1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাসচালক মরেন হরতালের আগুনে

জামায়াতের ডাকা হরতালের সময় আগুন লাগিয়ে দেয়া হয় তাঁদের বাহনে৷ সে আগুনেই শেষ বাসচালক নজরুল ইসলামসহ তিনজনের জীবন৷ ব্লগওয়াচে থাকছে খেটে খাওয়া, নিরীহ মানুষদের নির্বিচারে মারা যাওয়া প্রসঙ্গে ব্লগারদের ভাবনা৷

গণমাধ্যমে একটা খবর সবারই নজর কেড়েছে৷ যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের সময় পিকেটারদের দেয়া আগুনে দগ্ধ তিন জন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছেন৷ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরের বাসচালক মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লার ট্রাকচালক সেকান্দর ব্যাপারী৷ একই হাসপাতালে একইভাবে মারা যান ট্রাকচালক শামসুল হক৷ তিনজনের মৃত্যু নিয়েই খবর প্রকাশিত হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ৷ এমন মৃত্যুতে অনেকের মতো ব্লগার এ হোসাইন মিন্টুও শোকাহত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ৷ আমারব্লগে ‘এটাই কি আমার সেই স্বপ্নের দেশ?' শিরোনামের লেখাটিতে লিখেছেন, ‘‘কোন দেশে যে বাস করছি, তা এখন নির্ণয় করাই প্রায় মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে! এটাই কি আমার সেই স্বপ্নের দেশ, যে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে গিয়েই শহীদ হয়েছিলেন আমার বাবা, অকাতরে সম্ভ্রম বিলিয়ে দিয়েছিলেন আমার মা, বোন? এমন স্বাধীনতার কী মূল্য আছে, যেই স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, যে স্বাধীনতা ৪২ বছরেও চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারে না, নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না? যে স্বাধীনতা চোর ছ্যাঁচড়দের পক্ষে সাফাই গায়! দুর্নীতিবাজ লুটেরা ডাকাত, স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র হয় আর ভালো মানুষের গলায় দরিদ্রতার ফাঁসি!''

মো: ওবায়দুল ইসলাম একই বিষয়ে লিখেছেন কবিতা৷ কবিতার নাম ‘কষ্টটা আমিই জানি

কষ্টের কথাগুলো তিনি লিখেছেন এভাবে,

‘‘কষ্টটা আমিই জানি

সুখের লাগি আগুন দেই পাড়ি

পুড়েছে দেহ, পুড়েছে দুপাণি

বউয়ের পরনে শত রঞ্জিত শাড়ি

সে কি জানে কষ্টটা আমিই জানি৷

আমারি শ্রমে দুঃখ শেষে আলো আসে

অথচ আলোহীন আমার দেহখানি,

সবাই আমাকেই কেটে খায় শেষে

ওরা কি জানে, কষ্টটা আমি জানি৷''

Activists of Hefajat-e Islam clash with police in front of the national mosque in Dhaka May 5, 2013. At least one person was killed, more than one hundred injured, including journalists, and thirteen vehicles torched as activists from Hefajat-e Islam and Islami Chhatra Shibir clashed with police at the city's Paltan area. According to local media, Hefajat activists demanded for the introduction of blasphemy laws and a 13-point agenda, while blocking major roads in Dhaka. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: POLITICS CIVIL UNREST RELIGION)

ব্লগার এ হোসাইন মিন্টুও শোকাহত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ হয়ে লিখেছেন, ‘‘কোন দেশে যে বাস করছি, তা এখন নির্ণয় করাই প্রায় মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে!

আরেক রিক্সাচালককে নিয়ে একটি খবর ছাপা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো-র অনলাইন সংস্করণে ৷ এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো লেখা এখনো চোখে পড়েনি৷ লেখালেখি হয়তো শুরু হবে৷ তবে বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর বিরল দৃষ্টান্ত রাখা রিক্সাচালক রিপন সরদার তারপরও সুবিচার পাবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়৷ বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের হরতালে রুটিরুজির জন্য পথে নামায় পিকেটার সন্দেহে বিশ্বজিৎকে দিনেদুপুরে কুপিয়ে মেরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা৷ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বিশ্বজিৎকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর ঢাকা শহরে রিক্সা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল রিপন সরদারের জন্য৷ সেখান থেকে আবার ঢাকায় ফিরলে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার কারণে পুলিশের হাতে মার খেতে হয় তাঁকে৷ প্রথম আলো-র খবর অনুযায়ী এ অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে, মন্দিরে জামায়াত-শিবির যেসব হামলা চালিয়েছে সেসবের কোনো বিচার শুরুর খবর অবশ্য এখনো গণমাধ্যমে আসেনি৷ ‘‘যে স্বাধীনতা ৪২ বছরেও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, যে স্বাধীনতা চোর ছ্যাঁচড়দের পক্ষে সাফাই গায়, দুর্নীতিবাজ লুটেরা ডাকাত, স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র হয় আর ভালো মানুষের গলায় দরিদ্রতার ফাঁসি...''- এ হোসাইন মিন্টুর এসব মন্তব্যে আবেগ আছে নিশ্চয়ই, তবে যুক্তিও কি নেই?

সংকলন : আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা : জাহিদুল হক

নির্বাচিত প্রতিবেদন