1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘বিচার বিভাগ স্বাধীন, সততা থাকলে হস্তক্ষেপ সম্ভব না’

বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বা পৃথকীকরণ নিয়ে সব আলোচনাতেই ‘মাসদার হোসেন মামলা’ প্রাসঙ্গিক৷ মামলাটি যাঁর নামে পরিচিত, ডয়চে ভেলের সঙ্গে সেই মাসদার হোসেনই অনেক কথা বলেছেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে৷

৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নানা বঞ্চনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন নিম্ন আদালতের বিচারকরা৷ সেই রিট মামলাটি ওই সময়কার জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসদার হোসেনের নামে পরিচিতি পায়৷

এই রিট হাই কোর্ট পেরিয়ে আপিল বিভাগে যায়৷ সব শেষে সেখানে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় হয়৷ রায়ে বিচার বিভাগকে পৃথক করতে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় আপিল বিভাগ৷

এই রায়ের প্রায় আট বছর পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর পৃথক বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়৷ তবে এরপরও আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে নানা নির্দেশনা দিয়েছে৷ নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার বিষয় এখন আপিল বিভাগে বিবেচনাধীন রয়েছে৷

বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণের নানা ইস্যু নিয়ে মাসদার হোসেন কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷

অডিও শুনুন 17:47

‘বর্তমানে বাংলাদেশে যে আইনি কাঠামো আছে, তাতে বিচারবিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়৷’

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কতটুকু স্বাধীন?

মাসদার হোসেন: ‘স্বাধীন' শব্দটা কিছুটা আপেক্ষিক৷ ‘রুল অফ ল' অনুসারে রাষ্ট্রের তিনটা অর্গান স্বাধীনভাবে কাজ করবে৷ কেউ কারো কাজে হস্তক্ষেপ করবে না৷ সেই ক্ষেত্রে আপাত দৃষ্টিতে আমরা বলতে পারি, সংবিধানের ১১৬'র আওতায় বিচার বিভাগ স্বাধীন৷

এই স্বাধীনতায় কোনো সমস্যা নেই?

সমস্যা নেই – সেটা আমি বলবো না৷ তবে সংবিধানের আলোকে বিচার বিভাগকে সরকার বা আইন বিভাগ কোনো বিধি দ্বারা বা কোনো আইন দ্বারা হস্তক্ষেপ করে না৷

মাসদার হোসেন মামলার রায় কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে?

এই রায় পৃথকীকরণ নিয়ে৷ রায়টা কম বেশি ৮০ ভাগ কার্যকর হয়ে গেছে৷

কী কী বিষয় কার্যকর হয়নি?

এই রায় অনুসারে বিচারিক কাজ বিচারকেরা করবে৷ এটা মাসদার হোসেন মামলার সিদ্ধান্ত৷ এরপর সিআরপিসি পরিবর্তন করা হয়েছে৷ সম্প্রতি হাইকোর্টের একটা রায় হয়েছে, মোবাইল কোর্ট বিচারক দ্বারা পরিচালিত হতে হবে৷ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা নয়৷ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক রায় দেন, কিন্তু মোবাইল কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শাস্তি দেন৷ এটা সংবিধানরোধী৷ মাসদার হোসেন মামলার এ সংক্রান্ত আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি৷

সরকার কি চাইলেই উচ্চ আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে?

না, সংবিধান অনুসারে হাইকোর্ট বা নিম্ন আদালতের উপর হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগই নাই৷ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানে কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও৷ আর্থিক স্বাধীনতা না থাকলে কেবল কাজের স্বাধীনতা দিয়ে হবে না৷ আরও অন্য অনেক বিষয় আছে, ভবন, গাড়ি-ঘোড়া সরকার বিচারকদের দেবেন৷ অনেক সময় আমাদের একাধিক বিচারককে একই এজলাসে বসতে হয়৷ এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত, আমাদের ভবন তাড়াতাড়ি করে দেয়া৷ এগুলো যদি না দেয়, তাহলে বিচার বিভাগের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে৷

এগুলোকে ব্যবহার করে এক ধরণের চাপ তৈরির সুযোগ রয়েছে কি?

