‘বিচ্ছিন্নতাবাদকে পুরস্কৃত করলে চলবে না′ | বিশ্ব | DW | 30.06.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বিচ্ছিন্নতাবাদকে পুরস্কৃত করলে চলবে না'

এক সপ্তাহ আগে ভোটাররা ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিয়েছেন৷ কিন্তু সেই রায় কবে, কীভাবে অথবা আদৌ কার্যকর হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ ব্রিটেনের রাজনৈতিক জগতে চলছে ভোল পালটানোর খেলা৷

ভোটের আগে ও ভোটের পরে নেতাদের বক্তব্য এমন আমূল বদলে যাবার দৃষ্টান্ত সহজে দেখা যায় না৷ বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় এমন ঘটনা প্রায় অভূতপূর্ব৷ যেমন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গণভোটের আগে বলেছিলেন, ব্রেক্সিট শিবিরের জয় হলেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগের আবেদন করবেন৷ ভোটের পর বলে বসলেন, তিনি কয়েক মাস পর পদত্যাগ করছেন৷ তাঁর উত্তরসূরিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন৷ ব্রেক্সিট শিবিরের নেতারা প্রচারের সময়ে যে সব মূল বিষয় বা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছিলেন, ভোটের পর প্রায় সব কিছুই অস্বীকার করছেন৷

ব্রেক্সিট-বিরোধী প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ব্রিটেনের মারাত্মক ভুলের কথাও তুলে ধরছেন অনেকে৷

ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে ব্রিটিশ নেতারা নানাভাবে আগাম ছাড় আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেমনটা তাঁরা গত কয়েক দশক ধরেই করে চলেছেন৷ ইইউ ত্যাগ করার পরেও যাতে একক সাধারণ বাজারে ব্রিটিশ পণ্য ও পরিষেবা বাধার মুখে না পড়ে, সেটাই তাঁদের উদ্দেশ্য৷ তবে ইইউ নাগরিকদের অবাধ অভিবাসনের অধিকার মেনে নিতে তাঁরা প্রস্তুত নন৷ ব্রেক্সিট শিবিরের অন্যতম নেতা নাইজেল ফারাজ-এর জন্য এমনকি ভবিষ্যতে ইইউ বাজেটে ব্রিটেনের আর্থিক অবদান মেনে নিতেও প্রস্তুত৷

ইইউ নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক ভাবাদর্শের ক্ষেত্রে কোনো আপোশ সম্ভব নয়৷ অর্থাৎ ইইউ-র সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি করতে হলে ব্রিটেনকে সবটাই মেনে নিতে হবে৷ পছন্দমতো শর্ত বাছাই করলে চলবে না৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে ছাড়াই বাকি ২৭ জন শীর্ষ নেতা তাঁদের বৈঠকে এ ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন৷ বিশেষ করে ইইউ-র অন্য অনেক দেশে ইউরোপ-বিরোধী শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন-কে ‘পুরস্কৃত' করার বিরুদ্ধে জোরালো মত দেখা যাচ্ছে৷

ব্রিটেনের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ রক্ষণশীল টোরি দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডেভিড ক্যামেরন বিদায় নেবার পর লন্ডনের প্রাক্তন মেয়র বরিস জনসন হাল ধরতে পারেন, এমনটাই এতদিন ধরে নেওয়া হচ্ছিল৷ এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আসরে নামলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে৷ অন্যদিকে দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতা সত্ত্বেও নেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান লেবার নেতা জেরেমি কর্বিন৷ ‘জাতীয় স্বার্থে' ক্যামেরন সরাসরি তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন৷

ব্রেক্সিটের জন্য ইইউ নয়, ব্রিটেনের নিজস্ব রাজনৈতিক কাঠামোই দায়ী – এমন মতামতও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে৷

এদিকে স্কটল্যান্ড আলাদা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাবার যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা বাধার মুখে পড়ছে৷ স্পেন ও ফ্রান্সের শীর্ষ নেতারা এমন সম্ভাবনার বিরোধিতা করেছেন৷ বিশেষ করে স্পেনের কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখোই বিচ্ছিন্নতাবাদের এমন দৃষ্টান্ত বরদাস্ত করতে চান না৷ উল্লেখ্য, স্পেনের কাটালুনিয়া প্রদেশও একইভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইইউ-র সদস্য হবার চেষ্টা চালাতে চায়৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়