1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘বিচার না হলেই সোচ্চার হন মানবাধিকার কর্মীরা'

‘‘প্রতিদিন কত খুন হচ্ছে, সেসব নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কথা বলছে না৷ কিন্তু যেখানে বিচার নিশ্চিত নয়, সেখানেই সোচ্চার তারা৷'' বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও টিআইবি-র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজ উদ্দিন খান৷

এমপি লিটন

এমপি লিটন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার পুলিশ সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ‘কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আসেনি'৷ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ছোটোখাটো ঘটনা হলেই দেখি হাউকাউ শুরু হয়ে যায়৷ অথচ একজন সংসদ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় কোনো মানবাধিকার সংগঠন বা কেউ এ ব্যাপারে কোনো শব্দও করলো না৷ বাংলাদেশ সত্যিই এক অদ্ভুত দেশ৷''

অডিও শুনুন 01:48

‘লিটন নিজেই তো একজন বিতর্কিত মানুষ’

লিটন হত্যাকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ' হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে হত্যা করলো, মসজিদে আগুন দিল, মানুষ পোড়াল, তাদের বিরুদ্ধে তো এত বেশি সোচ্চার হতে দেখি না৷'' তাংর কথায়, ‘‘মনে হলো পরিকল্পিতভাবেই ছেলেটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হলো৷''

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘লিটন নিজেই তো একজন বিতর্কিত মানুষ৷ তিনি যে ছেলেটাকে গুলি করলেন ঐ ছেলেটাও এখনো বিচার পায়নি৷ এমপি হওয়ার কারণে তিনি জামিনও পেয়েছিলেন৷ কিন্তু ঐ ছেলেটা বিচার পায়নি বলেই আমরা তার পক্ষে সোচ্চার ছিলাম৷ লিটন খুনের পর সরকারই দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করছে৷ বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছে৷ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার তো ঠিকমতোই চলছে৷ এখানে মানবাধিকার সংগঠন কী করবে?''

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের শাহবাজ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয় মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে৷ আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যকে খুনের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে আসছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা৷

অডিও শুনুন 02:26

‘প্রতিদিন তো কত খুন হচ্ছে, আমরা কি সব খুন নিয়ে কথা বলি?’

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে সুন্দরগঞ্জে লিটনের গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় বেশ কিছুদিন কারাগারে কাটাতে হয় এই সাংসদকে৷ সে সময় তার লাইসেন্স করা অস্ত্রও জব্দ করে থানায় রাখা হয়৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন,  ‘‘তাকে (লিটন) বাসা থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল৷ কেন পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেল? তাকে একটা অপবাদ দিয়ে তার লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হলো কেন?''

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে তাণ্ডব চালায় জামায়াতকর্মী৷ ‘জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায়' ঐ ঘটনার পরও পুলিশ এমপি লিটনের জন্য যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা যেখানে ঘটেছিল, সেখানে একজন সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, কোন পত্রিকায় কী লিখল সেটা দেখে সঠিক খবর না নিয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলো৷ এর জন্যই একজন সংসদ সদস্যকে জীবন দিতে হলো৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগে বুঝতে হবে কোনটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, আর কোনটা লঙ্ঘন না৷ প্রতিদিন তো কত খুন হচ্ছে, আমরা কি সব খুন নিয়ে কথা বলি? বলি না৷ তাছাড়া এমপি লিটন খুন হওয়ার পর আমরা তার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি৷ সরকারও ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ আমরা চাই সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুক৷ তবে শুধু লিটনের খুনিদের গ্রেপ্তার বা বিচার নয়, সব খুন এবং বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার সরকার করুক৷ এর মধ্যে লিটনের খুনেরও বিচার হোক৷''

অডিও শুনুন 01:57

‘যেখানে বিচার নিশ্চিত নয়, সেখানেই সোচ্চার তারা’

আপনি কি মনে করেন মানবাধিকার সংগংঠনগুলো সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান থেকেই কাজ করে? উত্তর লিখুন নীচের ঘরে৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়