1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বিএনপির ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে না

‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বিতর্কের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হলো বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট৷ শুক্রবার পর্যন্ত ঐ সাইটে প্রবেশ করা গেলেও এখন যাচ্ছে না৷ তবে বিএনপির দাবি, কারিগরি ত্রুটির কারণে সাইটটি দেখা যাচ্ছে না৷

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার আগে তারেক রহমানের কণ্ঠে জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করা হয়৷ গত মঙ্গলবার প্রথম দাবিটি করেন জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান৷

এর একদিন পর তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও একই দাবি করেন৷ বিএনপির অনেক নেতা এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেয়ারও চেষ্টা করেন৷ কিন্তু তারা যখন এই দাবি করছেন তখনও বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেখা যায় জিয়াউর রহমান সপ্তম রাষ্ট্রপতি?

এ নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে ঝড় উঠে৷ এর একদিন পরই বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়া হয়৷ শুক্রবারও ওয়েবসাইটটি দেখা গেছে৷

Screenshot BNP Partei Bangladesch

বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে শুক্রবার এই স্ক্রিনশটটি নেয়া হয়

কিন্তু শনিবার থেকে আর সেটা দেখা যাচ্ছে না৷ বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিতর্ক এড়াতে সাইটটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে৷ তবে তাদের অফিসিয়াল ভাষ্য, কারিগরি ত্রুটির কারণে সাইটটি দেখা যাচ্ছে না৷ ঠিক করার কাজ চলছে, শেষ হলে আবার দেখা যাবে৷ এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি তাদের৷

গত মঙ্গলবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দাবি করেন, তাঁর পিতা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ‘প্রথম' রাষ্ট্রপতি ও ‘স্বাধীনতার ঘোষক'৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এ দাবির সমালোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর স্বামীই ছিলেন দেশের ‘প্রথম' রাষ্ট্রপতি৷

ওই দিনও বিএনপির ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা গেছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল৷''

একইদিন সন্ধ্যায় স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা (বিএনপি নেতারা) এখন ফর্মুলা পাল্টেছেন৷ এতোদিন তাঁরা বলেছেন, জিয়া স্বাধীনতার ‘ঘোষক'; এখন বলছেন, ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি'৷ স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷

আর শনিবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ৷ সুতরাং, তাঁদের এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহী, সংবিধান পরিপন্থি ও ষড়যন্ত্রমূলক৷ এজন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেফতার করা প্রয়োজন৷''

এর একদিন আগে শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে ‘মিথ্যার উপর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্মাণ' করতে চাইছে৷

জিয়াউর রহমান ‘সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে কখনোই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিল না' মন্তব্য করে জয় বলেছেন, খালেদা জিয়ার পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত৷

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এই দাবি থেকে এখনো সরে আসেনি বিএনপি৷ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া৷ সেখানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বিএনপিপন্থি অংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি' বলে উল্লেখ করেন৷ এসময় মঞ্চে উপস্থিত খালেদা জিয়া মাথা নেড়ে তাঁর এই বক্তব্যে সায় দেন৷

ওই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বিরোধীদল নেতা রওশন এরশাদকে সময় থাকতে পদত্যাগ করে নিজেদের সম্মান বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছেন৷ খালেদা জিয়া রওশন এরশাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধীদল নেতা বলে যিনি নিজের পরিচয় দেন, তিনি বলেছেন, চাপের মুখে পড়ে নির্বাচনে গেছি৷ চাপতো আমাদেরও ছিল! আমরাতো নির্বাচনে যাইনি! জনগণের কথা ভেবেছি৷ তাহলে কী চাপে গেছেন? তিনি এসময় রওশন এরশাদের সমালোচনা করে বলেন, নিশ্চয়ই কোনো অপকর্ম আছে৷ তার জন্য ব্যবস্থাও নিশ্চয়ই হবে ইনশাল্লাহ৷ এখনও সময় আছে, যেহেতু বলছেন, নির্বাচন করবেন না৷ তাই, অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিজেদের অবশিষ্ট সম্মান বাঁচান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়