বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে | বিশ্ব | DW | 18.08.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হচ্ছে৷ মন্ত্রিসভা সোমবার সংবিধান সংশোধনী আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে৷ এদিকে আইনমন্ত্রী বলেছেন সংসদের সামনের অধিবেশনইে আইনটি পাস হবে৷

Bangladesch Parlament Gebäude in Dhaka

ফাইল ফটো

এখনকার সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে৷ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দেন৷ কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে তা এখন সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হচ্ছে৷

সোমবার মন্ত্রিসভায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইনের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ এতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে আবার ফিরে যাচ্ছে৷ মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়৷

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ‘‘উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সংবিধান সংশোধন আইনের বিল আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে৷'' তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসছে৷ আশা করি, ওই অধিবেশনেই বিলটি পাস হবে৷''

মন্ত্রী বলেন, ‘‘সংশোধনীর আলোকে একটি আইন করা হবে৷ যেখানে একজন বিচারপতিকে কীভাবে অভিশংসন করা হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে৷ এই আইনটি করতে তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে৷ আইনে উভয়পক্ষের অধিকার রক্ষা করা হবে৷''

এদিকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, ‘‘উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি ব্যবহারিক আইন করতে হবে৷ বিচারকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকতে হবে৷''

তিনি সোমবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘‘৭২-এর সংবিধান সবচেয়ে ভালো সংবিধান৷ সংসদের হাতে বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা মৌলিকভাবেই মূল সংবিধানে ছিল৷ বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে বিচারকদের ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা সংসদের হাতে রয়েছে৷ এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷''

১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের আলোকে মন্ত্রিসভা এই সংশোধনী পাস করল৷ ঐ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ছিল৷ চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেয়৷ পরে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৬ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা বিচার বিভাগের কাছে ন্যস্ত হয়৷ এতে বলা হয়, বিচারপতিদের অভিশংসনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে পারবেন৷

সর্বোচ্চ আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করলেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা বহাল ছিল৷

আওয়ামী লীগের গত মেয়াদের শাসনামলে ২০১২ সালে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার দাবি তোলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা৷ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের দাবির সঙ্গে একমত হন৷ তবে বিএনপি এর বিরোধিতা করছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়