1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বার্লিনে শরণার্থী নিহত, ড্রেসডেনে মসজিদে পাহারা

বার্লিনে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক পাকিস্তানিকে হত্যা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক ইরাকি নিহত হয়েছেন৷ জার্মানির আরেক শহর ড্রেসডেনে বোমা বিস্ফোরণের পর মুসলমানদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ৷

বার্লিনের এক শরণার্থী শিবির থেকে এক পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ৷ ২৭ বছর বয়সি সেই পাকিস্তানির বিরুদ্ধে এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে৷ অভিযুক্তকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ২৯ বছর বয়সি এক ইরাকি ছুরি হাতে তার ওপর হামলা চালাতে যান৷ সঙ্গে সঙ্গেই গুলি চালায় পুলিশ৷ গুলিতে আহত ঐ ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে মারা যান৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুটি নিহত সেই ব্যক্তির মেয়ে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পাকিস্তানির ওপর হামলা চালানোর সময় ইরাক থেকে আসা শরণার্থী চিৎকার করে বলছিলেন, ‘‘এর পরও তুমি রেহাই পেয়ে যেতে পারো না৷''

পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়েটিকে এখন মনোচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷ অন্যদিকে অভিযুক্ত পাকিস্তানির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্তের প্রস্তুতি চলছে৷

ওদিকে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ড্রেসডেনে সোমবার সন্ধ্যায় দু'টি বোমা বিস্ফোরিত হয়৷ বোমা দু'টির একটি বিস্ফোরিত হয় একটি মসজিদে এবং অন্যটি একটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে৷ মসজিদটির ইমাম সপরিবারে ঐ মসজিদেই থাকেন৷ তবে দু'টি হামলাতেই কেউ হতাহত হয়নি৷

পুলিশ মনে করছে, জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ দিবস উদযাপনের সঙ্গে এ সব হামলার কোনো যোযাযোগ থাকতে পারে৷ গত কয়েক বছরে ড্রেসডেন দক্ষিণপন্থিদের শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে৷ মুসলিম বিরোধী সংগঠন পেগিডার সেখানে খুবই দাপট৷ ইউরোপে শরণার্থী সংকট শুরুর পর থেকে ওই শহরে বেশ কয়েকবার মুসলিমবিরোধী সমাবেশ করেছে পেগিডা৷

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে শরণার্থীবিরোধী দক্ষিণপন্থি দল এএফডি, অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দলেরও জনপ্রিয়তা বেড়েছে৷ দলটি মনে করে, ইসলাম ধর্মের মূল চেতনা জার্মানির গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, অথচ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল শরণার্থীদের প্রশ্নে অতি উদার নীতি অবলম্বন করায় জার্মানিতে মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে৷

তবে এএফডি নেতা ফ্রাউকে পেট্রি ড্রেসডেনে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘‘যে ভবনে মানুষ প্রার্থনা করে, সেই ভবন মসজিদ, গির্জা বা সিনাগগ যা-ই হোক না কেন, সেখানে হামলা চালানো বর্বরোচিত কাজ৷''

সোমবার সন্ধ্যায় দু'টি বোমা বিস্ফোরিত হলেও ড্রেসডেনে তারপর থেকে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি৷ পুলিশ জানিয়েছে, শহরের তিনটি মসজিদ, মুসলমানদের একটি সম্মেলন কেন্দ্র এবং একটি প্রার্থনা কেন্দ্রে পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)   

নির্বাচিত প্রতিবেদন