1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাড়িওয়ালাদের ‘অর্থনৈতিক নির্যাতন’ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

বাড়িওয়ালাদের ‘অর্থনৈতিক নির্যাতনের’ বিরুদ্ধে এবার মাঠে নামছেন ভাড়াটিয়ারা৷ তাদের সংগঠন ‘ভাড়াটিয়া পরিষদ’ শুক্রবার ঢাকায় মানববন্ধন করেছে৷ ১৯৯১ সালে প্রণীত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বাস্তবায়ন দাবি করেছে৷

মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বলেন, ‘‘ঢাকা শহরের দেড় কোটি মানুষের মধ্যে ৯৫ ভাগই ভাড়াটিয়া৷ কিন্তু সরকারের আবাসন খাত নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকায় ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা বছরে দু-তিনবার ভাড়া বাড়ান৷ এমনকি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম সামান্য বাড়লেও বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করেন৷'' তিনি অবিলম্বে বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত সব অনিয়ম দূর করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আহ্বান জানান৷

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফাতেমা বলেন, ‘‘অনেক ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাদের কাছে জিম্মি৷ তারা না পারে সেখান থেকে সরে যেতে, না পারে থাকতে৷ এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কিছু কুচক্রী বাড়িওয়ালা৷ আমরা এর প্রতিবাদ জানাই৷ সরকারকে বলব, অবিলম্বে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ এর বাস্তবায়ন ও সংস্কার করতে৷''

এদিকে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যাব এর এক হিসেবে দেখা যায়, গত ২২ বছরে ঢাকায় বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৩২৫ ভাগ৷ তাদের তথ্যমতে, রাজধানীর ৮৩ শতাংশ বাসিন্দাই ভাড়া বাড়িতে থাকেন৷ ঢাকায় বর্তমানে দেড় কোটি মানুষ বাস করছে৷ এরমধ্যে ১ কোটি ২৬ লাখ ভাড়াটিয়া আর মাত্র ২৪ লাখ মানুষের নিজের বাড়ি আছে৷ ভাড়াটিয়ারা আয়ের ৬০ ভাগ ব্যয় করে বাড়ি ভাড়ায়৷

১৯৬৩ সালে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি অধ্যাদেশ জারি হয়৷ এর অধীনে ১৯৬৪ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তা কার্যকর ছিল৷ ওই সময় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করা হয় তিন বছরের জন্য এবং ১৯৯১ সালে বর্তমানে প্রচলিত বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনটি জারি করা হয়৷ ১৯৯১ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী মহানগরীকে ১০টি রাজস্ব অঞ্চলে ভাগ করে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন৷

প্রধান সড়কের পাশে, গলির তিনশ' ফুটের মধ্যে এবং গলির তিনশ' ফুটের বাইরের ভাড়া আলাদা করা হয়৷ এই তিন ক্যাটাগরিকে আবার আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প – এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়৷ এছাড়া বাড়ির হোল্ডিং নম্বর, নির্মাণের সময়, নির্মাণশৈলী, অবস্থানের শর্তের উপর ভিত্তি করে ভাড়ার তালিকাও নির্ধারণ করা হয়৷ কিন্তু এই নিয়ম কেউ মানছে না৷ নতুন বছরের শুরুতে এবং ভাড়াটিয়া পরিবর্তন হলেই বাড়তি ভাড়ার চাপ আসে ভাড়াটিয়ার ঘাড়ে৷ সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু বাড়ি ভাড়ার কর নেয়৷ ভাড়ার তালিকা ওয়েবসাইটে দেয়া হলেও তা মেনে চলতে বাধ্য করার মতো আইন নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন