বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ′ আন্দোলন ও কিছু কথা | বিশ্ব | DW | 14.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ' আন্দোলন ও কিছু কথা

দলের সর্বোচ্চ নেতা কারাগারে, অথচ নেতাকর্মীরা অনশন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন৷ কেন জানি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান৷ সে যা-ই হোক, সেজন্য বিএনপি'র ধন্যবাদ প্রাপ্য৷

নির্বাচনের বছর৷ আমরা অতীতে দেখেছি, এ সময়ে অনেক হিসেব-নিকেশ পাল্টে যায়৷ ক্ষমতাসীন দলের ‘ক্ষমতা' কমে যেতে দেখেছি৷ বিরোধী দলকে আরো সরব হতে দেখেছি৷ রাজপথে উত্তাপ দেখেছি৷ ‘অশান্তিপূর্ণ' আন্দোলন দেখেছি৷

কিন্তু ২০১৮ যেন অন্য কিছু দেখাচ্ছে৷ দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র সর্বোচ্চ নেতা বেগম খালেদা জিয়া৷ তিনি কারাগারে যাবার আগে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন৷ তারাও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আর অনশন করেই প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন৷ সাদা চোখে দেখলে বিষয়টি ইতিবাচক৷ মানুষ সহিংসতা দেখতে চায় না৷ এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতিই দেখতে চায়৷

কিন্তু এই বিএনপিকেই আমরা রাজপথে সহিংসতা সৃষ্টি করতে দেখেছি৷ বিএনপি আমলে নাসিম, মতিয়া চৌধুরীদের রাস্তায় পড়ে পুলিশের মার খেতে দেখেছি৷ শুধু বিএনপিই নয়, আওয়ামী লীগেরও লগি বৈঠার আন্দোলনের কথা কেউ ভোলেনি৷

রাজপথে পেশীশক্তি প্রদর্শনই একটি রাজনৈতিক দলের ‘সক্ষমতা' নিরূপনের চাবিকাঠি, এমন সংস্কৃতি যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মজ্জাগত, সেখানে বিএনপিকে এখনকার কর্মসূচির জন্য ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে৷

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিএনপির এই কৌশল কি দেশের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে, নাকি সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে? ৫ জানুয়ারির যে নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি ‘রাজনৈতিক ভুল' করেছিল বলে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীরও মত, এবং সেই নির্বাচনকে রুখতে যে সহিংসতার পথ অনুসরণ করেছিল দলটি, তার সঙ্গে এখনকার বিএনপির পার্থক্য কোথায়?

প্রথমত, দলটি দেখেছে অতীতে নির্বাচনে না গিয়ে সহিংসতার পথ অনুসরণ করে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারেনি৷ বরং, দলগতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ দলটিতে ভাঙনের সুরও লেগেছে৷ একটি জনপ্রিয় মত হলো, বিএনপিতে দুই ভাগ৷ একভাগ খালেদাপন্থি, আর অন্যভাগ তারেক রহমানপন্থি৷

বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় যখন  বেগম জিয়া কারাগারে যাবারসঙ্গে সঙ্গেই কোনো কোনো নেতা ‘তারেক রহমান দল চালাবেন' বলে ঘোষণা দিয়ে দেন৷ আর অফিসিয়ালি এই ঘোষণাটি দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী৷ অথচ এত বড় একটি ঘোষণা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরই দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই৷ যদিও বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তারেক রহমানের নামটি চলে আসে৷ কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগার থেকেও দল চালাবেন বলেও ঘোষণা আসতে পারতো৷

Zobaer Ahmed (Zobaer Ahmed)

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাথার ওপরই মামলার খড়গ ঝুলছে, যার অনেকগুলোই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার মামলা৷ তাই আবারো রাজপথে পেশীশক্তি দেখাতে গেলে জেলে যেতে হতে পারে– এমন শঙ্কা আছে অনেকের মাঝেই৷ নির্বাচনের আগে সেরকম ঝুঁকি হয়তো নিতে চাচ্ছেন না তাঁরা৷

তৃতীয়ত, সরকার সবসময়ই অজনপ্রিয় হয়৷ পাঁচ বছর সরকারে থাকলে যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিই নানা কারণে মানুষের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা তৈরি হয়৷ সেই ক্ষোভ আর হতাশার সুবিধা পায় সেই দলটির প্রতিদ্বন্দ্বীরা৷ আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে পরপর দু'বার সরকার গঠন করলো৷ তাদের নেতাকর্মী ও সরকারি নানা সিদ্ধান্তে ক্ষোভ হতাশা আছে মানুষের মাঝে৷ সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে মানুষের মাঝে এক ধরনের ‘ভালো ইমেজ' তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে বিএনপির কাছে৷ সেই সুযোগটিও হয়তো নিতে চান তাঁরা৷

সব মিলিয়ে, হোক সে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বা অন্য যে কোনো দল, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সাধুবাদের যোগ্য৷

কিন্তু বিএনপির এই সাধুবাদে কলঙ্ক যোগ করেছে তাদের লন্ডন শাখার একটি অংশ৷ তারা হাইকমিশনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিকে চূড়ান্ত অসম্মান করেছে৷ সেই অসম্মানের দায় বিএনপির কেন্দ্রের ওপরও বর্তায়৷ সেই ঘটনার জন্য লন্ডন বিএনপি পরে দুঃখ প্রকাশ করলেও বিএনপির কেন্দ্রের কাছ থেকেও বক্তব্য আসা উচিত ছিল৷ তা আসেনি৷

কিন্তু কী করেছে লন্ডন আওয়ামী লীগ? বিএনপির ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ছিঁড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের নেতারা৷ টিট ফর ট্যাট৷ কিন্তু বিক্ষোভ প্রদর্শন করেই যদি ক্ষান্ত থাকতেন, তাহলে তারা সাধুবাদ পেতে পারতেন৷

এক দল আরেক দলকে সহ্য করতে না পারার এই যে চূড়ান্ত সংস্কৃতি আমরা দেখছি, তা দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়