1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বিএনপির প্রত্যয়, পুলিশের প্রস্তুতি আর আ. লীগের প্রতিরোধ'

শুক্রবার যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি৷ তবে রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাউকেই সমাবেশ করতে দেবে না পুলিশ৷ ওদিকে, বিএনপির অযৌক্তিক কর্মসূচিকে প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ৷

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে তারা শুক্রবার সমাবেশ করবেই৷ এ সময় তিনি সমাবেশ ঠেকাতে সরকারের নানা প্রতিবন্ধকতা, হুমকি-ধমকি ও গণগ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান৷ সরকারের আচরণকে অবৈধ ও অন্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীকালের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ পুলিশ সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে হানা দিচ্ছে, আসবাব ভাঙচুর করছে, করছে দুর্ব্যবহার৷ এরই মধ্যে কয়েক'শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

তিনি বলেন, ‘‘নয়াপল্টনে অনেক আগেই আমরা সমাবেশ ডেকেছি৷ দ্বিধাহীন চিত্তে বলছি যে এই সমাবেশ হবে৷ এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার৷ সারাদেশে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে সরকার গণতন্ত্র ও জনগণের সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে৷ একতরফা কেউ টিকে থাকতে পারেনি৷ এ সরকারও পারবে না৷'' তাই সমঝোতার পথে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘‘যদি না আসেন তবে আপনি গণতন্ত্রের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবেন৷''

ব্রিফিংয়ের পরই বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন৷ বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের নেতৃত্বে চার সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল শুক্রবারের সমাবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন৷ জবাবে পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা হবে না এমনটি আশ্বস্ত হলে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে৷

বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটকে বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, এটি শান্তিপূর্ণভাবে হলে পরের দিনের সমাবেশের বিষয়টিও বিবেচনা করবে পুলিশ৷ বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ঐ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন৷ সমাবেশটি জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে৷


বিএনপির
প্রতিনিধি দলটি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর, পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন৷ পরে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, শুক্রবার বেলা দু'টোয় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে৷ ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি এখনও দেয়া হয়নি৷ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষা ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি৷ এর আগে বিএনপি ২৫শে অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ ও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনুমতি পায়নি৷ তাই আবারো তারা অনুমতি চেয়েছে৷

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে৷ তারা বিএনপির অযৌক্তিক সব কর্মসূচি প্রতিহত করবে৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন৷ এর মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর উদ্বেগ ও উত্‍কণ্ঠার অবসান ঘটিয়েছিলেন৷ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাঁচদিন পর বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্দলীয় সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অবাস্তব ও অসাংবিধানিক৷

বিরোধীদলীয় নেত্রীর ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ক্ষমা করার আপনি কে? আপনার কাছে কে ক্ষমা চেয়েছে? তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি ২৫শে অক্টোবর মধ্যযুগীয় কায়দায় দা-কুড়াল দিয়ে সন্ত্রাসী তত্‍পরতা চালান তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক অভিযোগ করে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিএনপি রাজধানীতে কিলার ও সন্ত্রাসী ঢুকাচ্ছে৷ তিনি নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো বিরোধী দলের নৈরাজ্যকে রুখতে আহ্বান জানান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়