1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদীর নির্বাচনি রোডম্যাপ

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা নিয়ে বিজেপির অন্তর্কলহ মেটাতে হিন্দুত্ববাদী শীর্ষ সংগঠন সংঘ পরিবারকে আসরে নামতে হয়৷ আডবানিসহ দলের একাংশের আপত্তি অগ্রাহ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷

আগামী বছর সংসদীয় নির্বাচনে বিজেপি নেতা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম চূড়ান্ত করা হয় দীর্ঘ টালবাহানার পর৷ আপত্তি ছিল দলের একাংশের৷ তাহলে কেন করা হলো মোদীকে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী? প্রথমত, দলের নেতা-কর্মীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চাইছেন মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে৷ দ্বিতীয়ত, মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হলে হিন্দুত্ব কর্মসূচিকে প্রাধান্য দেয়া হবে৷ যেমন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি রাম মন্দির নির্মাণ, জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেয়া সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা বিলোপ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন ইত্যাদি৷ উল্লেখ্য, ভারতের দেওয়ানি বিধি মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়না৷ যেমন তালাক, ভরণপোষণ ভাতা, বিষয়সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা ইত্যাদির ফয়সালা হয় মুসলিম পার্সোনাল আইন অনুসারে৷

তবে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মোদীর নাম ঘোষিত হবার পর মোদী এবং অরুণ জেটলির মত বিজেপির কিছু শীর্ষ মনে করেন, ১৯৯০-এর দশকের হিন্দুত্ব এবং ২০১৪ সালের হিন্দুত্বের মধ্যে ফারাক বিস্তর৷

তাঁদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হবে মনমোহন সিং সরকারের দুর্নীতি, সরকারের নীতি পঙ্গুত্ব, সন্ত্রাস তথা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কংগ্রেস জোট সরকারের চরম ব্যর্থতা৷

তাই হরিয়ানায় তাঁর প্রথম নির্বাচনী সভায় মোদীর কণ্ঠে ছিল কট্টরপন্থির পরিবর্তে উদারপন্থির সুর৷ হিন্দুত্ববাদের কথা একবারও তোলেননি৷ জোর দিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রে যোগ্য ও বলিষ্ঠ সরকার না থাকলে দেশের নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি নেই৷ তাই শক্তিশালী সরকার, শক্তিশালী নেতা শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতীক৷ পাকিস্তানের প্রতিও কোনো হুঙ্কার না দিয়ে বলেছেন, লড়াই আমাদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে৷ পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, সন্ত্রাস আর বন্দুক-সংস্কৃতিতে কারোরই মঙ্গল হয়না৷ মোটকথা রাষ্ট্রনেতার ধাঁচেই পাকিস্তানের প্রতি তাঁর বার্তা৷ ভেঙে দিলেন তাঁদের ধারণা, যাঁরা ভেবেছিলেন মোদী এলেই যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হবে৷

পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিজেপি সরকার গড়ার মত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেনা৷ অর্থাৎ পাটিগণিতের হিসেবে সংসদের নিম্নসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৭২টি আসন হলো ম্যাজিক সংখ্যা৷ সেটা হয়ত নাও পেতে পারে বিজেপি৷ সেক্ষেত্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার গড়ার জন্য খুঁজতে হবে শরিকদল৷ মোদী-বিতর্কে বিহারের সংযুক্ত জনতাদলের নীতিশ কুমার বেরিয়ে গেছেন ধর্মীয় মেরুকরণের আশঙ্কায়৷ হালে উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমে মুজফ্ফরনগরে জাঠ-মুসলিম গোষ্ঠী সংঘর্ষ তারই ইঙ্গিত স্পষ্ট৷ ফলে অন্য দল যেমন, তৃণমূল, বিজু জনতা দল মোদীর ডাকে সাড়া দেবে কিনা, সে বিষয়ে আছে ঘোরতর সংশয়৷

কাজেই মোদীর প্রথম পরীক্ষা দলের কোয়ালিশন নীতিতে ভারসাম্য আনা৷ ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা৷ সুনিশ্চিত করা উন্নয়নের রোডম্যাপ৷ বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক সংস্কারে মন দিয়ে জয় করা দেশি বিদেশি শিল্পপতিদের মন৷ এই পরীক্ষায় নরেন্দ্র মোদী কতটা সফল হবেন তা ভবিষ্যতই বলবে৷

গুজরাটের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্ম ১৯৫০-এ৷ ১৯৭১ সালে যোগ দেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসে৷ ১৯৮৭-তে বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক৷ ১৯৯০-এ এল কে আডবানির হিন্দুত্ব প্রচারের ‘রথযাত্রায়‘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন৷ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন ২০০১ সালে৷ তাঁর শাসনকালের সবথেকে কলঙ্কজনক অধ্যায় গোধরা দাঙ্গা৷ তারপরও তিনি জয়ী হন বিপুল ভোটে৷ ২০১৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনে তিনি দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়