1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত: যেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়

বাংলাদেশে সদ্য অবসরে যাওয়া এক বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ এই বিচারক বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অর্থ পাচার মামলায় খালাস দেন৷

গত ১৭ই নভেম্বর বিশেষ জজ আদালত ৩-এর বিচারক মোতাহার হোসেন অর্থ পাচার মামলায় তারেক রহমানকে খালাস দেন৷ তবে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল-মামুনকে একই মামলায় সাত বছরেরর সশ্রম কারাদণ্ড দেন৷ এই রায় দেয়ার পর গত ডিসেম্বরে অবসরে যান বিচারক মোতাহার হোসেন৷

সদ্য অবসরে যাওয়া এই বিচারকের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শুরু করে দু'সপ্তাহ আগে৷ এ মুহূর্তে তাঁর অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক কমিশনার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন৷ তদন্তের দায়িত্ব পালন করছেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ৷

তদন্তের প্রথম পর্যায়ে দু'দফায় মোট চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক৷ গত বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এর স্টেনোগ্রাফার আবুল হাসান এবং বিশেষ জজ আদালত ৩-এর স্টেনোগ্রাফার মো. নুরুল ইসলামকে৷ এরপর সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বিচারকের গাড়ি চালক সোহরাব হোসেন এবং দেহরক্ষী বাদল দেওয়ানকে৷

তদন্ত শুরুর পর ২২শে জানুয়ারি বিচারক মোতাহার হোসেনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দুদক৷ তবে তারা পরে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে যে, বিচারক তার আগেই মালয়েশিয়া চলে গেছেন৷

দুদক এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে মোতাহার হোসেন লন্ডনে বাড়ি কিনেছেন এবং ঢাকার ধানমন্ডিতেও তাঁর দু'টি ফ্ল্যাট আছে৷ এছাড়া গ্রামের বাড়ি নাটোরে তিনি নামে-বেনামে ৫০ বিঘা কৃষি ও অকৃষি জমি কিনেছেন৷ দুদক জানায়, তাঁর আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদ ও সম্পত্তি সঙ্গতিপূর্ণ নয়৷

দুদক আরো জানায়, সদ্য অবসরে যাওয়া এই বিচারকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ আছে৷ তাঁর ছেলে লন্ডনে থেকে পড়াশুনা করছেন৷ জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কর্মচারীরা বিচারকের মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার কথা জানালেও, মালয়েশিয়ায় যোগাযোগের ঠিকানা বা ফোন নাম্বার জানাতে পারেননি৷ মোতাহার হোসেনকে কি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনা যায়, তা নিয়ে ভাবছে দুদক৷

এ বিষয়ে টিআবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, যে কোনো পদ বা মর্যাদার ব্যক্তিই হন না কেন তার যদি আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকে, তবে সে ব্যাপারে তদন্ত করা দুদকের দায়িত্ব৷ এছাড়া, বিচারক মোতাহার হোসেনের ব্যাপারে অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে তদন্ত শুরু করে দুদক ঠিক কাজই করেছে৷ তবে তিনি বলেন, এটা যেন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়৷ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাঁরাই যেন তদন্তের আওতায় আসেন৷

ড. ইফতেখার বলেন, ২০১১ সালে প্রধান বিচারপতি অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পদের হিসাব জমা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন৷ বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির কাছে হিসাব জমাও দিয়েছিলেন, যদিও তা প্রকাশ করা হয়নি৷ তাঁর কথায়, সব পর্যায়ের বিচারকদেরই সম্পদের হিসাব দেয়ার একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত৷ এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি৷ তাই বিচারক মোতাহার হোসেনের সম্পদের তদন্তের মধ্য দিয়ে যে একটি সুযোগ সৃষ্টি হলো, তা বলাই বাহুল্য৷

এদিকে অবৈধ অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে দুদক৷ আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন৷ তারেক রহমান দেশের বাইরে আছেন৷ বিচারক মোতাহার হোসেন তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতেই গত নভেম্বরে তাঁকে খালাস দেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়