না৷ এটাকে পুঁজি করে হস্তক্ষেপ করা যায় না৷

সংবিধান অনুসারে হস্তক্ষেপ না চললেও বাস্তবে কি তা সম্ভব?

বিচারককে সৎ হতে হবে, তাকে সচেতন হতে হবে, কর্মক্ষম ও দক্ষতা থাকতে হবে৷ আমার যদি ব্যক্তিত্ব না থাকে, আমার যদি বিচারকের সৎসাহস না থাকে, তবে কেউ অফ দ্য রেকর্ড কাউকে প্রভাবিত করতে পারে৷ প্রচলিত সরকারের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছিলাম, জনগণের ভালোর জন্য বিচার বিভাগকে আলাদা করতে আমরা মামলা করেছিলাম৷ তখনকার এবং পরবর্তী সরকার কিন্তু আমাদের বাহবা দেয়নি৷ 

আপনাদের মামলায় তো সম্ভবত একটা পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?

না, তা বলা হয় নাই৷ এটা বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বারবার বলছে৷ হাই কোর্টের ৯ নির্দেশনা আর আপিল বিভাগের ১২ নির্দেশনায় কখনো আলাদা সচিবালয়ের কথা বলা হয়নি৷ তবে সংবিধানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে৷ এটা সরকারের দায়িত্ব৷ এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা আইন বিভাগের কিছু করার নেই৷ সিদ্ধান্ত হবে সরকার থেকে৷ 

সচিবালয় করলেই পূর্ণভাবে পৃথক হবে সেটা বলছি না৷ পৃথক সচিবালয় হলে ভালো, যেটা ভারতে আছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আছে৷ তবে পৃথক সচিবালয় ছাড়াও আইন মন্ত্রাণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে৷ তবে সচিবালয় হলে বিচার বিভাগ একটু স্বস্তি অনুভব করবে৷ এ কারণেই ভারত এখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ রাখে নাই৷

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে সরকারের অনেকে কথা বলছেন৷ এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কি ক্ষুণ্ণ হয়?

না, ক্ষুণ্ণ হবে না৷ কারণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে৷ প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ‘রায়' নয়৷ বিচারিক সিদ্ধান্ত এক জিনিস, আর বক্তব্য আরেক জিনিস৷ প্রধান বিচারপতি যদি কোনো প্রশাসনিক আদেশ দেন, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে৷ তাতে কেউ ক্ষুব্ধ হলে তাকে সহকারি বিচারকের আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে৷ কিন্তু প্রধান বিচারপতি কোনো বিচারিক আদেশ দিলে সেটা চ্যালেঞ্জ করার কোনো ফোরাম থাকে না৷ সেটাই চূড়ান্ত৷

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন, সেটা (করলে তা বিচার বিভাগে) হস্তক্ষেপ মনে করছি না৷

বিচারকে মানসম্মত করতে আর কী কী করা প্রয়োজন?

হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে, বিচারকদের আর্থিক বিষয় দেখতে হবে৷ মাসদার হোসেন মামলায় যে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছিল, এখন অনেকক্ষেত্রে সেটার অবনতিও হচ্ছে৷

কীভাবে অবনতি হচ্ছে?

ওই মামলার রায়ে জেলা জজদেরকে সচিবের সাথে তুলনা করা হয়েছিল৷ এই সচিবের মর্যাদা সরকার দেয় নাই৷ সচিবদেরকে দুই-তিন গ্রেডে উন্নয়ন করা হয়েছে৷ জ্যেষ্ঠ সচিব করা হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবের স্কেল আলাদা করা হয়েছে, সচিবদের স্কেল আলাদা করা হয়েছে, তারও নীচে জেলা জজদের স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়