1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বাসস্থান বিপন্ন বনমানুষের, মানুষেরও

উগান্ডার অরণ্য আর গহীন নেই, সেখানকার আদিবাসিন্দা বনমানুষদেরও বিশেষ পালানোর জায়গা নেই৷ দেশে শান্তি ফিরেছে বটে, কিন্তু জঙ্গল কাটা চলেছে৷ তাই মানুষ আর শিম্পাঞ্জির সহাবস্থানের নতুন রাস্তা খোঁজা হচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 04:30

দাও ফিরে সে অরণ্য...

উত্তর উগান্ডায় বহু দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চলার পর আবার শান্তি ফিরেছে৷ যেটুকু রেইনফরেস্ট বা ক্রান্তীয় অরণ্য বাকি আছে, সেখানে থাকে শিম্পাঞ্জি, অর্থাৎ বনমানুষরা৷ কিন্তু তাদের বাসস্থান বিপন্ন৷ বহু জায়গায় বন কেটে মাঠ ও চাষের জমি তৈরি হয়েছে৷ এর কারণ, মানুষজনের এখনও কৃষি ছাড়া জীবনধারণের অন্য কোনো উপায় নেই৷

কৃষিজীবী জানালেন, ‘‘আমাদের সব গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে, কেননা বুনো শিম্পাঞ্জি, রেডটেইলড মাংকি আর বেবুনদের নিয়ে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ ওরা আখের খেত নষ্ট করে৷ আমার এত বেশি ক্ষতি হচ্ছিল যে, চারপাশের জঙ্গল না কেটে কোনো উপায় ছিল না৷ কেননা ওখানেই ওরা ঘুমতো আর বাসা বাঁধত৷''

জঙ্গলের তিন শতাংশ প্রতিবছর কাটা হচ্ছে – এভাবে চললে উগান্ডার গোরিলা, শিম্পাঞ্জি বা অন্যান্য প্রাইমেটরা আর কতদিন থাকবে? জুলিয়াস কোয়ামিয়া বেশ কিছুদিন ধরে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন৷ আগে তিনি নিজেই শিম্পাঞ্জি শিকার করতেন, কেননা ওরা তাঁর খেত নষ্ট করত৷ আজ তিনি শিম্পাঞ্জি স্যাংকচুয়ারি অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ট্রাস্ট্রের সঙ্গে কাজ করেন৷ সবাই মিলে এমন একটি চাষের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যা থেকে শিম্পাঞ্জি ও মানুষ, দু'পক্ষই উপকৃত হবে৷

শিম্পাঞ্জি আর মানুষ

জুলিয়াস বলছিলেন, ‘‘এগুলো হলো প্যাশন ফ্রুট৷ এই ফলের চাষ করে ভালো মুনাফা করা যায়৷ কাজেই আমরা চাষিদের ফলের চাষ করার উৎসাহ দিই, যা-তে তাদের রোজগার বাড়ে৷'' প্যাশন ফ্রুট বছরে দু'বার হয়, কাজেই চাষিদের এ থেকে ভালো রোজগার হয়, আবার শিম্পাঞ্জিদের জন্যেও যথেষ্ট বাকি থাকে৷ এছাড়া জুলিয়াস কোয়ামিয়া রাফিয়া পাম লাগিয়ে থাকেন, যা তামাক শিল্পে কাজে লাগে৷ শিম্পাঞ্জি মায়েরা এই খেজুর গাছের মতো দেখতে গাছগুলোর ফাঁকে তাদের বাচ্চাদের লুকিয়ে রাখতে ভালোবাসে, যাতে হিংস্র জন্তুরা তাদের সন্ধান না পায়৷

যেটুকু জঙ্গল বাকি আছে, সেখানে শিম্পাঞ্জিরা আজও শান্তিতে থাকতে পারে – তবে বিজ্ঞানীরা আসেন মুক্ত প্রকৃতিতে শিম্পাঞ্জিদের আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে৷ চান্দিয়া বস্কো যেমন নিয়মিত আসেন শিম্পাঞ্জিদের দেখতে৷ বুডোঙ্গোর জঙ্গলে আপাতত একটি মদ্দা শিম্পাঞ্জি গোল বাঁধিয়েছে, কেননা সে পালের গোদা হতে চায়৷ ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট চান্দিয়া বস্কো জানালেন, ‘‘ওর নাম হলো কাটো৷ বয়স ২৬ বছরের কাছাকাছি৷ দঙ্গলের মধ্যে আধিপত্য পরম্পরায় ওর স্থান হলো চার কিংবা পাঁচ৷''

কাটো দুপুরবেলাটা একা কাটাতে ভালোবাসে৷ সম্মুখসমরে তার বিশেষ আগ্রহ নেই৷ বরং সে মিত্র খোঁজার চেষ্টা করে৷ দলে কাটোর কিছু বন্ধুবান্ধবও আছে৷ চান্দিয়া বস্কো জানালেন, ‘‘দলের মধ্যে আধিপত্যের জন্য লড়াইয়ে নানা ধরনের প্রক্রিয়া চলে৷ শুধু গায়ের জোর কিংবা বুদ্ধি থাকলে চলে না, দু'টোই থাকা চাই: বুদ্ধি এবং গায়ের জোর৷''

কাটো দলের কাছাকাছি এলেই হইচই শুরু হয়ে যায়৷ বর্তমানে যে পালের গোদা, বিশেষ করে তার নজর কাটোর উপর৷ চান্দিয়া বস্কো বললেন, ‘‘ওরা প্রায় মানুষের মতোই আচরণ করে৷ আমার কাছে সেটা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়, আমি ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি৷ হ্যাঁ, আমিও একদিন ওদের মতো বড় নেতা হতে চাই৷''

তাহলে বস্কো নাকি শিম্পাঞ্জি আর তাদের বুনো ভায়রাভাইদের জন্যও রাজনীতি করবেন৷

কার্ল গিয়ার্সটর্ফার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়