1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বিচ্ছিন্ন সার্ভার দিতে পারে নিরাপত্তা

এনএসএ এবং হ্যাকারদের উৎপাতে আজ ইন্টারনেটের উপর আস্থা রাখা কঠিন৷ কোম্পানিগুলির মূল্যবান তথ্যভাণ্ডার ‘ক্লাউড'-এ থাকলে তার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই যায়৷ একটি জার্মান কোম্পানি হাতের নাগালেই নেটওয়ার্ক রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে৷

ছোট এই বক্স প্রতিযোগিতায় ক্লাউড পরিষেবার মোকাবিলা করতে চায়৷ হামবুর্গের প্রোটোনেট কোম্পানি তাই এক বিশেষ ডিভাইস তৈরি করছে৷ সেই সঙ্গে দিচ্ছে একটি নতুন অফিস সফটওয়্যার৷ এই মিনি সার্ভারে রয়েছে দুটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক৷ একটি নিরাপদ ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক, অন্যটি অতিথিদের জন্য৷

কোনো কোম্পানির কর্মীরা এই বক্সের মাধ্যমে তথ্যের আদানপ্রদান করতে পারেন, একসঙ্গে একই ফাইল নিয়ে কাজ করতে পারেন, নিজেদের ক্যালেন্ডার সামলাতে পারেন, পরস্পরের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন৷ নেট পরিষেবা কোম্পানি বা বাইরের কোনো লোক তার নাগাল পাবে না৷ প্রোটোনেট কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আলি জেলভেহ বলেন, ‘‘আমি প্রায়ই বড় বড় কম্পিউটিং কেন্দ্রে যাই৷ এনএসএ-র মতো সংস্থা তার নাগাল পেয়ে যায়৷ তখন শুধু এক-দু'জন বা এক'শ জন নয়, কোটি কোটি মানুষের তথ্য আমার হাতে চলে আসতে পারে৷ প্রোটোনেট বিষয়টি অন্যভাবে করে৷ আমরা নেটওয়ার্কটা ‘ডিসেন্ট্রালাইজ' করে ফেলি৷ অর্থাৎ প্রতিটি বক্স-কে আলাদা করে হ্যাক করতে হবে, তথ্য বার করতে হবে৷ ফলে নজরদারি ও তথ্য চুরির কাজ অনেক কঠিন হয়ে পড়ে৷''

NSA-Hauptquartier in Fort Meade (Maryland)

মেরিল্যান্ডের ফোর্ট মিড’এ এনএসএ’র হেডকোয়ার্টার্স

বড় বক্স-টির দাম ৪,০০০ ইউরো, তাতে ১৬ টেরাবাইট তথ্য ধরে৷ ছোট বা মাঝারি মাপের কোম্পানির জন্য এটি উপযুক্ত৷ হামবুর্গ-এর ‘ফ্যামিলোনেট' নামের স্টার্ট-আপ কোম্পানি এমন একটি মিনি-সার্ভার কিনেছে৷ তারা এমন এক অ্যাপ বিক্রি করে, যা দিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অনেক কাজ সারতে পারে, কে কোথায় আছে, তা জানতে পারে৷

এর মধ্যেই প্রায় ৯৫,০০০ ইউজার এই পরিষেবা কাজে লাগাচ্ছেন, মূলত জার্মানিতেই৷ অ্যামেরিকায়ও কিছু গ্রাহক আছেন৷ পরিবার বলেই তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দেয় এই কোম্পানি৷ ফ্যামিলোনেট কোম্পানির ডাভিড নেলসসেন বলেন, ‘‘আমরা যদি ড্রপবক্স বা গুগল ড্রাইভ-এর মতো অন্য কোনো ক্লাউড-ভিত্তিক পরিষেবা ব্যবহার করতাম, তখন আমাদের তথ্য অ্যামেরিকা বা অন্য কোথাও চলে যেতো৷ সেই তথ্যের উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকতো না৷ আর প্রোটোনেট আমাদের অফিসেই রয়েছে৷ তথ্য কোথায় রাখা হচ্ছে, আমরা তা জানি৷ সেটা আমাদের হাতেই রয়েছে৷ এটা আমাদের জন্য খুব জরুরি৷''

ফেরা যাক প্রোটোনেট কোম্পানিতে৷ ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোম্পানি প্রায় ৪০০ সার্ভার বিক্রি করেছে৷ চলতি বছরের শেষের মধ্যে আরও ১,০০০ বক্স বিক্রি হবার কথা৷ এখনো পর্যন্ত মূলত জার্মানভাষী এলাকা থেকেই অর্ডার আসছে৷ কিন্তু কোম্পানি অন্যান্য দেশেও সাফল্য পেতে চায়, যদিও তা সহজ নয়৷ আলি জেলভেহ বলেন, ‘‘এই পরিষেবা বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাধারণত অনেক মূলধন লাগে৷ অ্যাপল, অ্যামাজন বা গুগলের মতো কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের বাজেট আমাদের নেই৷''

আপাতত প্রোটোনেট সোশাল নেটওয়ার্ক ও সন্তুষ্ট ক্রেতাদের উপর নির্ভর করছে, যাঁরা বাকিদের এই পরিষেবা নিতে উৎসাহ দেবেন৷ এনএসএ-র গুপ্তচরবৃত্তি ও হ্যাকার-দের হামলার এই যুগে কোম্পানির ৩২ জন কর্মী বর্তমান চাহিদা পূরণ করতেই হিমসিম খাচ্ছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক