1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বালোতেল্লিকে কথা শুনতে হলো কোচের কাছ থেকে

নাপোলির বিরুদ্ধে খেলায় রেফারিকে অপমান করার দায়ে তিনটি ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড হয়েছেন বালোতেল্লি৷ মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি দৃশ্যত চটেছেন খুব৷ সাংবাদিকদের সামনেই বলে ফেলেছেন, ‘ও তো আর খোকা নয়৷'

ইটালির জাতীয় দলের যে খেলোয়াড়টির নাম – এবং বিভিন্ন সাজ ও ভঙ্গিমা – বিশ্বের সব ফুটবলমোদী জানেন ও চেনেন, তিনি হলেন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় মারিও বালোতেল্লি৷ বাবা-মা এসেছিলেন ঘানা থেকে৷ পরে বালোতেল্লি পরিবার তাঁকে দত্তক নেন, এই সব কাহিনি প্রচলিত আছে৷

আসল কাহিনি হল: বালোতেল্লির জন্ম ১৯৯০ সালে, ইটালিতেই৷ তিন বছর বয়সে তাঁকে বালোতেল্লি পরিবারের হাতে দেওয়া হয়, মানুষ করার জন্য৷ বালোতেল্লি পরিবার কিন্তু কখনোই মারিও-কে দত্তক নেননি, কাজেই মারিও তাঁর ১৮ বছর বয়স অবধি ইটালীয় নাগরিকত্ব পাননি৷

খ্যাতির কারণ

যাই হোক, বালোতেল্লি আজ ইটালি তথা বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত তিনটি কারণে: প্রথমত, ফরোয়ার্ড হিসেবে তাঁর আক্রমণাত্মক খেলা; দ্বিতীয়ত, গোল করার পর জার্সি খুলে ফেলে বীর মল্ল সুলভ কষ্টিপাথরে কাটা শরীরটি প্রদর্শন করার স্বভাব (যে জন্য রেফারি হলুদ কার্ড দেখাতে পারেন!); তৃতীয়ত, স্টেডিয়ামে জাতিবাদী মন্তব্যের লক্ষ্য হওয়া এবং সেই অনুপাতে বালোতেল্লি-সুলভ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করা৷

epa03286769 Italy's Mario Balotelli (R) gets a yellow card for taking off his shirt after scoring the 2-0 by referee Stephane Lannoy of France during the semi final match of the UEFA EURO 2012 between Germany and Italy in Warsaw, Poland, 28 June 2012. EPA/BARTLOMIEJ ZBOROWSKI UEFA Terms and Conditions apply http://www.epa.eu/downloads/UEFA-EURO2012-TCS.pdf +++(c) dpa - Bildfunk+++

রেফারির উপর হম্বিতম্বি করার জন্য বালোতেল্লিকে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখতে হয়

ধীরে ধীরে আরো একটি বৈশিষ্ট্য তার সঙ্গে জুটছে: সেটি হল, রেফারিদের সঙ্গে বিরোধ৷ বিপক্ষ দলের প্লেয়াররা নাকি কারণে-অকারণে বালোতেল্লিকে ফাউল করে থাকে এবং রেফারিরা তা দেখেও দেখেন না – এই হল বালোতেল্লি-র উষ্মার কাল্পনিক কিংবা বাস্তব কারণ৷ রেফারিরা দেখেন না মানে বালোতেল্লি ফ্রি-কিকটা পান না৷

মাথা গরম

গত রবিবার নাপোলির বিরুদ্ধে খেলায় ঠিক সেই ধরনেরই একটা ঘটনা ঘটেছিল, তবে একটু অন্যভাবে৷ খেলায় মিলান হারে ২-১ গোলে; সেই সঙ্গে বালোতেল্লি একটি পেনাল্টি মিস করেন৷ চূড়ান্ত হুইসেলের পর রেফারির উপর হম্বিতম্বি করার জন্য বালোতেল্লিকে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখতে হয়৷

দু'বার হলুদ মানে একবার লাল৷ তাই বালোতেল্লি এমনিতেই পরের ম্যাচটার জন্য সাসপেন্ড হতেন৷ সোমবার আবার তাঁকে আরো দু'টি ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করা হয়৷ অর্থাৎ বালোতেল্লি বোলোনিয়া, সাম্পদোরিয়া এবং ইউভেন্তুসের বিরুদ্ধে খেলাগুলোতে মাঠে নামতে পারবেন না৷ এমনকি অক্টোবরে ইটালির পরের দু'টো বিশ্বকাপ থেকেও তাঁর বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে, কেননা ইটালির কোচ সোজারে প্রান্দেল্লি শৃঙ্খলা পছন্দ করেন৷

আদর্শ মারিও

ওদিকে মিলানের কোচ মাসমিলিয়ানো আলেগ্রি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘মারিও তো আর খোকা নয়, ওর ২৩ বছর বয়স এবং ওর নিজেকে বদলানো দরকার৷ ও একজন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন কিন্তু ওর রেফারিদের প্রতি মনোভাব বদলানো প্রয়োজন৷ একজন চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য সঠিক আচরণ করা দরকার কেননা তোমাকে যারা দেখছে, তাদের কাছে তুমি আদর্শ৷''

আলেগ্রি যোগ করেন যে, বালোতেল্লির ঐ মনোভাবের কারণেই রেফারিদের তাঁকে ফ্রি-কিক দিতে আপত্তি৷ ‘‘মারিও-র উচিত মারিও-কে বাঁচাতে রেফারিদের সাহায্য করা৷ রেফারিরা ওকে অরক্ষিত অবস্থায় রেখেছেন কেননা তারা ওর নেতিবাচক মনোভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন৷''

এ সবই মিষ্টি করে বলা: রেফারিদের চটিও না, নয়তো ফাউল পাবে না৷ যে কথাটা মারিও বালোতেল্লির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷

এসি/এসবি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়