তিমি সংগীত৷ কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য দুঃখের বিষয় হল, এই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি এখনো অজানা তাদের৷ বো-হেড তিমিদের নিয়ে গবেষণা করে এই রহস্য সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷

ধনুকের মত লম্বা মাথার খুলি হওয়ায় তাদের নাম দেয়া হয়েছে বো-হেড তিমি৷ গ্রিনল্যান্ড উপকূলে এদের দেখা পাওয়া যায়, তবে সংখ্যাটা ১০-এর বেশি নয়৷ কিন্তু এই তিমিরা সংখ্যার দিক দিয়ে হার মানলেও গান গেয়ে বিশ্ব জয় করেছে বলে মন্তব্য করলেন তিমি বিশেষজ্ঞ কেট স্ট্যাফোর্ড৷

মার্কিন ও ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের একটি দলের সহযোগিতায় ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ওশেনোগ্রাফার তিমির ৬৬ ধরনের সংগীত রেকর্ড করেছেন৷ স্ট্যাফোর্ড ডয়চে ভেলেকে জানান, এসব সংগীত আসলেই অসাধারণ এবং একেবারেই ভিন্ন৷

কীভাবে রেকর্ড হল সংগীত

গ্রিনল্যান্ডের কাছে প্রায় দুইশ বছর আগে বো-হেড তিমিদের শিকার করত ডাচরা৷ তাই সেখানকার ফার্ম স্ট্রেটের উপকূলের কাছে স্ট্যাফোর্ড আর তার দল পানির নীচে দুটি মাইক্রোফোন স্থাপন করে৷ এদের কাজ হল এক বছরে প্রতি আধ ঘণ্টায় ৯ মিনিট শব্দ ধারণ করা৷

স্ট্যাফোর্ড জানালেন, এক বছরের রেকর্ডে দেখা গেল, হাজারেরও বেশি সংগীত ধারণ করা হয়েছে, প্রতিটির স্থায়িত্ব ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড৷

সাধারণত নভেম্বর এবং মার্চ মাসে বেশি গান গেয়েছে তিমিগুলো৷ স্ট্যাফোর্ডের ধারণা, শীতকালে প্রজননের জন্যই সে সময় তাদের গান গাওয়াটা বেড়ে যায়৷ সে সময়কার সংগীতের ধরণ একেবারে ভিন্ন বলে জানালেন তিনি৷

Pottwal

গ্রিনল্যান্ডের কাছে প্রায় দুইশ বছর আগে বো-হেড তিমিদের শিকার করত ডাচরা

যোগাযোগে জটিলতা

এই গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন৷ তা হল পুরুষ সঙ্গীদের আকৃষ্ট করা ছাড়াও তিমিরা গান গায়৷ আর সেটা বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের আনন্দের জন্য৷ স্ট্যাফোর্ড জানালেন, বো-হেড তিমিদের এই গানগুলো যদি পপ মিউজিক চার্টে উঠে যায়, তাহলে তিনি বিস্মিত হবেন না৷

বো-হেডের স্বাতন্ত্র্য হল একটি তিমিই একসাথে ভিন্ন সুরে গাইতে পারে এবং একই সময় উঁচু এবং নীচু টোনে, যা মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব৷

উৎসাহিত করার মত বিষয়

নিউইয়র্ক ভিত্তিক মিউজিশিয়ান গার্থ স্টেভেনসন বিশ্বাস করেন, প্রকৃতির সাথে সংগীতের একটা ভীষণ যোগাযোগ রয়েছে৷ সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন অ্যালবাম ‘ফ্লাইং' প্রকৃতির শব্দ দ্বারা অনুপ্রাণিত৷ আর অ্যালবাম প্রকাশের পরপরই শ্রোতারা একে তিমি সংগীতের সাথে তুলনা করেছেন বলে জানালেন স্টেভেনসন৷ ডি ডাব্লিউকে তিনি বলেন, এর আগে তিনি কখনো তিমি সংগীত শোনেননি৷

হুমকির মুখে তিমি

ওয়াশিয়ংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ক্রিস্টিন লেডার জানালেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তিমিদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে৷ আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাওয়ায় এই তিমিরা হুমকির মুখে রয়েছে৷ আর এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের রক্ষায় তহবিল সংগ্রহের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়